Wednesday, April 16, 2025

আল-হুজ্জাত পত্রিকা_ (অনলাইন সংস্করণ) || শাওয়াল সংখ্যা



আরবি: শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরী
ইংরেজি: এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________

             সম্পাদক : 
মাওলানা কাজিম আলি (আশিক হুসাইন)

সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী

             প্রচ্ছদ ভাবনা:
মিনহাজউদ্দিন মন্ডল এবং মুন্তাজির গাজী

অনলাইন সেটিং: মিনহাজউদ্দিন মন্ডল

              প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী 
বকচরা,মিনা খাঁন,উত্তর ২৪ পরগণা

__________________________________________

                             সূচিপত্র 
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖

বিন আকিল: কুফায় আগমণ ও উদ্দেশ্য

যোগ্য ব্যক্তির সম্মান:কোরান ও হাদীসের আলোকে

ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) এর শিক্ষার বিস্তার

ইমাম আ: এর সাহায্য: শিয়াদের প্রতি (অনুবাদ)

আল্লাহর একত্ব (অহদিয়াত) সম্পর্কে দার্শনিক ও কালামি বিশ্লেষণ

ইরান কেন পরমাণু অস্ত্র বানায় না?
          ✍️  রাজা আলী 

যুবকদের আলোকিত পথ--- আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সিসতানীর (হাফিযাহুল্লাহ) অমূল্য আট উপদেশ।  (অনুবাদ) 
          ✍️ মইনুল হোসেন

ইমামে জামানা (আ.) এর গায়বাত: একটি গভীর বিশ্লেষণ

 মা-বাবা ও শিক্ষকের হক : কুরআন ও রেসালাতুল হুকুক-এর দৃষ্টিতে (অনুবাদ)

📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃  📃   📃  কবিতায় দ্বীনি বার্তা  🧾  🧾  🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
             

আগমন কবে হবে?

আল-হুজ্জাতের আহ্বানে

কাসেম সোলাইমানি 
     ✍️ রাজা আলী 


__________________________________________
__________________________________________

                        সম্পাদকীয়

আল্লাহ রব্বুল আলামীনের অশেষ দয়ার বরকতে আল হুজ্জাত পত্রিকা (অনলাইন সংস্করণ)র শাওয়াল সংখ্যা প্রকাশিত হলো। আলহামদুলিল্লাহ, মাহে রমজানের আত্মশুদ্ধির সফর শেষে আমরা শাওয়াল মাসে পদার্পণ করেছি। ঈদের আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের পর এই মাস আমাদের জন্য এক নতুন আত্মজিজ্ঞাসার সময়। রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত তাকওয়া ও আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণাবলি যেন শাওয়াল মাসেও আমাদের জীবনে প্রতিফলিত হয়।

এই সংখ্যায় তুলে ধরা হয়েছে পবিত্র রবের অস্তিত্ব, ইমাম আঃ দের জীবন অভিজ্ঞান, আত্মশুদ্ধি, সামাজিক বিষয় এবং ইমাম মাহদী আঃ সম্পর্কিত প্রবন্ধ। শিক্ষা যেহেতু চিন্তা ও চেতনার দরজায় প্রতিনিয়ত কড়া নাড়ে, সেকারণেই পাঠকগণ বিচিত্র বিষয়ের উপর পরিবেশিত প্রবন্ধ গুলিতে কিছু চিন্তা র খোরাক পাবেন নিশ্চয়--যা কি না সমাজ পরিবর্তনের ইতিবাচক অভিজ্ঞান হয়ে উঠবে।
                 
                              ওয়াস সালাম 
        মাওলানা কাজিম আলি (আশিক হুসাইন)
                                সম্পাদক 
                        আল-হুজ্জাত পত্রিকা
__________________________________________------------------------------------------------

📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖


বিন আকিল: কুফায় আগমণ ও উদ্দেশ্য
হযরত আলী (আ.) রাসূলুল্লাহ (স.) থেকে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন:  
"إِنِّي أُحِبُّ عَقِيلًا لِأَمْرَيْنِ: أَحَدُهُمَا: لِنَفْسِهِ، وَالثَّانِي: لِأَنَّ أَبَا طَالِبٍ كَانَ يُحِبُّهُ".
"আমি আকিলকে দুই কারণে ভালোবাসি। এক, তার নিজের জন্য;দুই, তার পিতা আবু তালিব  তাকে ভালোবাসতেন।"

মুসলিম ইবনে আকিল কে?
  
বনি হাশিমের তরুণদের মধ্যে মুসলিম ইবনে আকিল ছিলেন একজন উজ্জ্বল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। আকিল ছিলেন হযরত আলী (আ.)-এর ভাই এবং আবু তালিবের দ্বিতীয় পুত্র।
মুসলিম ইবনে আকিল ছিলেন আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.)-এর ভাইপো এবং হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-এর চাচাতো ভাই। মুসলিম যে পরিবারে বেড়ে উঠেছিলেন, তা ছিল জ্ঞান, পুণ্য ও মর্যাদার পরিবার। এই পরিবারেই তিনি মানবিক ও ইসলামী গুণাবলী অর্জন করেছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি বনি হাশিমের যুবকদের মধ্যে, বিশেষত ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সান্নিধ্যে বড় হয়েছিলেন। তিনি নৈতিক সৌন্দর্য, সাহসিকতা ও ত্যাগের পাঠ শিখেছিলেন।

ইতিহাসবিদদের মতে, হযরত আলী (আ.)-এর শাসনামলে (৩৬ থেকে ৪০ হিজরি পর্যন্ত) মুসলিম সেনাবাহিনীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যেমন, সিফফিনের যুদ্ধে হযরত আলী (আ.) সেনাবাহিনীকে সাজানোর সময় ইমাম হাসান, ইমাম হুসাইন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ও মুসলিম ইবনে আকিলকে ডান পাশের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।  
মুসলিম ইবনে আকিলের পরিচয় শুধু তার বংশগত নয়, বরং তার চিন্তা, কর্ম ও জীবন দর্শনে। হযরত আলী (আ.)-এর শাসনামলে তিনি সত্যের পক্ষে ছিলেন এবং ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর ইমামতের সময়েও তিনি তাদের পাশে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এই পথেই শাহাদাত বরণ করেন। 

মুসলিম ইবনে আকিলের কুফায় আগমন :
 
মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর ইয়াজিদ ক্ষমতায় আসে। সে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) নেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু ইমাম হুসাইন (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং মক্কায় চলে যান।ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় অবস্থানকালে কুফাবাসীদের কাছ থেকে অসংখ্য চিঠি পেতে শুরু করেন । চিঠির সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, একে সত্যিকার অর্থে "পত্র-আন্দোলন" বলা যায়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এই চিঠির সংখ্যা দাঁড়ায় দিনে গড়ে ৬০০টি, এবং মোট ১২,০০০ চিঠি ইমামের কাছে পৌঁছায়। এমনকি ইতিহাসে এই চিঠির সংখ্যা কিছু কিছু জায়গায় আরো বেশি বলা হয়েছে।

১৫ই রমজান ৬০ হিজরি: হাজার হাজার দাওয়াতপত্র ইমাম হুসাইনের (আ.) হাতে পৌঁছায়।স্বাভাবিকভাবেই, ইমাম হুসাইন (আ.) কুফাবাসীদের আমন্ত্রণের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সেখানকার জনমত ও তাদের আনুগত্যের মাত্রা যাচাই করার জন্য একটি সঠিক প্রতিবেদনের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি মুসলিম ইবনে আকিলকে কুফায় প্রেরণ করেন যাতে তিনি পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ইমামকে অবহিত করতে পারেন। ইমাম কুফাবাসীদের কাছে যে চিঠি লিখেছিলেন, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন:  "আমি আমার চাচাতো ভাই মুসলিম ইবনে আকিলকে তোমাদের কাছে পাঠাচ্ছি, যাতে তিনি তোমাদের মতামত ও অবস্থা সম্পর্কে আমাকে জানাতে পারেন।"

