আরবি: রজব, ১৪৪৭ হিজরী
ইংরেজি: জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________
সম্পাদক :
সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী
প্রচ্ছদ ভাবনা:
অনলাইন সম্পাদনা ও তথ্য সংযোজন:
প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী
বকচরা, মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা
__________________________________________
সূচিপত্র
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
সম্পাদকীয়
ইমাম মাহদী আঃ সম্পর্কিত
✍️ ইমাম খোমেনী (রঃ)
যুগের ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর মারেফাত অর্জনের প্রয়োজনীয়তা (অনুবাদ)
মাওলা আলি (আঃ)-এর দৃষ্টিতে খেলাফত
ইমাম মাহ্দী (আ:) ও বর্তমান যুগ
ইমাম মাহদী (আঃ) জন্য অপেক্ষা: গভীরতা ও গুরুত্ব
✍️ রাজা আলী
মাওলা-এ-কায়েনাত আলী ইবনে আবু তালিব (আ.) এর শিক্ষা
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
মাওলা আলী
আল আকসার ঋণ
✍️ রাজা আলী
কুল্লে ঈমান — মাওলা আলী (আ:)
__________________________________________
__________________________________________
সম্পাদকীয়
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
আলহামদুলিল্লাহ! পবিত্র রজব মাস আত্মশুদ্ধি, তাওবা ও ইমানি জাগরণের এক বরকতময় সময়। এই মাস আমাদের হৃদয়ে নতুন করে জাগিয়ে রেখেছে মাওলা আলী (আ.)-এর ন্যায়, সাহস ও তাকওয়ার নূর এবং ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর প্রতীক্ষার দায়িত্বশীল চেতনা।
আল-হুজ্জাত পত্রিকার এই রজব সংখ্যায় সেই চেতনাকেই তুলে ধরার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে মাওলা আলী (আ.)-কে নিয়ে রচিত দুটি হৃদয়স্পর্শী কবিতা—যেখানে ভালোবাসা ও আনুগত্বের অনুভূতি স্পষ্ট। পাশাপাশি “আল আকসার ঋণ” শীর্ষক কবিতাটি উম্মাহর ঘুমন্ত বিবেককে জাগিয়ে দেয়, নীরবতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। এই সংখ্যায় আরও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মাওলা আলী (আ.) ও ইমাম মাহ্দী (আ.)-কে কেন্দ্র করে চিন্তাশীল প্রবন্ধ, যেখানে ইমামতের দর্শন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং প্রতীক্ষার বাস্তব অর্থ গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে।
আমরা বিশ্বাস করি, রজব কেবল ইবাদতের মাস নয়; এটি চরিত্র গঠনের, অবস্থান গ্রহণের এবং ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর আগমনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। আল্লাহ তাআলা যেন এই প্রয়াস কবুল করেন এবং আলী (আ:)এর নূর ও মাহ্দী (আ:)এর চেতনায় আমাদের জীবন আলোকিত করেন—আমিন।
ওয়াস সালাম
সম্পাদক
__________________________________________------------------------------------------------
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
ইমাম মাহদী আঃ সম্পর্কিত
✍️ ইমাম খোমেনী (রঃ)
ইমাম মাহদী (আঃ): (পৃঃ ৯) শিয়া মাজহাবের দ্বাদশ ইমাম হযরত হুজ্জাত্ ইবনে হাসান আসকারী (আঃ) ওরফে ইমাম মাহদীর (আঃ) ইমামতকাল তাঁর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হবার পূর্বেই শুরু হয়। সমকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং আল্লাহ্ তায়ালার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি আত্মগোপন অবস্থা বেছে নেন। তাঁর আত্মগোপন কাল
দুই ভাগে বিভক্ত। তাঁর ক্ষুদ্রতর আত্মগোপনকাল (غیبت صغری) ৬৯ বছর দীর্ঘায়িত হয়। এ সময় হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) তাঁর চারজন প্রতিনিধির মাধ্যমে পরোক্ষ ভাবে জনগণের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এরপর তাঁর বৃহত্তর আত্মগোপন কাল (غیبت کبری) শুরু হয় যা এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর আত্মগোপন মিথ্যার ওপর সত্যের বিজয়ের পূর্ব পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, হযরত ইমাম মাহদীর (আঃ) আবির্ভাব ও সংগ্রাম হবে মিথ্যাপন্থীদের বিরুদ্ধে সত্যপন্থীদের অবিরত সংগ্রামের সর্বশেষ পর্যায়। অর্থাৎ ইতিহাসের পুরো সময় ধরে সত্যপন্থীদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে ও দিনের পর দিন সত্যের বিজয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হবে। অতঃপর প্রতিশ্রুত মাহ্দী (আঃ) এ সংগ্রামকে চূড়ান্তভাবে ফলপ্রসূ করবেন এবং সত্য, ন্যায় নীতি ও ন্যায়বিচারের সূর্য উদিত হবে। আর সে সময়টি হবে মানুষের চৈন্তিক, মানসিক ও সামাজিক পূর্ণতার যুগ।
"অন্তিম বাণী" গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত
_________________________________________
যুগের ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর মারেফাত অর্জনের প্রয়োজনীয়তা (অনুবাদ)
يوم ندعو كل أناس بإمامهم.
