Sunday, October 19, 2025

আল-হুজ্জাত মাসিক পত্রিকা_ (অনলাইন সংস্করণ)_ রবিউস সানি সংখ্যা

আরবি: রবিউস সানি, ১৪৪৭ হিজরী
ইংরেজি: অক্টোবর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________

             সম্পাদক

সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী

             প্রচ্ছদ ভাবনা:

অনলাইন সম্পাদনা ও তথ্য সংযোজন:           

              প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী 
বকচরা, মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা

__________________________________________

                             সূচিপত্র 
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖


শেখ মুর্তযা আনছারী (রহঃ)- অনুবাদ

ইমাম মেহদী আঃ এর ইমামত  (ঈদে জাহরা)

ইয়াতীমে দো আলম ও আমাদের অন্তরের প্রতীক্ষা

ইমাম মাহদী আঃ এর শাসন:এক আধ্যাত্মিক বিস্ময় 
          ✍️ রাজা আলী 

 মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতীক্ষা: সর্বোত্তম ইবাদত




📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
             

           আখেরী নবুয়াত

                মানবতা
                      ও
            নোবেল তুমি কার?
                ✍️ রাজা আলী 

             নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা


__________________________________________
__________________________________________

                        সম্পাদকীয়

                       بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ  

রবিউস সানী—রূহানিয়াত ও আশার মাস। সফরের শোক শেষে এই মাস আমাদের ডাকে নতুন আলোর পথে, যেখানে প্রতীক্ষা হয়ে ওঠে ইমানের প্রাণ, আর ইমামতের স্মৃতি জাগায় আত্মার জাগরণ।

এই সংখ্যার প্রতিটি রচনায় প্রতিফলিত হয়েছে সেই আলো। শেখ মূর্তজা আনছারি (রহঃ)-এর জ্ঞান ও ত্যাগ আমাদের শেখায় ঈমানের গভীরতা। “ঈদে জাহেরা”-য় ফুটে উঠেছে মুক্তির আনন্দ, “ইয়াতিমে দো আলম ও আমাদের অন্তরের প্রতীক্ষা”-য় জেগে উঠেছে অন্তরের বিপ্লব, আর “মানুষ শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য ও ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর প্রতীক্ষা : সর্বোচ্চ এবাদত” আমাদের আহ্বান জানায় কর্মমুখর অপেক্ষায়।

কবিতার পাতায় “আখেরি নবুয়াত”, “মানবতা” ও “নি:শব্দ প্রতিজ্ঞা”—এই তিনটি কবিতা যেন হৃদয়ের প্রার্থনা, যেখানে শব্দই হয়ে ওঠে দোয়া।

আসুন, এই রবিউস সানীতে আমরা নবায়ন করি আমাদের প্রতিজ্ঞা—
ইমামের পথে থাকুক আমাদের কলম, আমল ও ভালোবাসা।
                 
                              ওয়াস সালাম 
                                সম্পাদক 
                        আল-হুজ্জাত পত্রিকা


__________________________________________------------------------------------------------

📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖


শেখ মুর্তযা আনছারী (রহঃ)