৫ই শাওয়াল ৬০ হিজরি: মুসলিম ইবনে আকিল কুফায় প্রবেশ করেন। জনগণ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় এবং তাঁর হাতে বাইয়াত করে।

১১ই জিলকদ ৬০ হিজরি: মুসলিম ইবনে আকিল ইমাম হুসাইন (আ.)-কে কুফার পরিস্থিতি জানিয়ে একটি চিঠি লেখেন এবং আসার আহ্বান জানান।

মুসলিমের চিঠি:
তিনি জানান কুফাবাসীরা তাঁর আগমনের জন্য প্রস্তুত।

৮ই জিলহজ ৬০ হিজরি:
কুফার একজন প্রবীণ, শ্রদ্ধেয় ও প্রভাবশালী নেতা এবং আহলুল বায়েত (আঃ) এর অনুসারী ও প্রেমিক হানী ইবনে উরওয়াহ্—যিনি মুসলিম ইবনে আকিলকে গোপনে আশ্রয় দিয়ে সহায়তা করছিলেন। তৎকালীন অত্যাচারী শাসক উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের নির্দেশে হানি গ্রেফতার হন এবং নির্মমভাবে শহীদ করা হয়। মুসলিম ইবনে আকিল প্রায় ৪০০০ জনকে নিয়ে বিদ্রোহ করেন, কিন্তু পরে সবাই তাঁকে ছেড়ে যায়। তিনি একা পড়ে যান এবং তওয়া নামক এক নারীর বাড়িতে আত্মগোপন করেন। ইমাম হুসাইন (আ.) মক্কায় হজকে ওমরায় পরিবর্তন করে একটি খুতবা দেন এবং ৮২ জন পরিবার ও সঙ্গী নিয়ে কুফার দিকে রওনা দেন।

ইবনে জিয়াদের আগমন:
ইবনে জিয়াদ বাসরার ৫০০ সৈন্য নিয়ে ছদ্মবেশে কুফায় প্রবেশ করেন। মানুষ ভেবেছিল তিনি ইমাম হুসাইন (আ.)। কিন্তু পরে জানতে পারে সে উবাইদুল্লাহ ইবনে জিয়াদ। কুফার গভর্নর নোমান ইবনে বশীর তাঁকে চিনতে না পেরে প্রথমে বাধা দিলেও পরে তাকে প্রবেশ করতে দেয়।

হানী ইবনে উরওয়াহ্:
মুসলিম বুঝতে পারেন ইবনে জিয়াদ তাঁকে খুঁজবে, তাই তিনি শহরের প্রভাবশালী নেতা হানী ইবনে উরওয়াহর বাড়িতে আশ্রয় নেন। হানী ছিলেন সাহাবী এবং শিয়াদের একজন নেতা।

হানীর গ্রেফতার:
ইবনে জিয়াদ মুসলিমের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে হানীকে কৌশলে তার দরবারে ডেকে পাঠান। হানী সত্য গোপন করলেও ইবনে জিয়াদের দাস মাকিলের সাক্ষ্যে তা প্রকাশ পায়। ইবনে জিয়াদ হানীকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং বন্দি করে।

তওয়া – এক সাহসী নারী:
মুসলিম, একা ও নিরাশ হয়ে কুফার রাস্তায় ঘুরছিলেন। হঠাৎ তিনি এক নারীকে দেখেন যার নাম ছিল তওয়া। মুসলিম পানি চান এবং নারী তাঁকে পানি দেন। পরে জানতে পেরে যে মুসলিম ইবনে আকিল আশ্রয় চাইছেন, তিনি তাঁকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।

ইবনে জিয়াদের হুমকি ও প্রতিশ্রুতি:
ইবনে জিয়াদ মসজিদে ঘোষণা দেয়, মুসলিম যার ঘরে থাকবেন আর সে তা জানাবে না, তার জান-মাল হালাল। আর যেই মুসলিমকে ধরিয়ে দেবে, তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। তওয়ার ছেলে বেলাল পুরস্কারের লোভে মুসলিমের অবস্থান ফাঁস করে দেয়। ইবনে জিয়াদ ৭০ জন সৈন্যকে মুসলিমকে গ্রেফতার করতে পাঠায়।

৯ই জিলহজ ৬০ হিজরি: মুসলিম ও কুফাবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে তিনি গ্রেফতার হন এবং কুফার দারুল আমারার ছাদে শহীদ করা হয়।
তাঁর রওজা কুফায় এখনো জিয়ারতের স্থান হিসেবে সমাদৃত।

উপসংহার:
হজরত মুসলিম এর জীবনী থেকে আমাদের জন্য উত্তম শিক্ষা হচ্ছে ,তিনি তার যুগের ইমাম ,ইমাম হুসাইন(আঃ) কে কিভাবে অনুসরণ করেছিলেন এবং ইমামের আদেশে আমল করেছিলেন। সত্যকে অনুসরণ করার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।তাই আমাদের উচিত আমাদেরকেও যুগের ইমাম মাহদী (আঃ) কে মুসলিম ইবনে আকিলের মতন অনুসরণ ও অনুকরণ করা ।

__________________________________________

যোগ্য ব্যক্তির সম্মান:কোরান ও হাদীসের আলোকে


 قال على عليه‏ السلام : اَلعِلمُ قاتِلُ الجَهلِ.

জ্ঞান, অজ্ঞতার ধ্বংসকারী।
(গুরারুল হিকাম ও দুররুল কালিম, পৃষ্ঠা ৫৬)

সমাজ হলো এমন একটি ব্যবস্থা  যেখানে একাধিক মানুষ কিছু নিয়ম-নীতির নিরিখে জীবন যাপন করে।সমাজ তখনই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, যখন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয়। ইসলাম এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে ন্যায়বিচার, যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং মানুষের সমানাধিকার প্রদান করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজকের সমাজে অনেকেই অন্যের যোগ্যতা বা বিশেষত্বের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে না। বরং অনেক সময় মানুষ মনে করে, "আমি যা বুঝি, সেটাই ঠিক"—এমন মনোভাব সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়।

ইসলাম আমাদের শেখায়, যে ব্যক্তি যে বিষয়ে পারদর্শী, তাকে সেই বিষয়ে মূল্যায়ন করা এবং তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। আসুন, কুরআন ও হাদীসের আলোকে এই বিষয়ে গভীর ভাবে আলোচনা করি এবং কিছু বাস্তব ঘটনা তুলে ধরি।

কুরআনের দৃষ্টিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন:
আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন:
"যারা জ্ঞানী এবং যারা অজ্ঞ তারা কি সমান হতে পারে?" (সুরা আয-জুমার, ৩৯:৯)

এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, জ্ঞানী ও অজ্ঞ কখনো সমান হতে পারে না। একজন আলেম যিনি ধর্মীয় বিষয়ে গভীর ভাবে গবেষণা করেন, একজন চিকিৎসক যিনি মানুষের রোগ নিরাময়ে কাজ করেন, কিংবা একজন প্রকৌশলী যিনি সমাজের অবকাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখেন—তাদের প্রত্যেকেরই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান অসামান্য। তাই তাদের উপযুক্ত সম্মান দেওয়া ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

অপর একটি আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন: "আল্লাহ তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।"
(সুরা আল-মুজাদিলা, ৫৮:১১)