“ যখন আমি সমস্ত মানুষদেরকে তাদের ইমাম সহ ডাকবো "(অনুবাদ)।
প্রতিটি বিবেচক ও বুদ্ধিমান মানুষ জানে যে, আল্লাহ্ ও তার প্রেরিত সমস্ত বিশেষ ব্যক্তিত্বকে চেনা অবশ্যই প্রয়োজন। এটাও প্রয়োজন যে, আল্লাহ্ ও তার রাসুলকে জানার পর নিজের যুগের ইমাম (আঃ)-কে চেনা এবং তার ইমামতকে কবুল করে নেওয়া। কেননা, তাওহীদ ও নবুয়াতের পরে ইমামত,অর্থাৎ নিজের যুগের ইমামের মারেফাত প্রতিটি মানুষের উপর ওয়াজীব। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর একটি হাদীসকে-যেটি উপরে উল্লেখিত আয়েতটির সঙ্গে সম্পর্কিত,-
من مات ولم يعرف امام زمانه مات ميتة جاهليه
“যে ব্যক্তি নিজের যুগের ইমামের মারেফাত ব্যতীত মৃত্যুবরণ করবে, তার মৃত্যু মূর্খতার মৃত্যুর ন্যায়” (অনুবাদ)।
মূর্খতাঃ- মূর্খতা বলতে বোঝায় দ্বীন ইসলাম প্রচারের পূর্বে যে দিনগুলিতে মানুষ পথভ্রষ্ট ও বেদ্বীন ছিল। কোনো ব্যক্তি তাওহীদ, নবুওয়াত ও কোরআনের উপর বিশ্বাস রাখার সাথে সাথে যদি দ্বীনি আমল করে, অথচ যুগের ইমাম (আঃ)-এর প্রতি মারেফাত না রাখে তবে রাসুল (সাঃ)-এর দৃষ্টিভঙ্গিতে তার মৃত্যু হবে পথভ্রষ্ট মূর্খের মতো। তাওহীদ, নবুওয়াত এবং এবাদাত কবুল হওয়ার একমাত্র রাস্তা হ'ল ইমাম (আঃ)-এর মারেফাত অর্জন করা। প্রসঙ্গত একটি উদাহারণ দেওয়া যাক:ইমাম জাফর সাদিক (আঃ)-এর যুগে বসবাসকারী মানুষদের উপর তাঁর মারেফাত ওয়াজীব ছিল। এই মারেফাত ব্যতীত তাদের দ্বীন কখনো সম্পূর্ণ ছিল না। আর বর্তমান যুগে আমাদের ইমাম মাহদী (আঃ)-ই খোদার হুজ্জাত। তাই আমাদের সকলের উপর ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর মারেফাত ওয়াজীব। তাওহীদ এবং নবুয়াতের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ইমাম (আঃ) দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর মারেফাত অর্জনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে জীবন-বনস্পতির বীজটি।
ইমাম রিযা (আঃ) এক সফর কালে 'নিশাপুর' অতিক্রম করছিলেন। তখন ঐ শহরের শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ বাসিন্দারা (যারা অধিকাংশই আহলে সুন্নতের অন্তর্ভূক্ত ছিল) ইমাম (আঃ)-কে সম্মান ও মোবারকবাদ জানাতে এসেছিল। বিদায় নেওয়ার পূর্বমূহূর্তে তারা ইমাম (আঃ)-এর কাছ থেকে হাদীস শোনার ইচ্ছা পোষণ করেন। ফলে ইমাম রিযা (আঃ) একটি হাদীস বর্ণনা করেন--যার ধারা তাঁর পিতা থেকে রাসুল (সাঃ) পর্যন্ত এবং রাসুল (সাঃ) থেকে আল্লাহ্ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ইমাম রিযা (আঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসটি হল,
لا اله الا الله حصني فمن دخل حصنى امن من عذابي
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্-- আমার কিল্লা। আর যে এই কিল্লাতে প্রবেশ করল, সে আমার আযাব থেকে রক্ষা পেল (অনুবাদ)। হাদীসটির বাহ্যিক অর্থ হল, যে ব্যক্তি তাওহীদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে, সে জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রাণ পাবে। তাই হাদীসটি শোনার পরে আহলে সুন্নতের মানুষেরা ইমাম (আঃ)-এর ওপর খুবই সন্তুষ্ট হল। আর ইমাম (আঃ)-কে সফর সম্পূর্ণ করার জন্য বিদায় দিল। ইমাম রিযা (আঃ) কিছু দূর যাওয়ার পর পিছনের দিকে তাকিয়ে বলেন
