আরবি: রমযান, ১৪৪৭ হিজরী
ইংরেজি: মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________
সম্পাদক :
সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী
প্রচ্ছদ ভাবনা:
অনলাইন সম্পাদনা ও তথ্য সংযোজন:
প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী
বকচরা, মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা
__________________________________________
সূচিপত্র
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
সম্পাদকীয়
ইসলাম প্রচারে বিবি খাদীজা কুবরা (সা:আ:) এর ভূমিকা
ইমাম হাসান (আ.)-এর সন্ধি
✍️ মইনুল হোসেন
নাফস কে চেনা মানে আল্লাহ কে চেনা
ইমামে জামানা (আ:)-এর পছন্দের রোজা
ইমাম মাহদী আঃ এর অন্তর্ধানে আমাদের ফায়দা বা লাভ (সংগৃহীত)
✍️ রাজা আলী
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
বরকত ও বেদনা
বীর খামনেয়ী
✍️ মইনুল হোসেন
খামিনি
✍️ রাজা আলী
রমযান ও ইমামে জামানা (আ.)
__________________________________________
__________________________________________
সম্পাদকীয়
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
আলহামদুলিল্লাহ। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে পবিত্র রমযান মাস আবারও আমাদের জীবনে উপস্থিত হয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে। এই বরকতময় মাস কেবল রোজা পালনের সময় নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। রমযান আমাদের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে, ঈমানকে দৃঢ় করে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার নতুন শক্তি জাগিয়ে তোলে।
আল হুজ্জাত মাসিক পত্রিকার এই রমযান সংখ্যাও সেই চেতনাকেই ধারণ করার এক বিনম্র প্রয়াস। কুরআনের শিক্ষা, আহলে বাইত (আ.)–এর আদর্শ এবং ইমামে যামানা (আ.)–এর প্রতীক্ষার দায়িত্ববোধ—এই সবকিছুর আলোয় আমরা পাঠকদের হৃদয়ে আত্মজাগরণের একটি ক্ষুদ্র প্রদীপ জ্বালাতে চাই।
রমযান আমাদের শেখায় তাকওয়া, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ। যদি আমরা এই মাসের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি, তবে ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ই নৈতিকতা ও সত্যের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
এই রমযান সংখ্যাকে সামনে রেখে আমরা আবারও অঙ্গীকার করছি—কুরআনের আলো ও ইমামে যামানা (আ.)–এর চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সত্যের পথে কলম চালিয়ে যাওয়ার। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের এই প্রচেষ্টা কবুল করেন। আমিন।
ওয়াস সালাম
সম্পাদক
__________________________________________------------------------------------------------
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
রেওয়ায়েতের আলোকে ইমাম মাহ্দী (আঃ) (অনুবাদ)
রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ " আমি তোমাদেরকে মাহ্দী (আঃ)-এর আবির্ভাবের সুখবর দিচ্ছি-যাকে আমার উম্মতদের মাঝে পাঠান হবে। তাঁকে এমন সময়ে পাঠান হবে, যে সময়ে মানুষ পথভ্রষ্ট ও বিপথগামী হবে এবং দোলাচলতার মাঝে বিভ্রান্ত হবে”।
ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর গুণাবলী ও আবির্ভাবের বিষয়ে রাসুল (সাঃ) ও মাছুমীনগণ (আঃ) -দের থেকে এত পরিমাণে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, আমীরুল মোমেনীন (আঃ) ব্যতীত অপর কোনো মাসুমের সম্পর্কে এত পরিমাণে হাদীস বর্ণিত হয়নি। উল্লেখ্য, এই হাদীসগুলি সবই এসেছে বিশ্বস্ত রেওয়ায়েত সূত্রে। আশ্চর্যের বিষয় হল যে, ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বেই কিছু সাহাবীগণ তাঁকে ভিত্তি করে পুস্তক লেখেন। শীয়াদের পুস্তকগুলির সঙ্গে সঙ্গে সুন্নিদের পুস্তকের মধ্যেও ইমাম মাহ্দী (আঃ) সম্পর্কে রেওয়ায়েত সমূহ ধারাবাহিক ভাবে আজও বিদ্যমান। আহলে সুন্নতের বহু পুরাতন পুস্তক 'মাসনাদে আহমাদ বিন হাম্বালের' (হিজ্বরী ২৪১) মধ্যে ইমাম মাহদী (আঃ)-এর সম্পর্কে আনুমানিক ১০০ টির মতো হাদীস আছে। আর পরবর্তী লেখকগণ তাঁদের পুস্তকের (যেমন, সুনানে ইবনে দাউদ (২৭৫ হিজুরী), ইবনে মাজাহ্ (২৯৩ হিজ্বরী), তিরমিযী (২৯৭হিজ্বরী)} মধ্যে ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর বিষয়ে একটি করে অধ্যায় স্থান দিয়েছেন। এছাড়াও আজ পর্যন্ত আহলে সুন্নতের লেখকদের ১৫০ টি এমন পুস্তক আছে-যা সম্পূর্ণ ইমাম মাহ্দী (আঃ)-কে বিষয় করে লেখা। আর হাজার হাজার এমন পুস্তক পাওয়া যায়, যার মধ্যে ইমাম মাহ্দী (আঃ) সম্পর্কে পৃথক অধ্যায় স্থান পেয়েছে। শীয়াদের পুস্তকগুলির মধ্যে ইমাম মাহদী (আঃ) সম্পর্কে এমন কিছু রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে, যে গুলির মধ্যে রাসুলে খোদা (সাঃ) এবং ইমামগণ (আঃ) ব্যতীত অন্যান্য সূত্র থেকে ইমাম মাহ্দী (আঃ) ও তাঁর আবির্ভাবেরে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। 'মুন্তাখাবুল আছার' নামক পুস্তকে আনুমানিক এমন-ই ১৩০০ রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে। আর ইমাম মাহ্দী (আঃ)-কে বিষয় করে লেখা শীয়া আলীমদের পুস্তকের সংখ্যা বর্তমানে চার শতাধিক।
শীয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবের কাছে ইমাম মাহ্দী (আঃ) সম্পর্কে অত্যাধিক পরিমাণে হাদীস থাকার কারণে ইমামত বিষয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর আবির্ভাব বিষয়ে উভয় মাযহাব সহমত পোষণ করে। আহলে সুন্নত ইমাম মাহ্দী (আঃ) সম্পর্কে পয়গম্বার (সাঃ) থেকে রেওয়ায়েত করেছেনঃ
" যে মাহ্দীকে অস্বীকার করবে, সে কাফির” (অনুবাদ)। আহলে সুন্নতের মধ্যে এই হাদীসটিও বর্ণিত আছে যে, পয়গম্বার (সাঃ) এরশাদ করেছেনঃ
“ যদি পৃথিবীর বয়স একদিন থেকে থাকে, তাহলে আল্লাহ্ ঐ দিনকে খুবই দীর্ঘায়িত করবেন, এবং একজন ব্যক্তিকে (যে আমার সন্তানদের মধ্যে থেকে হবে এবং যার নাম
_________________________________________
ইসলাম প্রচারে বিবি খাদীজা কুবরা (সা:আ:) এর ভূমিকা
বিবি খাদীজা কুবরা (সা:আ:) ইসলাম প্রচারের ইতিহাসে একটি অন্তর্ভুক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তিনি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রথম স্ত্রী এবং ইসলাম ধর্মের প্রথম অনুসারী। তার ভূমিকা ইসলাম প্রচারের শুরুতে অসামান্য ছিল।
*### ১. সমর্থন ও উৎসাহ:*
বিবি খাদীজা (সা:আ:) ছিলেন এক শক্তিশালী ও সফল ব্যবসায়ী। তিনি মহানবী (সাঃ) এর প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের প্রাথমিক কঠিন সময়ে তাঁকে সমর্থন করেন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস এবং উৎসাহ নবীর কাছে অপরিসীম সহায়তা প্রদান করেছে।
*### ২. অর্থনৈতিক সহায়তা:*