এই আয়াতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, আল্লাহ নিজেই জ্ঞানীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। যদি আল্লাহ তাআলা নিজেই জ্ঞানীদের সম্মানিত করেন, তবে আমাদের সমাজেও তাদের মূল্যায়ন করা উচিত।যেখানে আল্লাহ তাআলা নিজেই জ্ঞানীদের মর্যাদা ও গুরুত্ব দিচ্ছেন সেখানে আমরা আল্লাহর মাখলুক ,তাহলে আমাদের মধ্যে এই বিশেষ গুণটি অভাব কেনো দেখা যাচ্ছে ? আমরা কেনো নিজেদের কে আল্লাহর বাণী ও আদেশ অনুযায়ী গড়তে পারছি না ।

হাদীসের আলোকে যোগ্য ব্যক্তির মর্যাদা:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, সমাজে যারা নিজেদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও শ্রম দিয়ে অন্যদের উপকার করে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা এবং সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের শিক্ষা। তাই আমাদের উচিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসের বানী অনুযায়ী নিজেদের কে দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেন:
 "যখন কোনো কাজের দায়িত্ব যোগ্য ব্যক্তির হাতে অর্পণ করা হবে না, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।"

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, যদি সমাজে যোগ্য ব্যক্তিকে তার উপযুক্ত সম্মান ও দায়িত্ব প্রদান না করা হয়, তবে তা সমাজের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।আজ আমাদের সমাজ এই কারণেই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

ইসলামের ইতিহাস থেকে শিক্ষণীয় ঘটনা:

১. হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা:
হযরত ইউসুফ (আ.) যখন মিশরের বাদশাহের দরবারে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিলেন, তখন রাজা তার বুদ্ধিমত্তা ও যোগ্যতা দেখে বিস্মিত হন। ইউসুফ (আ.) নিজেই বললেন:
 "আমাকে দেশের ভান্ডারের দায়িত্ব দিন, কারণ আমি বিশ্বস্ত ও দক্ষ।"
(সুরা ইউসুফ, ১২:৫৫)

২. ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর জ্ঞান ও সম্মান:
ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর অসাধারণ জ্ঞান এবং প্রজ্ঞার কারণে বিভিন্ন যুগের জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা তাঁকে সম্মান করতেন।নিম্নের বাণীটি তার উজ্জ্বল প্রমাণ।

 আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন:
"আমি জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (আ.)-এর মতো আর কাউকে জ্ঞান, তাকওয়া এবং মর্যাদায় উন্নত দেখি নি।"

৩. ইমাম সাজ্জাদ (আ.)-এর বিনয় ও সম্মান প্রদর্শন:
কুফার দরবারে ইমাম সাজ্জাদ (আ.) অত্যন্ত মর্যাদার সাথে আহলুল বাইতের পরিচয় দেন। ইয়াজিদের দরবারে সাহাবি যায়েদ ইবনে আরকাম যখন ইমামের বন্দিত্ব দেখলেন, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ইমামকে সম্মান জানিয়ে বলেন:

"এই মানুষগুলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরিবার। তাদের প্রতি সদয় হও।"
আমাদের বুঝতে হবে ও চিনতে হবে কে জ্ঞানী আর কে মূর্খ। শুধু বুঝলেই হবে না ,বোঝার সঙ্গে সঙ্গে সেই যোগ্য ব্যক্তিকে তার সন্মান ও মর্যাদা দিতে হবে এবং তার কথা মানতে হবে ।
এখানে আমরা দেখতে পাই, ইসলামে নিজ যোগ্যতা প্রকাশ করা এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকে দায়িত্ব প্রদান করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সমাজে যোগ্য ব্যক্তিকে অবমূল্যায়নের পরিণতি:
যখন সমাজে যোগ্য ব্যক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হয়, তখন এর বহুমুখী ক্ষতি হয়:

১. সামাজিক বিশৃঙ্খলা: যখন অযোগ্যরা নেতৃত্বে আসে, তখন সমাজে অবিচার ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

২. যোগ্যতার অপচয়: যোগ্য ব্যক্তিরা যখন মূল্যায়ন পান না, তখন তাদের প্রতিভা ও দক্ষতা সমাজের উপকারে আসে না।

৩. ইসলামী মূল্যবোধের ক্ষতি: ইসলাম যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতে বলে। এই নীতি উপেক্ষা করলে ইসলামী আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপসংহার:
ইসলাম আমাদের শেখায়, যে ব্যক্তি যে বিষয়ে পারদর্শী, তাকে তার যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্মান দেওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে এবং নবী (সা.)-এর হাদীসের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, সমাজ তখনই সঠিকভাবে পরিচালিত হবে, যখন যোগ্য ব্যক্তিকে তার মর্যাদা ও দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

আমাদের উচিত, সমাজের আলেম, ডাক্তার, শিক্ষক, প্রকৌশলীসহ সকল দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মান ও মূল্যায়ন করা। কারণ, যোগ্য ব্যক্তির প্রতি সম্মান জানানো মানে ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শকে জীবিত রাখা।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যোগ্য ব্যক্তিকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করার তাওফিক দিন।
__________________________________________

ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) এর শিক্ষার বিস্তার

ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) ইসলামের এক মহান ব্যক্তিত্ব এবং এক অন্যতম মনীষী ছিলেন।তিনি ইসলাম, বিশেষ করে শিয়া ইতিকাদ এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) ইসলামী ইতিহাসে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম এবং তিনি বিভিন্ন দিক থেকে শিক্ষার বিস্তার করেছেন।

ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) এর শিক্ষার বিস্তার:

ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) এর জীবন এবং শিক্ষা শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বিজ্ঞান, দর্শন, ফিকহ (আইন), এবং অন্যান্য দৃষ্টিকোণ থেকেও তিনি একটি আলোকিত পথ প্রদর্শক ছিলেন। তাঁর শিক্ষা থেকে বহু বিষয় সংক্রান্ত গভীর জ্ঞান অর্জন করা যায়, যা আজও আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

1. ফিকহ (ইসলামী আইন):
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) ইসলামের আধ্যাত্মিক ও দুনিয়াবি দিকের ব্যাপারে বিশাল জ্ঞান প্রদান করেছেন। তার শিক্ষা অনুসারে, জাফরি ফিকহ (শিয়া মুসলিমদের ফিকহ বা আইন) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বর্তমানে শিয়া মুসলিমদের জন্য অনুসরণযোগ্য আইনি ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। তিনি ইসলামের আইনি বিধানগুলোকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যার মধ্যে পারিবারিক আইন, বাণিজ্যিক আইন, ক্রেডিট, শপিং, প্রতিশ্রুতি, হাদ (অপরাধমূলক শাস্তি) ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

2. বিজ্ঞান ও দর্শন:
 ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করেননি, বরং তাঁর শিক্ষায় বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং দর্শনের বিষয়েও যথেষ্ট গুরুত্ব ছিল। সে সময়ে তিনি ইসলামি সভ্যতায় শীর্ষ স্থানীয় বিজ্ঞানী ও দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) অনেক বৈজ্ঞানিক বিষয় যেমন রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসা, গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ইত্যাদিতে গভীর জ্ঞান প্রদান করেছেন। এমনকি অনেক বিজ্ঞানি, চিকিৎসক ও দার্শনিক তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে জাবির ইবনু হাইয়ান (একজন বিখ্যাত রসায়নবিদ) অন্যতম।

3. তাওহিদ (আল্লাহর একত্ব):
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) তাওহিদের (আল্লাহর একত্ব) গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও প্রদান করেছেন। তিনি আল্লাহর একত্ব ক্ষমতা,এবং মানুষের সাথে সম্পর্কের মধ্যে গভীর দর্শন উপস্থাপন করেছেন। তিনি মানুষের অন্তর ও আত্মার পরিচ্ছন্নতা এবং আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস স্থাপন করার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