بشروطها وانا من شروطها
তাওহীদের প্রতি বিশ্বাস এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য কিছু শর্ত আছে; আর আমি ঐ শর্তগুলির মধ্য থেকে একটি।
উপরিউক্ত ঘটনা থেকে একথা প্রমাণিত হয় যে, ইমাম রিযা (আঃ)-এর ইমামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যেমন সেই যুগে ওয়াজীব ছিল, তেমনি ভাবে বর্তমান যুগে ইমাম মাহদী (আঃ)-এর মারেফাত আর তার ইমামতের উপর বিশ্বাস স্থাপনের মধ্য দিয়েই কেবল আমাদের ঈমান পরিপূর্ণ হতে পারে, আর আমরা আযাব থেকে রক্ষা ও নাযাত পেতে পারি।
আল্লাহ রব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া করি যে, তিনি যেন আমাদের অন্তরকে ইমাম (আঃ)-এর মারেফাত ও আহলেবাইত (আঃ)-এর মোহাব্বত দ্বারা পরিপূর্ণ করে দেন। আমরা যেন ইমাম মাহদী (আঃ)-এর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে পৃথিবী থেকে যেতে পারি। আর সেই বিশেষ দিনে যখন সকলকে নিজ নিজ ইসাসের সঙ্গে ডাকা হবে, তখন আমরা যেন ইমাম আঃ এর সঙ্গে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে পারি।
_________________________________________
মাওলা আলি (আঃ)-এর দৃষ্টিতে খেলাফত একটি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক দায়িত্ব, যা কেবল শাসনক্ষমতা নয় বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ইসলামী মূল্যবোধ রক্ষা এবং উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি মহান দায়িত্ব।
ইমাম আলি (আঃ)-এর খেলাফতের দর্শন:
1. খেলাফতের প্রকৃত উদ্দেশ্য:
খেলাফত কোনো পার্থিব রাজত্ব নয়, বরং এটি দ্বীনের হেফাজত, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
2. ক্ষমতার প্রতি উদাসীনতা:
ইমাম আলি (আঃ) খেলাফতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না যতক্ষণ না মুসলিমরা নিজেরাই তার দিকে ফিরে আসে। তিনি বলেন:
_“তোমরা জানো, আমি খেলাফতের চেয়ে পানি-ভেজা নালের চেয়ে কম মূল্যবান মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত তা দ্বারা সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যা ধ্বংস না হয়।”_
3. শাসকের গুণাবলি:
ইমাম আলি (আঃ)-এর মতে, খেলাফতের অধিকারী হতে হলে একজন শাসকের উচিত:
- আল্লাহভীরু হওয়া
- জুলুম থেকে বিরত থাকা
- গরীবের পাশে দাঁড়ানো
- সম্পদের অপব্যবহার না করা
- ন্যায়ের জন্য নিজ পরিবার বা আত্মীয়র বিরুদ্ধেও রায় দেওয়া
4. নাহজুল বালাগা-তে তার দৃষ্টিভঙ্গি:
ইমাম আলি (আঃ) খেলাফত নিয়ে অসংখ্য খুতবায় (বিশেষত খুতবা ৩ ও ৩৩) খেলাফতের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করেছেন।
5. উম্মাহর প্রতি দায়িত্ব:
তার মতে, খেলাফতের মূল লক্ষ্য উম্মাহর মধ্যে:
- শান্তি প্রতিষ্ঠা
- শিরক-মুনাফিকি নির্মূল
- আদর্শিক নেতৃত্ব নিশ্চিত করা
নিচে নাহজুল বালাগা থেকে খেলাফতের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে ইমাম আলি (আঃ)-এর গুরুত্বপূর্ণ খুতবার অংশ আরবি ভাষায় তুলে ধরা হলো:
১. খুতবা ৩ (الشقشقية) – খেলাফতের অধিকার:
إِنَّهُ يَعْلَمُ أَنَّ مَحَلِّي مِنْهَا مَحَلُّ الْقُطْبِ مِنَ الرَّحَى، يَنْحَدِرُ عَنِّي السَّيْلُ، وَلاَ يَرْقَى إِلَيَّ الطَّيْرُ.