ইসলামী জগতের এক বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও উচ্চ পর্যায়ের ফক্বীহ্ হলেন শেখ মুর্তযা আনছারী (রহঃ) (১২১৪-১২৮১ হিজ্বরী)। তাঁর শিক্ষা ও আমলের আলো ইসলামী দেশগুলির উপর পড়েছিল। কিছু ওলামাদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ফক্বীহ ও মুজতাহীদদের মধ্যে শেষতম। তাঁর বংশ নবী (সাঃ)-এর বিখ্যাত সাহাবী জনাবে জাবীর ইবনে আবদুল্লাহ্ আনছারী (রহঃ) থেকে ছিল। আল্লামা মোহাদ্দিছ নুরী (রহঃ) নিজের পুস্তক 'মুস্তাদরিকে'র শেষে তাঁর বিষয়ে বলেছেনঃ 'আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন জনাবে জাবীরের উপর খুবই এহসান ও দয়া করেছেন। আর তাঁর নসলে এমন একজন ব্যক্তিকে সৃষ্টি করেছেন যে নিজের মেধা, শিক্ষা, গবেষণা ও এবাদাত দ্বারা দ্বীন ও মযহাবের জন্য শ্রেষ্ঠ খেদমতটি করেছে। তিনি নিজের যুগে উম্মতদের জন্য একজন শ্রেষ্ঠ মার্জা-মুজতাহিদ, নিজের ইমাম (আঃ)-এর সাহায্যকারী, আশিক ও অপেক্ষাকারীদের মধ্যে ছিলেন। আর নিজের চিন্তা-চেতনা ইমাম মাহদী (আঃ)-এর পবিত্র ব্যক্তিত্বের উপর থেকে সরাতেন না। তাঁর একজন ছাত্র বর্ণনা করেছে যে, একবার মধ্যরাত্রির পরে আমি আমার বাড়ি থেকে কারবালার দিকে বার হই। পথে কাঁদা এবং চারি দিকে অন্ধকার হওয়ার জন্য সঙ্গে একটি চেরাগ (আলো) নিয়ে নিই। কিছু দূর গিয়ে আমি একজন মানুষকে দেখতে পাই। কিছুটা কাছে গিয়ে আমি তাঁকে চিনতে পারি। তিনি ছিলেন আমার শিক্ষক শেখ আনছারী (রহঃ)। তাঁকে দেখে আমি খুব-ই চিন্তিত হলাম। ভাবতে থাকলাম চোখে কম দেখতে পাওয়া এই মানুষটি এত রাতে কাদা রাস্তা এবং অন্ধকার পথে কোথায় যাচ্ছে? একবার মনে হলো হয়ত বা তার ওপর কারো নজর আছে। তাই আমিও তাঁর পিছনে পিছনে চলতে থাকলাম। শেখ আনছারী (রহঃ) চলতে চলতে শেষ পর্যন্ত একটি ঘরের কাছে এসে থেমে যান। আর ঐ ঘরের সামনে দাঁড়িয়েই খুব আন্তরিকতার সঙ্গে কেঁদে কেঁদে ফরিয়াদ করলেন ও যিয়ারাতে 'জামেয়া'হ্' পড়লেন। তার পরে ঐ ঘরের মধ্যে প্রবেশ করলেন। এর পরে আমি আর কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না; তবে শেখের কথা আমি শুনতে পাচ্ছিলাম। তিনি যেন কারো সাথে কথা বলছিলেন। ঘন্টা খানেক পরে আমি আমার গন্তব্য স্থানের (রওযার দিকে) উদ্দেশ্যে চলে গেলাম। এর কিছু দিন পরে শেখের কাছে যাই। আর ঐ রাতের ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি। কিন্তু তিনি কিছুই বলতে চাচ্ছিলেন না। আমার বার বার অনুরোধের কারণে অবশেষে বললেনঃ 'কখনও কখনও ইমামে যামানা (আঃ)-এর দরবারে সাক্ষাৎ করার অনুমতি অর্জন করার জন্য ঐ ঘরের নিকটে (ঐ ঘর তুমি কখনো দেখতে পাবেনা) যাই; আর যিয়ারাতে 'জামেআ'হ্' পড়ি। যখন অনুমতি পেয়ে যাই, তখন তার পবিত্র দরবারে গিয়ে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য অর্জন করি। আর প্রয়োজনীয় মাসলা-মাসায়েল বিষয়ে ইমাম (আঃ)-এর কাছে প্রশ্ন করি এবং উত্তর জেনে নিই। তার পরে শেখ আমাকে ওয়াদা করতে বলে যে, তাঁর জীবিত থাকা কালে আমি যেন এই ঘটনাটি কারও সঙ্গে না বলি। এরপর তিনি বলেনঃ অবশ্যই ইমাম (আঃ) নিজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। আর এই সমস্ত ব্যক্তিগণও ইমাম মাহদী (আঃ)-এর আদেশ পালন করতে থাকে; আর তাঁকে সাহায্য করতে থাকে। আর এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, শুধুমাত্র নিজের প্রতিনিধিদের উপর ইমাম (আঃ) দয়া করেন না, বরং যারা আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের সঙ্গে মোহব্বতের সম্পর্ক রাখেন, তাদের প্রতিও দয়া করেন। তবে এক্ষেত্রে যদি কোনো বাধা না আসে, অর্থাৎ আল্লাহ্র আদেশ থাকে। আমাদের বিশ্বাস রাখা উচিত, যদি আমরা সাহায্য ও বন্ধুত্বের সমস্ত স্তরগুলি অতিক্রম করতে পারি, তা হলে ইমাম (আঃ)ও আমাদের সাহায্য করা থেকে বিরত থাকবেন না।