4. আধ্যাত্মিক শিক্ষা:
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্যও শিক্ষা প্রদান করেছেন। তিনি ব্যক্তিগত চরিত্র, নৈতিকতা, ধৈর্য, সৎকর্ম ও আত্মসংযমের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তার শিক্ষা ছিল যে, একজন মুসলিমকে শুধু সঠিকভাবে আচার-আচরণ করতে হবে না, বরং তার অন্তরও পবিত্র রাখতে হবে। তিনি মানুষের মধ্যে সহানুভূতি, দয়া, এবং ভালোবাসার চর্চা করতে উৎসাহিত করেছেন।

5. সামাজিক ন্যায় ও শান্তি:
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) তাঁর শিক্ষা ও ধর্মীয় বক্তব্যে সামাজিক ন্যায়ের ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি সমাজে অশান্তি, অবিচার, শোষণ এবং দারিদ্র্য দূর করতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। তিনি সকলের প্রতি সমান অধিকারের ধারণা প্রচার করেছেন এবং মুসলিমদের মধ্যে একতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।

6. আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য:
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) প্রাকৃতিক ঘটনাবলী, পরিস্থিতি, এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আল্লাহর ইচ্ছা ও পরিকল্পনার প্রতি আনুগত্যের বিষয়ে গভীর শিক্ষা প্রদান করেছেন। তিনি বলেছিলেন যে, সমস্ত দুনিয়া আল্লাহর হাতে রয়েছে এবং মুসলিমদের উচিত যে তারা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি আনুগত্য ও বিশ্বাস স্থাপন করা।

7. মতবিরোধ ও বিতর্কের প্রতি সহিষ্ণুতা:
ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মতবিরোধ এবং বিতর্কের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনা ও সমঝোতার দিকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান প্রদান করেছেন। তিনি একে অপরকে শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির মাধ্যমে আলোচনা করতে উৎসাহিত করেছিলেন।

 উপসংহার:
 ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) এর শিক্ষা শুধুমাত্র ইসলামী আইন বা তাওহিদ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মানবতার উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়, আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেছেন। তাঁর শিক্ষা আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি আলোকিত পথপ্রদর্শক হিসেবে বিদ্যমান এবং তার মহান অবদান শিয়া ইসলামের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
__________________________________________

ইমাম আঃ এর সাহায্য : শীয়াদের প্রতি
      ✍️ (অনুবাদ):  মাওলানা কাজিম আলি

জনাবে আল্লামা শেখ হাসান বিন ইউসুফ বিন আলী বিন মোত্বাহার হিল্লী (রহঃ) একজন উচ্চ পর্যায়ের আলিম ছিলেন। হাদীস, কালামে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তিনি নিজের পিতা, মামা এবং খাজা নাছীরুদ্দিন তুসীর ছাত্র ছিলেন। এগারো বছর বয়সে তিনি মুজতাহীদ হন এবং তার থেকে বেশি বয়সের ছাত্রদের পড়াতেন। একদা শিশু বয়সে কোনো একটা ভুলের কারণে পিতা তাকে তাড়া করেন। ফলে হিল্লী (রহঃ) দৌঁড়াতে থাকেন। তিনি যত দৌঁড়ান, পিতাও ততো দৌঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ধরা পড়ার ভয়ে হিল্লী (রহঃ) ওয়াজীব সেজদার একটি আয়েত তেলাওয়াত করেন (এই আয়েতটি পাঠ করলে ও শুনলে সেজদা করতে হয়)। আয়েতটি শোনার ফলে হিল্লী (রহঃ)-এর পিতা সেজদাতে চলে যান, আর হিল্লী (রহঃ) দৌঁড়িয়ে আগে চলে যান। তিনি সেজদা করেননি; কেন না তিনি নাবালক ছিলেন। পিতা সেজদা করার পর আবার হিল্লী (রহঃ)-কে ধরার জন্য দৌঁড়াতে থাকেন। হিল্লী (রহঃ) সুযোগ বুঝে পুনরায় আয়েতটি পাঠ করেন। পিতা আবার সেজদায় চলে যান। এবার সেজদা থেকে মাথা তুলে পিতা নিজের সন্তানের এই ধরনের ইসলামিক জ্ঞান ও বুদ্ধিকে দেখে সন্তুষ্ট হন এবং খুশিতে উৎফুল্ল হয়ে ওঠেন। আর আদর করে নিজের সন্তানকে কাছে ডাকেন। আর সন্তানও পিতার আদরের ডাকে সাড়া দেন। শহীদে ছালিছ ক্বাজী নুরুল্লাহ্ শুস্তারী (রহঃ) আল্লামা (রহঃ) সম্পর্কে "মাজালিসুল মোমেনীন” নামক পুস্তকে এবং অন্যান্য ওলামাগণ এই ঘটনা তাঁদের পুস্তকে তুলে ধরেছেন। ঘটনাটি হ'লঃ আল্লামা হিল্লী (রহঃ) একজন জ্ঞানী ব্যক্তির শিক্ষানবিশ ছিলেন। ঐ জ্ঞানী ব্যক্তি অনেক পরিশ্রমে একটি পুস্তক শিয়াদের বিরুদ্ধে লিখেছিলেন। আর সময় ও সুযোগ বুঝে প্রায়ই সেই পুস্তক থেকে মানুষদের শোনাতেন। কিন্তু পুস্তকটির বক্তব্যের প্রতিবাদ যেন কেউ করতে না পারে, সেই জন্য পুস্তকটি কারও হাতে দিতেন না। আল্লামা হিল্লী (রহঃ) ঐ পুস্তকটি হাতে পাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করতে থাকেন; কিন্তু বারে বারেই ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত তিনি ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে পুস্তক আদান-প্রদানের একটি কৌশল বার করেন। আর এই আদান-প্রদান মাধ্যমের সাহায্যেই ঐ পুস্তকটি হাতে পান এই শর্ত সাপেক্ষে যে, পুস্তকটি একরাতের বেশি সময় কাছে রাখতে পারবে না। এই একরাত সময়কেই আল্লামা হিল্লী (রহঃ) মূল্যবান মনে করে পুস্তকটি নিয়ে বাড়িতে এসেই কপি করতে শুরু করেন। লিখতে লিখতে অর্ধরাত হয়ে যায় এবং প্রচন্ড ঘুম আসে। আর ঐ সময় এক জন ব্যক্তি এসে বললেন, 'তুমি ঘুমিয়ে পড়ো, অবশিষ্ট যা আছে আমি লিখছি'। আল্লামা হিল্লী (রহঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন। কিছুক্ষণ পরে চোখ খুলে দেখলেন ঐ ব্যক্তি আর সেখানে নেই। অথচ পুস্তকটি সম্পূর্ণ লেখা রয়েছে। পুস্তকটির শেষে কয়েকটি কথা লেখা ছিল। তিনি পড়ে দেখলেন লেখা আছে- "কাতাবাহুল হুজ্জাহ্”; অর্থাৎ এটা মাহ্দী লিখেছেন।

সূত্রঃ 
রওযাতুল জান্নাহ্, খন্ড-২ পৃঃ ২৮২; 
জান্নাতুল মাওয়া-- ঘটনা নং ২২, 
নাজমুছ ছাকিব-- ঘটনা নং ১৫।

           বর্তমান অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

১. আমাদের উচিত নিজের মযহাব কে রক্ষা করার চেষ্টা করা।
২. আমাদের এমন কাজ করা উচিত-যা থেকে ইমাম মাহ্দী (আঃ) সন্তুষ্ট হন।
৩. ইমাম আঃ এর সন্তুষ্টি এমন ভাবে অর্জনের চেষ্টা করতে হবে,যাতে স্বয়ং তিনি আমাদের সাহায্যে আসেন।
__________________________________________