“তিনি (আবু বকর) জানতেন, খেলাফতের ক্ষেত্রে আমি সেই কেন্দ্রবিন্দু, যেমন ঘূর্ণায়মান চাকায় কেন্দ্র থাকে, পাহাড় থেকে ঝরনা যেমন বের হয়, তেমনই জ্ঞান আমার থেকে উৎসারিত হয়, পাখিও আমার উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে না।”
২. খুতবা ১৬৪ – খেলাফতের দায়িত্ব ও শাসকের চরিত্র:
أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ أَحَقَّ النَّاسِ بِهَذَا الأَمْرِ أَقْوَاهُمْ عَلَيْهِ، وَأَعْلَمُهُمْ بِأَمْرِ اللَّهِ فِيهِ.
“হে মানুষ! খেলাফতের সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি সেই, যে এর ভার বহনের ক্ষমতাসম্পন্ন এবং এতে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞান রাখে।”
৩. খুতবা ৩৪ – খেলাফত একটি ইলাহী আমানত:
اللَّهُمَّ إِنَّكَ تَعْلَمُ أَنَّهُ لَمْ يَكُنِ الَّذِي كَانَ مِنَّا مُنَافَسَةً فِي سُلْطَانٍ، وَلاَ الْتِمَاسَ شَيْءٍ مِنْ فُضُولِ الْحُطَامِ، وَلَكِنْ لِنَرُدَّ الْمَعَالِمَ مِنْ دِينِكَ، وَنُظْهِرَ الإِصْلاَحَ فِي بِلادِكَ.
“হে আল্লাহ! তুমি জানো, আমরা খেলাফতের জন্য ক্ষমতার লোভে প্রতিযোগিতা করিনি কিংবা দুনিয়ার সম্পদ কামনা করিনি, বরং আমরা চাই তোমার দ্বীনের চিহ্ন ফিরিয়ে আনতে, এবং তোমার জমিনে সংস্কার প্রতিষ্ঠা করতে।”
নাহজুল বালাগা ইমাম আলি (আঃ)-এর খুতবা, চিঠি ও বাণীর সংকলন, যেখানে তিনি খেলাফত সম্পর্কে গভীর চিন্তা ও দর্শন তুলে ধরেছেন। এতে খেলাফতের দায়িত্ব ও অধিকার-কে ইলাহী আমানত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
খেলাফতের দায়িত্ব (নাহজুল বালাগার আলোকে):
1. আল্লাহর বিধান বাস্তবায়ন:
খেলাফতের প্রধান দায়িত্ব হলো শরিয়তের হুকুম কায়েম করা ও আল্লাহর জমিনে ন্যায়ের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
2. জনগণের হক রক্ষা:
- দুর্বল ও নিপীড়িতদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া
- জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো
- গরীব ও মজলুমের পাশে থাকা
3. খেলাফত = দায়িত্ব, নয় সুবিধা:
খুতবা ৩ (শিকায়াতি খুতবা)-তে তিনি বলেন: "তোমরা জানো আমি খেলাফত চেয়েছি না, বরং আমি ন্যায় কায়েম করতে চেয়েছি।"_ এটি ছিল দায়িত্ব পালনের জন্য তার অগ্রগণ্য অবস্থান।
4. শাসকের চারিত্রিক গুণ:
- তাকওয়া
- ন্যায়ের পক্ষে আপোষহীনতা
- নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে উম্মাহর কল্যাণে কাজ করা
5. জবাবদিহিতা:
ইমাম আলি (আঃ) বলেছেন, “নেতা সেই, যে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু।” (খুতবা ১৬৪)
খেলাফতের অধিকার:
1. সত্য ও ন্যায়ের নেতৃত্ব দেওয়ার অধিকার
খুতবা ৩-এর শুরুতে তিনি বলেছেন: _“আমিই খেলাফতের সবচেয়ে উপযুক্ত, কারণ আমিই রাসূল (সা.)-এর সবচেয়ে নিকট আত্মীয় এবং দ্বীনের বিষয়ে সবচেয়ে জ্ঞানী।”_
2. উম্মাহর আনুগত্য দাবি করার অধিকার:
নেতা হিসেবে তাঁর অধিকার ছিল মানুষ যেন আল্লাহর ও রাসূলের আনুগত্যের অংশ হিসেবে তাঁর নির্দেশ মেনে চলে।
3. ব্যবস্থাপনার পূর্ণ কর্তৃত্ব:
রাষ্ট্র, বিচার, অর্থনীতি ও যুদ্ধনীতিতে ন্যায়নিষ্ঠ প্রশাসনের অধিকার ছিল তাঁর।
উপসংহার:
নাহজুল বালাগা অনুসারে, খেলাফত মানে ক্ষমতা নয়, বরং আমানত। এটি হলো জনগণের অধিকার রক্ষা এবং আল্লাহর বিধান কায়েম করার গুরু দায়িত্ব। ইমাম আলি (আঃ)-এর খেলাফত দর্শন আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য এক আলোকবর্তিকা।