বর্তমান অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

[ যিয়ারাতে জামিআ'হ্ খুবই বিশ্বস্ত ও বিখ্যাত একটি যিয়ারাত। এই যিয়ারাতটি আহলেবায়েত (আঃ)-এর মোহব্বতের ভিত্তিতে তাদের নৈকট্য অর্জনের জন্য বেশি মাত্রায় পড়া উচিত।

[ মুজতাহীদরা যখনই দ্বীনি মাসলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন ইমামে যামানা (আঃ) তাঁদেরকে সাহায্য করেন।


_________________________________________
ইমাম মেহদী আঃ এর ইমামত  (ঈদে জাহরা)

ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফত ইসলামের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের খেলাফত হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ইমাম মেহদী আঃ পৃথিবীতে আগমন করবেন এবং দুনিয়ায় শান্তি, ন্যায় এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন। তাঁর খেলাফত বা শাসনকালে পৃথিবীতে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সকল অন্যায় ও অশান্তির অবসান ঘটবে।
ইমামত এ ইমাম মেহদী এর

 হাদীস ও বর্ণনা:
1. ইমাম মুহাম্মদ আল-হাদি (আ.) বলেছেন: "৯ই রবিউল আউয়াল আমাদের সবচেয়ে বড় ঈদ এবং আমাদের অনুসারীদের ঈদ।
2. ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর সেবা করার বিভিন্ন স্তর রয়েছে, তবে আমাদের (আহলে বাইতের) প্রতি ভালোবাসা সর্বোচ্চ স্তর।"
3. ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.)-এর সময়ে, কারবালার ঘটনার পর প্রথমবারের মতো তিনি হাসেন, যখন তিনি জানতে পারেন যে মুকতার সাকাফি কারবালার অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছেন। 

ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফতের মূল দিকসমূহ:
1. খেলাফতের সূচনা: ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফত তখন শুরু হবে যখন পৃথিবীতে শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করবে—মানবতার মধ্যে দুর্নীতি, অশান্তি এবং অন্যায় বেড়ে যাবে। তিনি তার আগমনের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবেন।
2. *ন্যায় প্রতিষ্ঠা*: ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফতের সময় পৃথিবীতে পূর্ণাঙ্গ ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁর শাসনে পৃথিবী থেকে সকল ধরনের দুর্নীতি, অত্যাচার এবং অন্যায় দূর হয়ে যাবে।
3. *শান্তি ও নিরাপত্তা*: ইমাম মেহদী আঃ এর শাসনকালে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। পৃথিবীতে কোন যুদ্ধ বা অশান্তি থাকবে না এবং সমস্ত জাতি একত্রে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে।
4.* ইসলামের পরিপূর্ণ বিজয়*: ইমাম মেহদী আঃ এর শাসনে ইসলাম পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত হবে। মুসলিমরা তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়নীতির দিকে এগিয়ে যাবে।
5. *মুসলিম জাতির ঐক্য*: ইমাম মেহদী আঃ এর নেতৃত্বে মুসলিম জাতি একত্রিত হবে এবং তাদের মধ্যে কোন ধরনের বিভক্তি থাকবে না। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে মুসলিম সমাজ পুনরুজ্জীবিত হবে।
6. *বিশ্বব্যাপী আধ্যাত্মিক উন্নতি*: ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফতের সময় মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটবে। মানুষ নিজেদের আত্মা ও বিশ্বাসের দিকে মনোনিবেশ করবে এবং তাদের আচার-আচরণে ইসলামের মূলনীতিগুলি প্রতিফলিত হবে।
7. *ফিতনা ও বিপর্যয়ের সমাপ্তি*: ইমাম মেহদী আঃ এর আগমনের পর পৃথিবী থেকে সকল ধরনের ফিতনা ও বিপর্যয়ের অবসান হবে। তার শাসনে অশান্তি, যুদ্ধ এবং হিংসা বন্ধ হবে এবং পৃথিবী একটি শান্তিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠবে।
8.* ইসলামিক শাসনব্যবস্থা*: ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফতে ইসলামের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে সকল আইন ও শাসন ইসলামী নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। তাঁর শাসনব্যবস্থায় সমাজে সমান অধিকার, ন্যায় এবং মানবাধিকারের গুরুত্ব দেয়া হবে।

ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফত এবং মুসলিম জাতির ভবিষ্যত:
ইসলামী ঐক্য ও সংহতি: ইমাম মেহদী আঃ মুসলিম উম্মাতকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং ইসলামী বিশ্বের শক্তিশালী পুনর্গঠন করবেন।
বিশ্বের শাসন: ইমাম মেহদী আঃ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে ইসলামী ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন এবং পুরো পৃথিবী ইসলামের আলোকে আলোকিত হবে।
একতা এবং শান্তি: তাঁর খেলাফত থেকে মুসলিম জাতির মধ্যে একতা এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। 
অপেক্ষা: ইমাম মেহদী আঃ এর আগমনের জন্য মুসলিম জাতি সর্বদা অপেক্ষা করে থাকে। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন হাদিস ও ধর্মীয় গ্রন্থে নানা লক্ষণ ও সময়সূচী উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম মেহদী আঃ এর খেলাফত বা শাসনটি মুসলমানদের জন্য এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে ধরা হয়, যা পৃথিবীকে একটি নতুন, শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়পরায়ণ যুগে প্রবাহিত করবে।
 
__________________________________________

ইয়াতীমে দো আলম ও আমাদের অন্তরের প্রতীক্ষা


ভূমিকা

ইতিহাসের কিছু দিন আছে যেগুলো মানবতার বুকে আনন্দের সুর তোলে, আবার কিছু দিন আছে যেগুলো গোটা মহাবিশ্বকে শোকে নিমজ্জিত করে। রবিউল আওয়াল মাস মুসলিম জগতে একদিকে আলোর উৎসব—কারণ এই মাসেই এসেছে রহমাতুল্লিল আলামীন, মহানবী (সা.)। অপরদিকে, এ মাসেই আছে এমন এক দিন, যেদিন আকাশ কেঁদেছিল, ফেরেশতারা শোকে রঙিন হয়েছিল, আর আমাদের প্রিয় ইমামে জামানা (আ.ফা.) হয়ে পড়েছিলেন ইয়াতীমে দো আলম। সেই দিন হলো—৮ই রবিউল আওয়াল।


 ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর শাহাদত

ইমাম হাসান আসকারী (আ.), একাদশতম ইমাম, ২৬০ হিজরির ৮ই রবিউল আওয়ালে (৮৭৩ খ্রিস্টাব্দ) আব্বাসীয় শাসকের ষড়যন্ত্রে শহীদ হন। ইতিহাসকাররা লিখেছেন, তাঁকে বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয় (শেখ মুফীদ, আল-ইরশাদ, খণ্ড ২)। এই শাহাদতের মাধ্যমে কেবল একজন ইমামের জীবনই শেষ হয়নি, বরং গোটা উম্মাহর জন্য শুরু হয়েছিল এক গভীর পরীক্ষা।


 ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর এতিমত্ব

ইমাম আসকারী (আ.)-এর শাহাদতের মুহূর্তে তাঁর অমূল্য সন্তান, ইমাম মাহদী (আ.ফা.), তখন খুবই ছোট। ইতিহাসে বর্ণিত আছে, সেই সময়ে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৫ বছর (শেখ তুসী, আল-গায়বা)। এই বয়সেই তিনি হারালেন পিতাকে। কিন্তু তাঁর এতিমত্ব ছিল কোনো সাধারণ এতিমত্ব নয়।

তিনি হলেন _ইয়াতীমুস সাকলেইন_ —অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাতের এতিম। কারণ তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহর শেষ হুজ্জত, সমগ্র মানবজাতির অভিভাবক। তাঁর পিতার শাহাদতের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হয়ে গেলেন সেই মহান ইমাম, যিনি এখনো গায়বতের পর্দায় আছেন এবং যাঁর প্রতীক্ষায় আমরা প্রহর গুনছি।


 কুরআন ও আহলে বাইতের আলোকে ইমামের শোক
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইমামদের গুরুত্বের কথা বলেছেন: "এবং আমি তাদেরকে করেছিলাম নেতা, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শক হতো।” (সূরা আম্বিয়া ২১:৭৩)
এ আয়াত আমাদের শেখায় যে ইমামরা মানবতার পথপ্রদর্শক। কিন্তু ৮ই রবিউল আওয়ালে যখন ইমাম মাহদী (আ.ফা.) এতিম হলেন, তখন গোটা মানবতা তাদের দৃশ্যমান পথপ্রদর্শককে হারাল। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) এক হাদিসে বলেন: "যে ব্যক্তি আমাদের কায়েম (আ.ফা.)-এর শোকে কাঁদবে, আল্লাহ তার চোখকে জান্নাতের আলোতে ভরিয়ে দেবেন।” (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৫২) অতএব, ৮ই রবিউল আওয়ালের শোক কেবল ইতিহাস নয়, বরং ঈমানের অংশ।