আল্লাহর একত্ব (অহদিয়াত) সম্পর্কে দার্শনিক ও কালামি বিশ্লেষণ

সার সংক্ষেপ:
আল্লাহর একত্ব (তাওহিদ ও অহদিয়াত) ইসলামী দর্শন ও কালামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়টি বুদ্ধিবৃত্তিক (আকলী) ও ঐশী (নাকলী) উভয় ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ইসলামী দার্শনিক এবং কালামবিদগণ বিভিন্ন যুক্তি ব্যবহার করে আল্লাহর অদ্বিতীয়তা ও সরল সত্তা (বেসাতাত) প্রমাণ করেছেন। এই প্রবন্ধে আমরা আল্লাহর একত্ব সম্পর্কে প্রধান দার্শনিক ও কালামি যুক্তিগুলো পর্যালোচনা করবো।

১. ভূমিকা:

তাওহিদ, অর্থাৎ আল্লাহর একত্ব, ইসলামী বিশ্বাসের মূল ভিত্তি। এখানে “অহদিয়াত” বলতে বোঝানো হয় যে আল্লাহ এক, সরল, অবিভাজ্য এবং অনন্য। এই ধারণাটি কেবল কুরআন-হাদিসের ভিত্তিতেই নয়, বরং ইসলামী দর্শনেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।এজন্য ফারাবি, ইবনে সিনা, মোল্লা সদরাসহ বিভিন্ন মুসলিম দার্শনিক ও কালামবিদ এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

২. আল্লাহর একত্বের দার্শনিক যুক্তি:

ক) আবশ্যক অস্তিত্বের যুক্তি (ওয়াজিবুল-উজুদ বা সিদ্দীকিনের যুক্তি):

এই যুক্তিটি ইবনে সিনা ও মোল্লা সদরা প্রস্তাব করেন। এটি নিম্নলিখিত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে:

আল্লাহ ওয়াজিবুল-উজুদ, অর্থাৎ এমন এক সত্তা যিনি নিজ সত্তা থেকে অস্তিত্বশীল এবং যিনি অস্তিত্বহীন হতে পারেন না।
যদি দুটি ওয়াজিবুল-উজুদ থাকে, তাহলে তাদের মধ্যে অবশ্যই কোনো পার্থক্য থাকবে।
এই পার্থক্য যদি সত্তাগত (জাতি) হয়, তবে একজন অপরের তুলনায় অসম্পূর্ণ হবে, যা ওয়াজিবুল-উজুদ হতে পারে না।
আর যদি পার্থক্য গুণগত (সিফাতি) হয়, তবে তারা কোনোভাবে যৌগিক হবে, কিন্তু ওয়াজিবুল-উজুদ অবশ্যই সরল (বেসিত) হতে হবে।

তাই, একের অধিক ওয়াজিবুল-উজুদ থাকা সম্ভব নয়, ফলে আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়।

খ) সরলতার যুক্তি (বেসাতাতের যুক্তি)

আল্লাহ যদি যৌগিক (মুরাক্কাব) হতেন, তবে তাঁর সত্তা বিভিন্ন অংশের সমষ্টি হতো।
প্রত্যেক যৌগিক সত্তা তার অংশগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়, কিন্তু আল্লাহ কারো ওপর নির্ভরশীল নন।
সুতরাং, আল্লাহ সরল (বেসিত), অংশহীন এবং অনন্য।

গ) একাধিক সৃষ্টিকর্তার অসম্ভবতা:

যদি দুটি স্বাধীন ঈশ্বর থাকত, তবে তাদের ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য থাকতো।
যদি তাদের ইচ্ছা সবসময় এক হয়, তবে দুটি আলাদা সত্তার অস্তিত্ব অর্থহীন।
আর যদি তাদের ইচ্ছা কখনও ভিন্ন হয়, তবে হয় একজন বিজয়ী হবে (অপরজন দুর্বল হবে), অথবা দুজনই ব্যর্থ হবে—এই দুটি ক্ষেত্রেই তারা সর্বশক্তিমান (কাদিরুল-মুতলাক) হতে পারবে না।
কিন্তু যেহেতু আল্লাহ সর্বশক্তিমান, তাই তিনি অদ্বিতীয়।

৩. আল্লাহর একত্বের কালামি যুক্তি:

ক) “তমানু'” (একাধিক উপাস্যের অসম্ভবতা) যুক্তি:

এই যুক্তি কুরআনের নিম্নলিখিত আয়াতের ওপর ভিত্তি করে:
لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا
"যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।" (সূরা আম্বিয়া: ২২)

এই যুক্তি বোঝার জন্য নিচের ধাপগুলো বিবেচনা করা যায়:

1. যদি একাধিক ইলাহ (উপাস্য) থাকত, তবে তারা সৃষ্টিজগত নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একমত বা ভিন্নমত হতে পারত।
2. যদি তারা একসঙ্গে একমত হতো, তবে তাদের আলাদা আলাদা ইলাহ হওয়ার কোনো মানে থাকত না।
3. যদি তারা ভিন্নমত হতো, তাহলে দুটি সম্ভাবনা থাকত:

ক। একজন বিজয়ী হতো এবং অন্যজন ব্যর্থ হতো (যা তার অক্ষমতা প্রমাণ করে)।
খ। উভয়েই ব্যর্থ হতো, যা তাদের ঈশ্বরত্বের বিপরীত।

4. যেহেতু বাস্তব জগতে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য রয়েছে, তাই একমাত্র একজন স্রষ্টাই বিদ্যমান।

খ) কালামি দৃষ্টিকোণ থেকে ইলাহের একত্ব:

মুতাযিলা মতবাদ: তাঁরা বলেছে, যদি একাধিক আল্লাহ থাকত, তবে তাদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি হতো, যা সর্বশক্তিমান হওয়ার বিপরীত।

আশআরি মতবাদ: তাঁরা বলেছে, আল্লাহ যদি একাধিক হতেন, তবে একে অপরের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করতেন, যা সর্বক্ষমতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

৪. উপসংহার
এই আলোচনার মাধ্যমে বোঝা যায় যে,
দার্শনিক ভাবে, আল্লাহ ওয়াজিবুল-উজুদ, তাই তাঁর একাধিক সত্তা থাকা সম্ভব নয়।
যুক্তিবিদ্যাগত ভাবে, আল্লাহ যদি একাধিক হতেন, তাহলে ক্ষমতার বিরোধ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো।
কালামি ও কুরআনিকভাবে, আল্লাহর একত্ব স্বতঃসিদ্ধ ও প্রমাণিত।
ফলে, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, অংশহীন ও সর্বশক্তিমান—এই সত্য যুক্তি, দর্শন ও ধর্মীয় প্রমাণ দ্বারা নিশ্চিত।

তথ্যসূত্র:
১.ইবনে সিনা, আল-ইশারাত ওয়াত-তানবিহাত,
২.মোল্লা সদরা, আল-হিকমাতুল-মুতাআলিয়াহ
৩.ফখরুদ্দিন রাজী, আল-মাতালিব আল-আলিয়াহ
৪.কুরআন, সূরা আম্বিয়া (২১:২২)
__________________________________________

ইরান কেন পরমাণু অস্ত্র বানায় না?