__________________________________________
ইতিহাস কখনো শূন্যে কথা বলে না। প্রতিটি যুগের সংকটের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে একটি গভীর আহ্বান—পরিবর্তনের ডাক। বর্তমান বিশ্বসভ্যতা আজ প্রযুক্তিতে অগ্রসর, অথচ নৈতিকতায় বিপর্যস্ত; জ্ঞানে সমৃদ্ধ, কিন্তু ন্যায়ে দারিদ্র্যপীড়িত। এই বৈপরীত্যপূর্ণ বাস্তবতায় মুসলমানদের বিশ্বাসে এক চিরন্তন আশার নাম—ইমাম মাহ্দী (আ:)। তিনি কেবল ভবিষ্যতের একজন প্রতীক্ষিত ইমাম নন; বরং বর্তমান যুগের সংকট বোঝার জন্যও এক গুরুত্বপূর্ণ আদর্শিক মানদণ্ড।
ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর আবির্ভাবের পূর্বশর্ত হিসেবে হাদিসে যে বৈশিষ্ট্যগুলোর কথা বলা হয়েছে—অন্যায়, জুলুম, বৈষম্য ও নৈতিক অবক্ষয়—সেগুলো আজ বিশ্বব্যাপী প্রকট বাস্তবতা। ক্ষমতাবানদের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত, দুর্বলরা বঞ্চিত; সত্য চাপা পড়ে যাচ্ছে মিথ্যার চাপে। এই বাস্তবতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বর্তমান যুগ কেবল ইতিহাসের এক অধ্যায় নয়—বরং ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর প্রতীক্ষার যুগ।
ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর মূল মিশন হবে ন্যায়ের সর্বজনীন প্রতিষ্ঠা। তিনি পৃথিবীকে এমন ন্যায়ে পরিপূর্ণ করবেন, যেমনটি আগে জুলুমে ভরে গিয়েছিল। এই ন্যায়ের দর্শন কোনো হঠাৎ বিপ্লব নয়; বরং মানুষের বিবেক, চরিত্র ও সামাজিক কাঠামোর গভীর সংস্কারের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হবে। তাই প্রশ্ন ওঠে—আমরা কি মানসিক ও নৈতিকভাবে সেই ন্যায়ের সমাজের জন্য প্রস্তুত?
এই প্রস্তুতির কেন্দ্রে রয়েছে বর্তমান যুবসমাজ। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—প্রতিটি পরিবর্তনের অগ্রদূত ছিল তরুণ প্রজন্ম। ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর অনুসারী হতে হলে কেবল আবেগী অপেক্ষা নয়, প্রয়োজন আদর্শিক প্রস্তুতি। যুবসমাজকে হতে হবে ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী ও আত্মসংযমী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা পরিহার করে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই হলো প্রকৃত ইন্তেজার (প্রতীক্ষা)।
ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর যুগ মানে শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি একটি নৈতিক পুনর্জাগরণ। সেখানে নেতৃত্ব মানে সেবা, শক্তি মানে সংযম, আর জ্ঞান মানে মানবতার কল্যাণ। বর্তমান যুগে যুবসমাজ যদি ভোগবাদ, আত্মকেন্দ্রিকতা ও হতাশা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মশুদ্ধি ও সমাজসংস্কারের পথে এগোয়, তবেই তারা সেই মাহ্দবী সমাজের যোগ্য নাগরিক হয়ে উঠতে পারবে।
বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়, ইমাম মাহ্দী (আ:)‑এর প্রতীক্ষা মানুষকে দায়িত্বহীন করে না; বরং দায়িত্বশীল করে তোলে। যে ব্যক্তি মাহ্দবী সমাজের স্বপ্ন দেখে, তার জীবনে মিথ্যা, দুর্নীতি ও জুলুমের কোনো স্থান থাকতে পারে না। এই দৃষ্টিভঙ্গি আজকের যুবসমাজের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক—যারা একদিকে হতাশ, অন্যদিকে পরিবর্তনের জন্য অস্থির।