 শোক ও প্রতীক্ষার সেতুবন্ধন
৮ই রবিউল আওয়াল আমাদের শেখায়— আমরা শুধু নবীর জন্মের আনন্দে মেতে উঠব না, আমরা কেবল ইতিহাসের শোক স্মরণ করব না, বরং আমরা বুঝব, আমাদের ইমাম আজও নিঃসঙ্গ। তিনি এখনো অপেক্ষা করছেন আমাদের প্রস্তুতির জন্য। তাঁর সেই প্রতীক্ষার সঙ্গী হওয়াই আমাদের আসল দায়িত্ব।


 আমাদের দায়বদ্ধতা
আজ যখন আমরা ৮ই রবিউল আওয়াল স্মরণ করি, তখন শুধু চোখের জল যথেষ্ট নয়। ইমামের এতিমত্ব আমাদের ওপর কিছু কর্তব্য চাপিয়ে দেয়:

1.ইমামের দুঃখকে নিজের দুঃখ মনে করা।

2.দোয়া করা বিশেষ করে দুয়া নুদবা, যাতে ইমামের অন্তরে আমাদের সঙ্গ অনুভূত হয়।

3.ইমামের আগমনের জন্য সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

4.তাঁর নাম ও স্মৃতি হৃদয়ে জাগ্রত রাখা।


 উপসংহার
৮ই রবিউল আওয়াল শুধু একটি শোকের দিন নয়, এটি একটি আহ্বান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা সবাই এতিম, যতক্ষণ না ইমাম মাহদী (আ.ফা.) আমাদের মাঝে ফিরে আসছেন।
__________________________________________

ইমাম মাহদী আঃ এর শাসন:এক আধ্যাত্মিক বিস্ময় 
        ✍️ রাজা আলী

একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবী বোমা ও বারুদের পৃথিবী।দুর্বলের ওপর অত্যাচার ও উৎপীড়ন গত শতাব্দীগুলি থেকে একটুও কমেনি; বরং বেড়েছে। এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সাম্রাজ্যবাদী, অত্যাচারী শক্তি আল্লাহ নির্দেশিত আদেশ কে অমান্য করে পৃথিবীকে মৃত এক বারুদের স্তূপে পরিণত করেছে।তাই আজ আপাত দৃষ্টিতে শান্তি দূর অস্ত। কিন্তু আল্লাহ রব্বুল আলামীন কোরানে কারীমের মধ্যে ঘোষণা করেছেন যে,এই পৃথিবীর মৃত্যু ঘটলে তবেই নতুন এক পৃথিবী সৃষ্টি করবেন--
"জেনে রাখ যে, আল্লাহ জমিনকে মৃত্যুর পরে পুনরায় জীবিত করবে" (সুরা হাদীদ,১৭নং আয়াত)।

      জমিনের মৃত্যু ঘটায় অর্থ হল, জমিনের ওপর থেকে ন্যায়, ইনসাফ ইত্যাদি ধূলিসাৎ হওয়া। বর্তমান সময়ে যদি আমরা বিশ্বের দিকে তাকাই ,তবে বুঝতে পারবো
ইসরাইল ,আমেরিকা,ইউরোপ এই জমিন থেকে সত্য, ন্যায়, ইনসাফকে প্রতিনিয়ত হত্যা করছে। সুতরাং খুব দ্রুত আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর ওয়াদা পরিপূর্ণ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো কার দ্বারা এই জমিনকে জীবিত করবেন? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন -
"তোমাদের মধ্যে যে সমস্ত মানুষ ঈমান এনেছে,আর ভালো কাজ করেছে, আল্লাহ তাদের সঙ্গে ওয়াদা করেছেন যে,তাদেরকে একদিন না একদিন জমিনের ওপর অবশ্যই প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে"(সুরা নূর ,৫৫ নং আয়াত)।
উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ রব্বুল আলামীন এই পৃথিবীকে তার শেষ হুজ্জাত ইমাম মাহদী আঃ এর দ্বারা পুনরায় জীবিত করবেন। তাঁর আবির্ভাবের কিছু দিনের মধ্যেই সমস্ত শত্রুরা পরাস্ত ও ধ্বংস হয়ে যাবে। সমস্ত মানুষ আল্লাহ রব্বুল আলামীনের ওপর ঈমান আনার সঙ্গে সঙ্গে ইমাম আঃ এর শাসনকে বরণ করে নেবে।সুতরাং ইমাম মাহদী আঃ এর শাসন হবে সম্পূর্ণ আল্লাহ প্রদত্ত এক পরিপূর্ণ ইসলামী শাসন ।