বর্তমান বিশ্বের সাত আট টি দেশের কাছে পরমাণু বোমা মজুত রয়েছে। অনেক ই মনে করেন যে, পরমাণু বোমা সামরিক শক্তির ভরকেন্দ্র। এবং কোন দেশ পরমাণু বোমা সমৃদ্ধ দেশ হলে অন্যদের কে শঙ্কিত ও সন্ত্রস্ত করে রাখা সম্ভব। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের মূল সংকট থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ইরান যেহেতু সদা তৎপর,তাই ইরানের উচিত দ্রুত পরমাণু বোমা তৈরির কাজ সুসম্পন্ন করা। কিন্তু ইরান পরমাণু বোমা তৈরির বিষয়ে উদাসীনতা করছে কেন?আসুন  এর উত্তর খোঁজা যাক।

পরমাণু বোমা না বানানোর যুক্তি:

ইরান দেশটির কর্মকর্তারা নিজেদেরকে "ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান" বলে (১৯৭৯খ্রিঃ বিপ্লবের পর থেকে) পরিচিত করান। এবং বাস্তবিক ই ইরান ইসলামের যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনেই শাসিত হচ্ছে।এই কারণেই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ভয়ঙ্কর ধ্বংস ক্ষমতা সম্পন্ন পারমাণবিক বোমা তৈরি ও ব্যবহার কে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। ইরানে কোনো সময় পর্বের প্রশাসন যদি কোনো পরিস্থিতি র পরিপ্রেক্ষিতে প্রচণ্ড মারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই বোমা হঠকারি সিদ্ধান্তের কারণে ব্যবহার করে ,তবে ইসলামী নীতি-নিয়ম প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। সুতরাং যা ব্যবহার করা যাবে না,তা তৈরি করার মানে হলো অর্থ অপচয় করা বা তা তৈরি করা এক কথায় নিরর্থক।তাই ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করে না।
       দ্বীনে  ইসলাম একটি সুস্থ, সুন্দর ও সুপরিকল্পিত ধর্ম।এই ধর্মে ধ্বংস নয়,মানবতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।তাই ভয়ঙ্কর মারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পরমাণু বোমা বানানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ইরানী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এটাই ইশারা দিয়েছে যে, ইসলাম কখনোই গণহারে হত্যা ও ধ্বংস র কথা বলে না। ইসলাম শান্তির কথা বলে এবং এ এক অনবদ্য শান্তি র ধর্ম। ইরান পরমাণু বোমা বানানো নিষিদ্ধ করে বিশ্বকে আরও একবার এই গভীর বার্তা দিতে চেয়েছেন।

পরমাণু বোমার কার্যকারিতা ও ব্যবহার:

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সর্বপ্রথম আমেরিকা পরমাণু বোমা ব্যবহার করে।তারপর থেকে আজ অবধি অসংখ্য যুদ্ধ সংগঠিত হলেও কোনো দেশ ই পরমাণু বোমা ব্যবহার করেনি। বিভিন্ন সময় পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছে মাত্র। বাস্তবতা হলো কোনো দেশ বর্তমান সময়ে নানা পরমাণু বোমা কারণে ব্যবহার করতে পারবে না। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক
সম্প্রদায়ের চাপ এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও একঘরে হয়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে। আমেরিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিও যদি এই বোমা ব্যবহার করে তবে ঘরে বাইরে প্রবল চাপ এবং আমেরিকার ভাবমূর্তি এতটাই খারাপ হয়ে পড়বে যে ,তা আর পুনরুদ্ধার সম্ভব নয়( দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকা এই বোমা যখন ব্যবহার করে,তখন পরিবেশ ও পটভূমি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল)।

ইরান কি কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না:

ইসলামী নীতিমালা অনুযায়ী ইরান কখনো পরমাণু বোমা বানাবে না।তবে যদি কখনো ইরান আক্রান্ত হয় বা ইরানের পরমাণু স্থাপনা আক্রান্ত হয়,তবে নিজেদের রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পরমাণু বোমা বানানোর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে।গত কয়েকদিন আগে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার উপদেষ্টা এমন ই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসলামে মিথ্যা বলা হারাম; কিন্তু জীবন বাঁচানোর জন্য মিথ্যা জায়েজ আছে। অনুরূপ পরমাণু বোমা বানানো হারাম, কিন্তু দেশকে রক্ষা করার জন্য পরমাণু বোমা বানানোর ক্ষেত্রে ছাড় দেবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

__________________________________________


__________________________________________

যুবকদের আলোকিত পথ--- আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সিসতানীর (হাফিযাহুল্লাহ) অমূল্য আট উপদেশ।    

অনুবাদ ও সংকলন:✍️ মইনুল হোসেন

ভূমিকা
একদল বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ আয়াতুল্লাহ আল-সিসতানী (হাফিঃ)-এর কাছে পরামর্শ প্রার্থনা করলে, তিনি গভীর দরদ আর অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের উদ্দেশ্যে আটটি উপদেশ তুলে ধরেন। এই উপদেশাবলী শুধুই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ নয়, বরং নৈতিকতা, জীবিকা, পরিবার, সমাজ ও আত্মিক উন্নতির পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। নিচে উপদেশগুলো সংক্ষিপ্তভাবে অনুবাদ করে পেশ করা হল, যাতে আমাদের তরুণ ভাই-বোনেরা তা থেকে আলো গ্রহণ করতে পারেন।

১. আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা
বিশ্বের প্রতিটি অনু-পরমাণু আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়। জীবনের যে কোনও পর্যায়ে, বিশেষত যৌবনের ঘূর্ণিপাকে, এই বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হবেন না। একবার সরে গেলে ফেরত আসা কঠিন হয়ে পড়ে।

২. উত্তম চরিত্র গঠন করা
আল্লাহর নিকট প্রিয় সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম। জ্ঞান, ধৈর্য, নম্রতা, ক্ষমাশীলতা—এই গুণগুলির চর্চা করুন। নিজের ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধনের চেষ্টা করুন। এর জন্য আল্লাহ্ অধিক পুরস্কার দেন।

৩. হালাল পেশা বা দক্ষতা অর্জন করা
যৌবনকাল ব্যয় করুন কোনও হালাল পেশা বা কল্যাণকর দক্ষতা অর্জনে। খেলাধুলা ও অলসতায় সময় নষ্ট নয়। পরিশ্রমী মানুষ আল্লাহর প্রিয়, অলস ও নির্ভরতাশীল ব্যক্তি তাঁর অপছন্দ।

৪. ভালো কাজ করা ও গুনাহ পরিহার করা
সৎ কাজ উন্নতি আনে, পাপ কাজ অভিশাপ ডেকে আনে। ন্যায়পরায়ণতা, আমানতের হেফাজত, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করুন। রিয়াকারী, অশ্লীলতা, অহংকার, হিংসা—এসব থেকে দূরে থাকুন।

৫. বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করা
পরহেজগার জীবনসঙ্গী নির্বাচন করুন। সৌন্দর্যের মোহ নয়, চরিত্রের শক্তিই বিবাহে বরকত আনে। সন্তান প্রতিপালনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলুন।

৬. মানুষের উপকার করা
পারস্পরিক সহানুভূতি ও কল্যাণই সমাজের ভিত্তি। এতিম, বিধবা, অভাবীদের পাশে দাঁড়ান। সত্যিকারের মুমিন সে, যে নিজের মতো অন্যের ভাল চাই।

৭. দায়িত্বশীল হওয়া
পরিবার হোক বা সমাজ—আপনার দায়িত্ব বুঝে পালন করুন। বিশ্বাসঘাতকতা নয়, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতাই হোক আপনার পরিচয়।

৮. জ্ঞান অর্জন ও আত্মবিশ্লেষণ করা
প্রতিদিন নিজের কর্ম, অভিজ্ঞতা ও চারপাশের ঘটনা থেকে শিখুন। জীবনের প্রতিটি ঘটনার পিছনে রয়েছে এক শিক্ষা, এক অর্থ।
বিশেষত এই তিনটি কিতাবের সঙ্গ পাথেয় করুন:

কুরআন মাজিদ – আল্লাহর শেষ ও চিরন্তন বার্তা।

নাহজুল বালাগা – কুরআনের মর্মবাণীর ব্যাখ্যা ও প্রজ্ঞার সাগর।

সাহিফা সাজ্জাদিয়্যাহ – হৃদয় নিংড়ানো দোয়ার ভাষায় আত্মশুদ্ধির দিশা।

উপসংহার
এই আটটি উপদেশ যেন প্রতিটি তরুণের জীবনের মানচিত্র হয়—যা তাকে আলোর পথে, সাফল্যের পথে, আত্মার মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করেন।