পরিশেষে বলা যায়, ইমাম মাহ্দী (আ:) কোনো দূরবর্তী কল্পনা নন—তিনি বর্তমান যুগের নৈতিক আয়না। তাঁর আগমনের প্রতীক্ষা মানে নিজের ভেতরের জুলুম ভেঙে ন্যায়ের জায়গা তৈরি করা। আজকের যুবসমাজ যদি এই আত্মিক ও সামাজিক প্রস্তুতিকে জীবনচর্চার অংশ করে, তবে তারা কেবল ভবিষ্যতের অপেক্ষায় থাকবে না—বরং সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অংশীদার হয়ে উঠবে। এই প্রতীক্ষাই হলো সচেতন প্রতীক্ষা, এই পথই হলো মাহ্দবী পথ।
__________________________________________
ইমাম মাহদী (আঃ) জন্য অপেক্ষা: গভীরতা ও গুরুত্ব
✍️ রাজা আলী
"অপেক্ষা" শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো আশা করা বা চেয়ে থাকা। কারো আশায় বা কোনো জিনিসের আশায় বসে থাকাই হলো অপেক্ষা করা।কোনো কিছুর আশায় পথ চেয়ে থাকা আমাদের জীবনের একটি সাধারণ বিষয়। অর্থাৎ বাস্তব জীবনে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তি বা জিনিসের জন্য অপেক্ষা করে থাকি । কিন্তু এই অপেক্ষা যদি মানুষ বা কোনো জিনিসের জন্য না হয়ে যুগের ইমাম আঃ এর জন্য হয়ে থাকে ,তবে তা সর্বোচ্চ মাত্রাপ্রাপ্ত হয়। এ কারণেই আল্লাহর রাসুল সাঃ বলেছেন-- "উত্তম এবাদাত হলো ইমাম মাহদী আঃ এর আবির্ভাবের অপেক্ষা করা"(ফারাইদুস সিমতাইন)।
শিয়া আক্বীদা অনুযায়ী ইমাম মাহদী আঃ জন্মগ্রহণের পর "গায়বতে ছোগরা"র যুগ অতিবাহিত করে বর্তমান "গায়বতে কুবরা"তে অবস্থান করছেন। এই গায়বতের মধ্যে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের বিশেষ নেয়ামত ও উদ্দেশ্য রয়েছে।আর এ কারণেই ইমাম মাহদী আঃ এর পবিত্র গায়বতী অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের প্রখর সচেতনতা থাকতে হবে।তাঁর অস্তিত্ব কে স্বীকার করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রতি অবিচল ভালোবাসা আমাদের আখেরাতের সুসংবাদ।আর তাঁর প্রকাশ্য অনুপস্থিতির যুগেও তাঁর অপেক্ষা করা যে, প্রত্যেক যুগের মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড,তা একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে হাদীসে এসেছে--
"নিশ্চয় তাঁর (ইমাম মাহদী আঃ) গায়বতের যুগের লোকেরা,যারা তার গায়বতকে বিশ্বাস করে এবং জহুরের জন্য অপেক্ষা করে,তারা প্রত্যেক যুগের মানুষের চেয়ে উত্তম (কামালুদ্দীন )।
সুতরাং ইমাম মাহদী আঃ এর অপেক্ষা কারীরাই উত্তম ব্যক্তি এবং মুমিনের প্রকৃত বৈশিষ্ট্যে অন্বিত।
অপেক্ষা দুই রকমের ।একটি হলো অল্প সময় বা সীমাবদ্ধ সময়ের জন্য ;অপরটি দীর্ঘ সময় বা সীমাহীন সময়ের জন্য।যুগের ইমাম আঃ এর জন্য এই দ্বিতীয় প্রকার অপেক্ষা টি প্রযোজ্য।আর এই অপেক্ষা টিই শ্রেষ্ঠ অপেক্ষা।কারণ এক্ষেত্রে সংযম এবং ধৈর্যের প্রয়োজন হয়।ইমাম মাহদী আঃ"গায়েতে কুবরাতে" থাকার কারণে তাঁর আবির্ভাব সম্পূর্ণ আল্লাহ রব্বুল আলামীনের মর্জির উপর।তাই ইমাম মাহদী আঃ এর অনুসারী দের অপেক্ষা করতে হবে দীর্ঘ সময়।যিনি প্রকাশ্যে নেই,তাঁর উদ্দেশ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করার মতো গূঢ় বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি উত্তম এবাদাত হিসাবে পরিগণিত।