ইমাম মাহদী আঃ এর শাসনের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকবে:

১.ইমাম মাহদী আঃ এর শাসন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত হবে। সমগ্র পৃথিবী ই একটি দেশ রূপে অবস্থান করবে। সাম্রাজ্যবাদ,যুদ্ধ, ঠাণ্ডা লড়াই পৃথিবী থেকে দূর হয়ে শান্তির পরিবেশ তৈরি হবে।

২.ইমাম মাহদী আঃ এর শাসনের ভিত্তি হবে দ্বীন ইসলামের সঠিক অনুসরণ।কোরান ও হাদীসের বিধান দ্বারা পৃথিবীর বুকে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। আল্লাহর রাসুলের যুগের মতোই ইসলামের আদর্শ রূপকে ইমাম আঃ তুলে ধরবেন।

৩.ইমাম মাহদী আঃ এর শাসনে মানুষ সঠিক বিচার,ইনসাফ ও নিরাপত্তা পাবে ।সে যুগের যাবতীয় সমস্যা কোনো রকম সাক্ষী প্রমাণ ছাড়া ইমাম আঃ খোদায়ী জ্ঞান দ্বারা সমাধান করবেন।এই সমাধান হজরত দাউত আঃ এর শাসনের মতো হবে।

৪.ইমাম মাহদী আঃ এর শাসনে সমস্ত কুফুর ও শিরক ধ্বংস হবে।এক আল্লাহ রব্বুল আলামীনের এবাদাত প্রতিষ্ঠিত হবে।

    সুতরাং সেই দিন অতি নিকটে, যেদিন অন্যায় ও অত্যাচারের শিকড় কাটা পড়বে এবং ন্যায় ও ইনসাফ এমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে,যেমন ভাবে আজকের দুনিয়া অন্যায়ে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।তাই আমরা বলতে পারি ইমাম মাহদী আঃ এর শাসন হবে এক আধ্যাত্মিক বিস্ময়।
__________________________________________

মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতীক্ষা: সর্বোত্তম ইবাদত

 وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
“আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”
(সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া যে তিনি আমাদের মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টি করা প্রতিটি জিনিসের একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে। যেমন: একটি পিপঁড়েও উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি হয়নি।
আল্লাহর সব সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হলো মানুষ। কেননা—

• পাহাড়ের আছে কেবল অবস্থান।
• গাছের আছে অবস্থান ও বৃদ্ধি।
• পশুর আছে অবস্থান, বৃদ্ধি ও চলাচলের ক্ষমতা।
• কিন্তু মানুষের মধ্যে এসব বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি আছে বুদ্ধি ও বিবেক।
এই বিবেক বা ‘আকল’-এর কারণে মানুষ শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টিতে পরিণত হয়েছে। আর এই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টির প্রধান দায়িত্ব হলো ইবাদত, অর্থাৎ আল্লাহর নির্ধারিত পথে জীবন পরিচালনা করা।

ইবাদতের ধরন অনেক রকম—
নামাজ, রোযা, হজ, যাকাত, আমর বিল মা'রূফ (সৎ কাজের নির্দেশ) এবং নাহি আনিল মুনকার (অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা) ইত্যাদি।
হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আফজালুল ইবাদা ইন্তিযারুল ফারাজ”
“সর্বোত্তম ইবাদত হলো মুক্তির প্রতীক্ষা।”
(বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৫২)
এখানে ‘ফারাজ’ বলতে বোঝানো হয়েছে—ইমাম মাহদী (আ.)-এর জুহুর বা আবির্ভাব।
অতএব, এই শ্রেষ্ঠ মাখলুক (মানুষ) হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো—
✅ আমরা আমাদের যুগের ইমামের জন্য প্রতীক্ষা করব।
তবে এই ‘প্রতীক্ষা’ কোনো নিষ্ক্রিয় বসে থাকা নয়।
এটি এমন নয় যে, আমরা শুধু অপেক্ষা করব কেউ আসবে বলে। বরং, এই অপেক্ষার অর্থ হলো—
নিজেকে শুদ্ধ করা, অপকর্ম থেকে দূরে থাকা, এবং ইমামের পথ অনুসরণের যোগ্য হয়ে ওঠা।