“নিশ্চয়ই আল্লাহ সফলতার দাতা”
__________________________________________

ইমামে জামানা (আ.) এর গায়বাত: একটি গভীর বিশ্লেষণ


ইসলামের ইতিহাসে ইমামে রব্বানী জামানা (আ.) তথা দ্বাদশ ইমাম  হযরত ইমাম মাহদি (আ.)-এর গায়বত (অদৃশ্য থাকা) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় অধ্যায়। মহান আল্লাহর হিকমতের অধীনে ইমাম মাহদি (আ.) গায়ব আছেন এবং শেষ যুগে প্রকাশিত হয়ে মানবতাকে ন্যায়বিচার ও সত্যের দিকে পরিচালিত করবেন। এই প্রবন্ধে আমি গায়বতের কারণ, প্রকারভেদ এবং মানবজাতির উপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবো।


            গায়বতের সংজ্ঞা ও প্রকৃতি

'গায়বত' শব্দটি আরবি "غيب" ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার *অর্থ লুকিয়ে থাকা বা অদৃশ্য হওয়া*। ইসলামী পরিভাষায়, ইমাম মাহদি (আ.)-এর গায়বত বলতে বোঝায়—তিনি সাধারণ মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে অবস্থান করছেন, কিন্তু এই জগতে বিদ্যমান আছেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় একদিন প্রকাশিত হবেন।

              গায়বতের শ্রেণি বিভাগ
 ইমাম মাহদী আঃ এর গায়বতকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে-

 1. গায়বতে ছোগরা (ক্ষুদ্র গায়বত): এটি ২৬০ হিজরী থেকে ৩২৯ হিজরী পর্যন্ত স্থায়ী ছিল, যখন ইমাম মাহদি (আ.) বিশেষ প্রতিনিধিদের (নায়েবে খাস) মাধ্যমে শিয়াদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন।


 2. গায়বতে কুবরা (বৃহৎ গায়বত): ৩২৯ হিজরী থেকে শুরু হয়ে বর্তমান পর্যন্ত চলছে, যখন কোনো নির্দিষ্ট প্রতিনিধি নেই এবং ইমাম মাহদি (আ.) সরাসরি উপস্থিত থাকলেও সাধারণ মানুষের দৃষ্টির অন্তরালে আছেন।

           গায়বতের কারণ ও দর্শন

ইমাম আঃ এর গায়বত সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস ও ঐতিহাসিক দলিল থেকে কয়েকটি মূল কারণ তুলে ধরা যায়:

 1. পরীক্ষা ও পরিশুদ্ধি: গায়বতের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করছেন—কে প্রকৃত মুমিন, আর কে নামমাত্র মুসলমান।


 2. শত্রুদের অত্যাচার: ইসলামের শত্রুরা পূর্ববর্তী ইমামদের হত্যা করেছে, তাই আল্লাহ তাঁর হিকমতের দ্বারা দ্বাদশ ইমামকে গায়েব রেখেছেন,যাতে তাঁর জীবন নিরাপদ থাকে।

3. ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতি: গায়বাতের মাধ্যমে বিশ্ব মানবতা ধাপে ধাপে প্রস্তুত হচ্ছে ন্যায়ের পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য, যেখানে ইমাম মাহদি (আ.) নেতৃত্ব দেবেন।


 4. মানবজাতির আত্মিক পরিপক্বতা: মানুষকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে যেখানে তারা স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে আল্লাহর বিধান গ্রহণ করবে।


      গায়বাতের যুগে আমাদের করণীয়

 ইমামের গায়বাতের যুগে আমাদের দায়িত্ব হলো:

1. প্রতীক্ষা ও প্রস্তুতি: ইমামের আগমনের জন্য অপেক্ষা শুধু বসে থাকার নাম নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, জ্ঞান অর্জন, এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা।


 2. ইমামের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি: ইমাম আঃ এর জন্য দোয়া করা,দোয়া এ নুদবাহ,দোয়া এ আহদ, জিয়ারতে আসলে ইয়াসিন ইত্যাদি ইমাম আঃ সম্পর্কিত দোয়া ও জিয়ারত পাঠ করা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা।


 3. অহংকার ও বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকা: অনেক ভণ্ড নিজেদের ইমামের প্রতিনিধি বলে দাবি করে, তাই সত্য ও মিথ্যা যাচাই করার যোগ্যতা অর্জন করা জরুরি।


 4. একতা ও ভ্রাতৃত্ব: মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা এবং সত্যের পথে দৃঢ় থাকা।

         ইমাম মাহদি (আ.) এর পুনরাগমন ও 
                       বিশ্বপরিবর্তন:

ইমামের পুনরাগমন সম্পর্কে মহানবী (সা.) ও ইমামগণের বহু ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। তিনি যখন প্রকাশিত হবেন, তখন পৃথিবী অন্যায় ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ থাকবে, এবং তিনি ন্যায় ও ইনসাফ দিয়ে একে পরিবর্তন করবেন।

কুরআনে বলা হয়েছে:
 "আর আমি তাদের ইমাম করবো যারা পৃথিবীতে দুর্বল ও নিপীড়িত ছিল এবং আমি তাদের উত্তরাধিকারী করবো।" (সূরা কাসাস: ৫)

                    উপসংহার

ইমাম মাহদি (আ.)-এর গায়বাত কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। এটি আমাদের জন্য একটি পরীক্ষা ও প্রস্তুতির সময়। প্রকৃত মু’মিনদের উচিত ধৈর্য, ন্যায়পরায়ণতা ও সত্যের পথে অবিচল থাকা। আমরা যদি সত্যিকারভাবে তাঁর অনুসারী হতে চাই, তবে আমাদের উচিত ন্যায়ের পথে চলা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং আল্লাহর বিধানকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

যে দিন তিনি প্রকাশিত হবেন, সে দিন পৃথিবী ন্যায় ও শান্তিতে ভরে উঠবে—এজন্য আমাদের সকলের প্রতীক্ষা।

اللهم عجل لوليك الفرج 🤲🤲
(হে আল্লাহ! তোমার ওলির আগমণ দ্রুততর করুন)।🤲🤲
_________________________________________

 মা-বাবা ও শিক্ষকের হক : কুরআন ও রেসালাতুল হুকুক-এর দৃষ্টিতে (অনুবাদ)

وَقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ
إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ
وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا

"তোমার প্রভু আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁরই ইবাদত করো এবং পিতামাতার প্রতি সদয় হও। যদি তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ্‌’ পর্যন্ত বলো না, এবং তাদের ধমক দিও না। তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।"
(সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ২৩)


ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং নানাবিধ নিয়ামতে পরিপূর্ণ করেছেন। তাঁর প্রতি শুকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য। কুরআনের অসংখ্য জায়গায় তিনি পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

পিতামাতা এমন এক অমূল্য নিয়ামত, যাদের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। আর শিক্ষক—তিনি সেই প্রদীপ, যিনি অন্ধকারে পথ দেখান।
এই নিবন্ধে আমরা সংক্ষেপে আলোচনা করবো মা, বাবা ও শিক্ষকের হক সম্পর্কে, যা ইমাম আলী (আ.)-এর ‘‘রিসালাতুল হুকুক’’-এ বর্ণিত রয়েছে।