এই সমস্ত কারণে ইমাম মাহদী আঃ এর আর্বিভাবের অপেক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।তাঁর অপেক্ষার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে এবাদাতের পূর্ণতা।অপেক্ষার গুরুত্ব বোঝানো র জন্য হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি ইমাম আঃ এর অপেক্ষা করতে করতে মারা যান,তবে তিনি মারা যান নি ইমাম আঃ এর সঙ্গী এবং শহীদ হয়েছেন। সুতরাং ইমাম আঃ এর জন্য প্রতীক্ষা করার অর্থ হলো ইমামের প্রতি মহব্বতের দিন অতিবাহিত করা, কিংবা শাহাদাত বরণ করা এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভ করা।
__________________________________________
মাওলা-এ-কায়েনাত আলী ইবনে আবু তালিব (আ.) এর শিক্ষা
মাওলা-এ-কায়েনাত আলী ইবনে আবু তালিব (আ.) হলেন জ্ঞানের দরজা। তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার এতই বিশাল ছিল যে—যদি গাছের পাতাগুলো কাগজ হয়ে যেত, গাছের ডালগুলো কলম হয়ে যেত, সমুদ্রের পানি কালি হয়ে যেত এবং ফেরেশতারা লিখতে শুরু করত, তবুও মাওলার ফজিলত কখনো শেষ হতো না।
আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবু তালিব (আ.)-এর বহু বাণী নাহজুল বালাগা-তে লিপিবদ্ধ আছে। তার মধ্যে কিছু অংশ নিচে বর্ণিত হলো—
1.জ্ঞান শ্রদ্ধাই সম্পত্তি, সদাচরণ নতুন পোষাক এবং চিন্তা স্বচ্ছ আয়না।
2.মানুষ কী আশ্চর্যজনক যে, সে চর্বি আর এক টুকরা মাংস দ্বারা কথা বলে, একটা হাড় দ্বারা শুনে এবং একটা ছিদ্র দ্বারা শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়।
3.মানুষের সাথে দেখা হলে এমন আচরণ করবে যেন তোমার মৃত্যুতে তারা কাঁদে এবং তুমি বেঁচে থাকলে তারা তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করে।
4.প্রতিপক্ষের ওপর জয়ী হলে তাকে ক্ষমা করো।
5.ন্যায়কে ত্যাগ করলেও অন্যায়ের সমর্থন করো না।
6.বিবেচক লোকের দোষ-ত্রুটি ক্ষমা করো, কারণ তারা ভ্রমে নিপতিত হলে আল্লাহ তাদের তুলে আনেন।
7.অসুস্থতার সময় যতটুকু পার হাটা-চলা করো।
8.উদার হয়ো কিন্তুু অপচয়কারী হয়ো না; মিতব্যয়ী হয়ো কিন্তুু কৃপণ হয়ো না।
9.আকাঙ্খা পরিত্যাগ করাই সর্বোৎকৃষ্ট সম্পদ।
10.আমিরুল মোমেনিন তাঁর পুত্র হাসানকে বললেন:
হে আমার পুত্র, আমার কাছ থেকে চারটি জিনিস এবং আরো চারটি জিনিস লেখে নাও। এগুলো চর্চা করলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না। বিষয়গুলো হলো, বুদ্ধিমত্তা সর্বোত্তম সম্পদ, মূর্খতা সব চাইতে বড় দুস্থতা, আত্মগর্ব সব চাইতে বড় বর্বরতা এবং নৈতিক চরিত্র সর্বোত্তম অবদান। হে আমার পুত্র, মুর্থ লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না, কারণ সে তোমার উপকার করতে গিয়ে অপকার করে ফেলবে। কৃপণের সাথে বন্ধুত্ব করো না, কারণ যখন তুমি তার প্রয়োজন অনুভব করবে তখন সে দৌড়ে পালাবে। পাপী লোকের সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না, কারণ সে তোমাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে দেবে। মিথ্যাবাদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করো না, কারণ সে তোমাকে দূরের জিনিস কাছের ও কাছের জিনিস দূরের বলবে।
11.জ্ঞানী লোকের জিহ্বা হৃদয়ের পিছনে, আর মুর্থ লোকের হৃদয় জিহবার পিছনে।
12.যে ব্যক্তি পরকালের কথা মনে রেখে ও জবাবদিহি করতে হবে মনে রেখে কাজ করে এবং যা আছে তাতে তৃপ্ত থেকে আল্লাহতে সন্তুষ্ট থাকে সেই ব্যক্তি সব চাইতে আশীবার্দপুষ্ট।
13.মানুষের হৃদয় বন্য পশুর মতো; যে তাদের পোষে তার ওপর তারা ঝাপিয়ে পড়ে।
14.সম্পদ থাকলে বিদেশও স্বদেশ বলে মনে হয় আর দুর্দশাগ্রস্থ হলে স্বদেশও বিদেশ বলে মনে হয়।
15.তৃপ্তি এমন সম্পদ যা কখনো কমে না।
16.সম্পদ কামনা-বাসনার ঝর্ণাধারা।