ইমাম মাহদী (আ.) দেখা কি মুখ্য? না কি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন?
ইমাম মাহদী (আ.) নিজেই বহুবার বলেছেন:
“আমার সাথে সাক্ষাতের জন্য দোয়া বা আমল করো—এইটা মুখ্য নয়। বরং, এমন চরিত্র গঠন করো, যেন আমি নিজেই তোমার কাছে আসি।”

আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহ.)-ও বলেছেন:
“ইমামকে দেখা বড় কথা নয়। সিমার (ধনুকধারী) তো কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.)-কে দেখেছিল—তবুও সে তাঁকে শহীদ করেছিল।”
তাই আসল কথা হলো, ইমামের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হওয়া।

বর্তমান সময়ে প্রতীক্ষাকারীর কিছু করণীয়:
✅ প্রতিদিন ইমামের সালামতির জন্য সদকা দেওয়া
✅ ওয়াজিব কাজগুলো নিয়মিত আদায় করা
✅ গোনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা
✅ ইমাম মাহদী (আ.)-এর প্রতি "আরিজা" (চিঠি) লেখা
✅ প্রত্যেক নামাজে তাঁর জুহুরের জন্য দোয়া করা
✅ ইমাম হুসাইন (আ.)-এর মজলিসে ইমাম মাহদীর জুহুরের দোয়া করা
✅ যুব সমাজে ইমাম মাহদী (আ.)-এর বার্তা ছড়িয়ে দেয়া
✅ সুখে-দুঃখে ইমামকে স্মরণ করা
✅ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইমামের নির্দেশনা স্মরণে রাখা

উপসংহার:
মানুষের সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো ইবাদত। আর যুগের ইমামের প্রতি আন্তরিক ও সক্রিয় প্রতীক্ষা সেই ইবাদতের সর্বোচ্চ রূপ।
আমরা যেন নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলি, যাতে ইমাম মাহদী (আ.)-এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি এবং তাঁর সাথী হওয়ার যোগ্য হই—এটাই হোক আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

__________________________________________------------------------------------------------




📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
 
                      
                   আখেরী নবুয়াত

নূরের সরদার তুমি, মুহাম্মদ
বারো ইমামের ওয়ারিস তুমি, মুহাম্মদ।
তোমারই নূরে গড়া এই দুনিয়া,
তোমার আগমনে বিশ্ব মাতোয়ারা

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ দান তুমি, মুহাম্মদ,
জ্ঞানেরি শহর তুমি, মুহাম্মদ
যারা তোমায় মানুষরূপে ভাবলো
তারা দুনিয়া ও পরকাল হারালো

তোমাকে যারা পাগল বলেছে
দুনিয়াতে তারা লাঞ্চিত হচ্ছে
যতই থাকুক তারা তোমারি পাশে
তারা গাদ্দার ছিলো গাদ্দারি থাকবে

শত্রুরা তোমাকে আমীন বলে মানত
 বাগে ফিদাক তারা লুটে খেত
নেতা সেজে বসেছে মুসলমানের সিংহাসনে,
কী মুখ তারা দেখাবে হাশরের ময়দানে?

যারা আগুন দিল তোমার কন্যার দরজায়,
রিসালতের বাণী কি এমনই ছিল সায়?
তোমার জানাজা রেখে যারা ভোট করেছে 
তারাই আবার তোমার উম্মতের দাবি করেছে।

__________________________________________


    মানবতা
    ✍️ রাজা আলী 

আই লাভ মুহাম্মদ 
এখানে অন্যায়টা কি?
বুঝেছি,বাহানা এটা
মনোভাব তোমাদের বিশ্রি।

মুহম্মদ কে চেনো কি?
মানব মুক্তির হোতা
মূর্খতাকে শেষ করে 
উনিই বিশ্ব ত্রেতা।

মানবতা বলতে তোমরা
বোঝনা কো কিছু
উগ্রতা ভর করেছে
তোমাদের পিছু পিছু।

জীবনে যে একটি মিথ্যা 
বলেনি কোনো দিন
দুনিয়ার মানুষের রয়েছে
আজো অনেক ঋণ।

ন্যায় বিচারের প্রতীক তিনি
মজলুমের আশ্রয়
টাকা পয়সা কিছু ই নয়
অন্যায় পায়নি প্রশ্রয়।

গরীবের মসীহা তিনি 
অভুক্তের আশ্রয়
বহুকাল আগেই গেয়েছেন 
মানবতার জয়।

মুক্ত দৃষ্টি দাও যদি
দেখবে তখন বেশ 
ইসলাম ধর্ম এমন ই
মানবতাই যার শেষ।
________   ______   _________