                  মায়ের হক

তোমার মায়ের অধিকার হলো—তুমি জানো যে, তিনি তোমাকে বহু কষ্টে গর্ভে ধারণ করেছেন, যেমন কেউ কাউকে বহন করে না।
তিনি তাঁর হৃদয়ের ফল, নিজের দুধ দিয়ে তোমাকে আহার করিয়েছেন। নিজের কান, চোখ, হাত, পা, চুল, চামড়া দিয়ে খুশিমনে তোমার ভার বহন করেছেন।
যদিও এর ফলে তিনি ভোগ করেছেন সীমাহীন কষ্ট। তিনি নিজে ক্ষুধার্ত থেকেছেন, কিন্তু তোমাকে খাইয়েছেন। নিজে তৃষ্ণার্ত থেকেছেন, কিন্তু তোমায় পানি দিয়েছেন।
নিজে রোদে থেকেছেন, কিন্তু তোমাকে রেখেছেন ছায়ায়। তাঁর ঘুম গেছে তোমার ঘুমের জন্য, তাঁর ক্লান্তি হয়েছে তোমার শান্তির জন্য। তাঁর পেট ছিল তোমার প্রথম আশ্রয়, তাঁর বুক তোমার দুধের ঝর্ণা, তাঁর জীবন ছিল তোমার প্রহরী।
সুতরাং তোমার কর্তব্য হলো—তাঁর কষ্ট ও ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞ হও। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ছাড়া তুমি সেই কৃতজ্ঞতা কখনোই পূর্ণ করতে পারবে না।


                     পিতার হক

তোমার পিতার অধিকার হলো—তুমি জেনে রাখো, তিনিই তোমার মূল ও ভিত্তি; তুমি তাঁর শাখা। যদি তিনি না থাকতেন, তবে তুমি থাকতেই না ।অতএব, যখন তুমি নিজের মাঝে কোনো গুণ বা সাফল্য দেখে গর্বে ভরে ওঠো, তখন চিন্তা করো—এই আশীর্বাদের মূল কারণ তোমার পিতা।

এই উপলব্ধি তোমার মধ্যে জন্ম নিক বিনয় ও কৃতজ্ঞতার। আল্লাহর প্রশংসা করো, কারণ শক্তি ও সামর্থ্য শুধু তিনিই দেন।


                 শিক্ষকের হক

 তোমার ওপর শিক্ষকের হক হলো—তুমি তাঁকে সম্মান করবে, তাঁর শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকার করবে।
তাঁর শিক্ষায় মনোযোগ দিবে, হৃদয় খুলে গ্রহণ করবে। তুমি তাঁর সহায়তা করবে যেন তিনি তোমাকে শিক্ষাদানে সফল হন। তাঁর শেখানো জ্ঞানের বাহক হিসেবে নিজেকে বিবেচনা করবে।
আর এই জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে সততার সঙ্গে। কারণ, জ্ঞান একটি আমানত। তা পৌঁছে দেওয়া, রক্ষা করা—তোমার দ্বায়িত্ব। মনে রেখো, সত্যিকার শক্তি ও প্রজ্ঞা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।


                         উপসংহার

মা, বাবা এবং শিক্ষক—তাঁরা আমাদের জীবনের তিনটি অমূল্য রত্ন।
তাঁদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানানো শুধু কর্তব্য নয়, বরং ইবাদতের অংশ।
এই হক আদায় করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই আলোকিত হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমিন।


সূত্র: রিসালাতুল হুকুক (ইমাম আলী ইবনে হুসাইন, জাইনুল আবেদীন আ.)

__________________________________________------------------------------------------------

📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃  📃   📃  কবিতায় দ্বীনি বার্তা  🧾  🧾  🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜


আগমন কবে হবে?

সুদূর দিগন্তের দিকে অপেক্ষাই
পথ চেয়ে আছি,
আপনার আগমনের জন্য 
আমি অস্থির হয়ে আছি।।

অন্ধকার পৃথিবীতে
আবির্ভাবের আলো কবে ফুটিবে?
তার জীবনের দীর্ঘায়ুর
অবশান কবে ঘুচিবে?

স্মরণ করেছি আপনাকে
আলে-ইয়াছিন,আহাদ কিংবা নুদবাতে,
আবির্ভাব কবে হবে ? 
এই কুসংস্কারময় পৃথিবীতে।

আপনার সাথে সাক্ষাতের 
জন্য আরিজাতে লিখেছি,
আপনাকে দেখবার জন্য
আজাখানাতে খুঁজেছি।

হে! মোর খোদা 
পাঠিয়ে দাও শেষ হুজ্জাত কে,
ন্যায় বিচারে পরিপূর্ণ করিবে
এই নষ্করময় পৃথিবীকে।

অশ্রু থামেনা আপনার
দীর্ঘমেয়াদীর কষ্টের জন্য,
আমি আজও আছি অপেক্ষায়
আপনার আবির্ভাবের জন্য।।
_________________________________________

         আল-হুজ্জাতের আহ্বানে

আলোর পথের পত্রিকা, নাম ‘আল-হুজ্জাত’
শিয়া হৃদয় জাগায় বাংলা য়, জ্ঞানের প্রভাত;
দু’হাতে তুলে দেয় দীপ্তি, ইমামদের চিন্তাধারা
অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালায়, হৃদয়-আলো করা।

মাওলানা কাজিম আলী,ইনিই  হলেন কাণ্ডারি
কলমে তাঁর ঝরে লেখা, বাংলা র অলি-গলি;
ত্রৈমাসিকে প্রথম যাত্রা, স্বপ্ন ছিলো পবিত্র
বাংলা র জমিনে বসে বীজ বুনেছে  বিচিত্র।

ইমামে যামানার প্রেমে, হৃদয় করে জাগরণ,
এই পত্রিকা তারই বাহক, করে নব নির্মাণ;
কুম থেকে কবির আলী, মাশহাদে সুজা ভাই,
ইস্পাহানে রিপনের কলম,দ্বীনের বাণী গায়।

মইনুল হোসেন ছড়ায় কবিতা, ইসলামের পথে,
রাজার ছোঁয়ায় জ্যোতি নামে, মিনহাজ থাকে সাথে।
মুন্তাজির গাজীর হাতে, সুশ্রুত কথার মায়া,
তাঁদের কলম স্রোতের মতো, বয়ে আনে হায়া।

‘আল-হুজ্জাত’ আজও বলে যায়, প্রাণে নিয়ে শক্তি
ইমামের নামে দিগন্ত জয়ের, রচে নতুন মুক্তি;
এসো সবাই পড়ি আমরা, এই পত্রিকার পাতা,
আল্লাহর আনুগত্য করো, তিনিই একমাত্র ত্রাতা।

_____________________________________
 
                      
     কাসেম সোলাইমানি
          ✍️ রাজা আলী 

সিরিয়া আজ ধুঁকছে 
বন্ধুকে আজ খুঁজছে 
হে কাশেম,অভাব তোমার 
সিরিয়ান রা ভালোই বুঝছে।

তুমি চুপি চুপি চলে গেলে
কিছু বলে, কিছু না বলে
তুমি ছিলে মুক্তিদাতা সিরিয়ার 
তোমার অভাব ওরা বুঝছে।

তুমি ইরানি, কিন্তু শুধু ইরানের নও
ফিলিস্তিন,ইরাকের পতাকা ওড়াও
বুঝবে একদিন তোমাকে বুঝবে
তোমার আদর্শকেই ওরা খুঁজবে।

প্রতিরোধ ছাড়া মুক্তি আজ স্বপ্ন 
ভালো সাজলে শত্রুরা ভাবে রুগ্ন 
তাই লাঠির বদলা শুধু ই লাঠি 
নেড়েছিলে প্রতিরোধের কলকাঠি।

হে বীর,তোমার অভাব আজ বড়ো
প্রতিরোধ আন্দোলন হোক জড়ো
তোমার রক্তে রঞ্জিত ইরাকের মাটি
কারবালা তেই বিপ্লব হয়েছিল খাঁটি।


No comments:

Post a Comment

আল-হুজ্জাত মাসিক পত্রিকা_ (অনলাইন সংস্করণ)_ সফর সংখ্যা

            আরবি : সফর, ১৪৪৭ হিজরী ইংরেজি : আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ __________________________________________               সম্...