17.যে তোমাকে সতর্ক করে সে ওই ব্যক্তির মতো যে তোমাকে সুসংবাদ দেয়।
18.জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা যত বাড়বে বক্তব্য তত কমবে।
19.মানুষের প্রতিটি নিশ্বাস মৃত্যুর দিকে পদক্ষেপ মাত্র।
20.যে নিজের বাতেনকে সঠিক পথে রাখে আল্লাহ তার বাহ্যিক দিক সঠিক পথে রাখেন। যে দ্বীনের খেদমত করে আল্লাহ তার দুনিয়ার কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে দেন। যে আল্লাহ ও তার নিজের মধ্যকার কর্মকান্ড সৎভাবে করে আল্লাহ ওই ব্যক্তির ও অন্য লোকদের মধ্যকার কর্মকাণ্ড কল্যাণকর করে দেন।
নাহজুল বালাগায় সংরক্ষিত এসব বাণী মানবজীবনের প্রতিটি স্তরে পথনির্দেশনা প্রদান করে। ন্যায়বিচার, তাকওয়া, জ্ঞানার্জন, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার প্রতি দায়িত্ববোধ—সব ক্ষেত্রেই আমীরুল মুমিনীন (আ.)-এর বাণী আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুকরণীয়। তাঁর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা যুগে যুগে মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করে আসছে।
------ _____------_____------______------______------
------ _____------_____------______------______------
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
মাওলা আলী
দ্বীনের গৌরব আলী,
হকের পরিচয় আলী।
জুলুমের বিরুদ্ধে তলোয়ার,
মুনাফিকের শত্রু আলী।
দীনের বিজয়ী আলী,
ইসলামের প্রহরী আলী।
জ্ঞানের অথৈ সাগর তিনি,
হিকমতের ভাণ্ডার আলী।
পুলসিরাতের পথ আলী,
নেকীর সাথে আলী।
ইমামতের প্রথম প্রদীপ,
উম্মতের কান্ডারী আলী।
দরিদ্রের আশ্রয় আলী,
ইয়াতিমের ছায়া আলী।
ডাকে যে বিপদে নাম ধরে,
মুশকিল আসান আলী।
__________________________________________
আল আকসার ঋণ
✍️ রাজা আলী
রাত ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে আরো
মুক্তি কোথায় বলতে পারো?
ওদের কালো হাত,উগ্র দৃষ্টি
শুকিয়েছে মেঘ,নেই তো বৃষ্টি!
যন্ত্রণা , যন্ত্রণা আজ অনবরত
ওই দেখ লাশ শিশুর শত শত!
এরা শান্তির দূত,গায়ে বেশ যুত
ভাব এদের,এরাই পবিত্র ও পূত।
জেনে রাখ ওরা শয়তান
করে আছে মানুষের ভান।
আসবে সেদিন আসবে শিঘ্র
ধ্বংস হবেই,ওদের বিগ্রহ।
মুক্ত,মুক্ত,হবে নতুন ফিলিস্তিন
শোধ হবে কি,আল আকসার ঋণ?
__________________________________________
কুল্লে ঈমান — মাওলা আলী (আ:)
ইমান যদি সাগর হয়, তুমি তার ঢেউ,
নবীর পাশে দাঁড়িয়ে তুমি, সত্যের অটল কেউ।
খায়বারের সেই লড়াইয়ে ডাক উঠেছিল ভার—
“লা ফাতা ইল্লা আলী, লা সাইফ ইল্লা যুলফিকার।”
নামাজে ডুবে থাকা সেই হৃদয় কত পবিত্র,
তীর বিঁধেও ব্যথা ভুলে, সেজদায় ছিল অবিচল চিত্র।
ইমানের পূর্ণতা মানে, তোমার পথেই চলা,
তাই তো নবী বলেছিলেন—কুল্লে ঈমান মাওলা।
ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন, দয়ার মাঝে সীমাহীন,
শত্রুর প্রতিও তুমি ছিলে নম্র ও ধীর।
হাতে ছিল তরবারি, কিন্তু হৃদয়ে ভরা মায়া,
অসহায়ের চোখে তুমি ছিলে আল্লাহর রহমতের ছায়া।
ইলমের দরজা তুমি হলে, নবীর শহর পূর্ণতা পেল,
অজ্ঞতার অন্ধকারে তোমার জ্ঞান আলো হয়ে জ্বললো।
আজও যারা সত্য খোঁজে, তোমার দিকেই চায়,
কারণ আলীর পথে চললেই ইমান শক্ত হয়ে যায়।
হে মাওলা আলী (আ:), হৃদয়ে রাখি তোমার নাম,
ইমানের পূর্ণতা পেতে, চাই তোমার পথের দাম।
------ _____------_____------______------______------