নোবেল তুমি কার?
       ✍️ রাজা আলী 


সম্ভবত এই প্রথম কেউ নির্লজ্জের মতো
নিজেকে নোবেলের যোগ্য বলে দাবি করলো
মানুষ সূর্যের মতো কাজ করে
কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নোবেল পায়
"আমি যোগ্য" বলা ধৃষ্টতা
এমন আগে কখনো দেখা যায় নি

হয়তো হৃদয় সাড়া দিয়েছে "আমি যোগ্য"বলে
কিন্তু হুঙ্কার কেউ কি ছেড়েছে?
যাক সে সব কথা
নোবেল কমিটির কেমন বা আক্কেল 
মারিয়া করিনা মাচাদো কে শান্তিতে নোবেল দিল!
সে তো ভেনেজুয়েলার অশান্তি 
ও আচ্ছা,সে তো পশ্চিমা দের হাতের পুতুল 
কোনো এক মিরাক্কেল ঘটাবে ভেবে 
এতো আরো আরো উৎসাহ 
কেন গ্রেটা কি শান্তির কথা বলে নি?
ইউরোপীয় মানবতাকে কাঁধে বহন করে 
সে গাজায় রপ্তানি করতে চেয়েছে
খাদ্য, ওষুধ,স্বাস্থ্য, শান্তি 
মাচাদো নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে
গ্রেটা তো কথিত মানবতার রাক্ষস কে বিশ্বের নিকট চিনিয়েছে!

গ্রেটা হয়তো তুমি কোনো দিনই নোবেল পাবে না
প্রভুদের খুশি করার পথ না ধরে
প্রভুদের মুখোশ উন্মোচন করো!
কিম্বা কোনো এক দিন 
তোমার জন্য ইউরোপে নেমে আসবে রাত
অন্ধকার সহ্য করতে না পেরে
খুব সামান্য একটি কাজের জন্য
প্রভুদের ইশারা হবে।


__________________________________________

 
নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা

আসমানের বুক আজ নীরবতার ঢেউয়ে ভেসে,
তারার চোখে জমেছে রক্তমাখা অশ্রু।
৮ই রবিউল আওয়াল—
এক অনন্ত বেদনার দিন,
যখন পৃথিবী পেল এক নিঃসঙ্গ শিশুকে।

পিতা ছিলেন শাহাদতের আলোকধারা,
ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর রক্তে রঙা।
আর সেই ছোট্ট হৃদয়,
মাহ্দী (আ.ফা.) হয়ে ওঠেন
সমস্ত দুনিয়ার ইয়াতীমে দো আলম।

নীরব কান্না বয়ে চলে বাতাসে,
ফেরেশতাদের ডানায় স্পর্শ পায় শোক।
হে ইমামে জামানা!
আপনার একাকীত্বে আমরা সবাই
অন্তরে হয়ে নিঃসঙ্গ।

পৃথিবীর প্রতিটি নিঃশব্দ কোণে
আপনার অশ্রু ঝরে পড়ছে—
শিশুর কণ্ঠে বাজে দুঃখের সুর,
যা কেবল আসমান ও ফেরেশতারা শুনতে পারে।

হে ইয়াতীমে দো আলম!
আপনার চোখের অশ্রুতে আমরা দেখি
মানবতার নিঃশেষ প্রেম,
আপনার নিঃসঙ্গতায় আমরা খুঁজে পাই
আশা, প্রার্থনা ও মুক্তির দীপ্তি।

আপনার প্রতিটি নিঃশ্বাস
আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে,
আপনার প্রতিটি অশ্রু
আমাদের শোকের সমুদ্রের ঢেউ।

যদি আমরা পারি,
আপনার এক ফোঁটা বেদনার ভারও ভাগ করে নিতে,
হবে সেটাই আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ মর্যাদা।

হে ইমামে জামানা!
আমরা আপনার নিঃসঙ্গ পথচলায়
সঙ্গী হতে চাই—
এক নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞা,
এক চিরন্তন ভালোবাসার প্রতিধ্বনি।
------ _____------_____------______------______------

আল-হুজ্জাত মাসিক পত্রিকা_ (অনলাইন সংস্করণ)_ রজব সংখ্যা

আরবি : রজব, ১৪৪৭ হিজরী ইংরেজি : জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ __________________________________________               সম্পাদক  :  ...