মহানবী (সাঃ) যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন অনেক সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখী হন। বিবি খাদীজা (সা:আ:) তাঁকে অর্থনৈতিক জোরদার সহায়তা প্রদান করেন, যা ইসলাম প্রচারের কাজে অনেক সাহায্য করেছে। তিনি তার ব্যবসায়ে আয় হওয়া অর্থ ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। বিবি খাদীজা (সা:আ:) সম্পর্কে নবী (সাঃ) বলেন:
"খাদীজা আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় স্ত্রী, যিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন, এবং আমার জন্য সমস্ত কিছু ত্যাগ করেছেন।"
*### ৩. সামাজিক মর্যাদা:*
বিবি খাদীজা (সা:আ:) এর সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা ইসলাম ধর্মের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। তাঁর উচ্চ রক্তের সাথে মহানবী (সাঃ) এর সম্পর্ক মুসলিম সমাজে এক শক্তিশালী উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল।
*### ৪. প্রথম মুসলিম:*
তিনি প্রথম মহিলা হিসাবে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত মুসলিম সমাজে অন্যদের জন্য এক উদাহরণ সৃষ্টি করে, যে নারীরাও ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
একটি হাদিস অনুসারে, নবী (সাঃ) বলেন:
"শব্দাবলী" অর্থাৎ খাদীজা (সা:আ:) ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তিনিই আমার প্রথম সমর্থক।
*### ৫. মানসিক সহায়তা:*
মহানবীর জন্য বিবি খাদীজা (সা:আ:) কেবল একজন স্ত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি তার সেরা বন্ধু এবং সহায়কও ছিলেন। মহানবীর কঠিন সময়ে তার পাশে থেকে তিনি মানসিক সহায়তা প্রদান করেছেন, যা নবীর কাজকে আরো শক্তিশালী করেছে।
নবী (সাঃ) যখন প্রথমবার একটি নবুওয়াতের প্রচার কলেন, তখন তিনি খাদীজা (সা:আ:) এর কাছে যান। তিনি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সাহস দেন এবং বলেন:
"তুমি কখনো নষ্ট হবে না, কারণ তুমি সৎ, সত্যবাদী এবং পরোপকারী।"
বিবি খাদীজা (সা:আ:) সম্পর্কে হাদিসে তাঁর মর্যাদা, চরিত্র ও মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে তাঁর সম্পর্কের প্রতিফলন রয়েছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো:
*### জান্নাতের গণ্ডী:*
একাধিক হাদিসে উল্লেখ আছে যে, জিব্রাইল আলাইহিস সালাম নবী (সাঃ) কে একটি বার্তা দেন, যেখানে আল্লাহরাসুল (সাঃ) খাদীজা (সা:আ:) কে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। এটি তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ।
*### নারীর মর্যাদা:*
মহানবী (সাঃ) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
"মুহাম্মদ (সাঃ), খাদীজা (সা:আ:) এর কথা শুনে তাঁর বিশ্বাসে গভীরভাবে প্রভাবিত হন এবং স্ত্রী হিসাবে তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেন।"
*### উপসংহার:*
বিবি খাদীজা (সা:আ:) এর অবদান শুধুমাত্র ইসলামের প্রাথমিক সময়ে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ইসলামের যে কোনো পাঠ ও বিশ্বাসে নারীর ভূমিকার গুরুত্বকে প্রমাণ করেছে। তিনি মুসলিম উম্মাহর ইতিহাসে এক দৃষ্টান্তস্বরূপ নারী হিসাবে চিরক ।
বিবি খাদীজা (সা:আ:) এর অবদান ও গুরুত্ব ইসলামের ইতিহাসে অপরিসীম। তিনি শুধু একজন স্ত্রীই নন, বরং একজন সাহাবী, যিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ও ভালোবাসা সম্পর্কে নবী (সাঃ) এর উক্তিগুলি এটি প্রমাণ করে যে, নারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব ইসলামী সমাজে কতটা বিশাল।
__________________________________________
ইমাম হাসান (আ.)-এর সন্ধি
✍️ মইনুল হোসেন
রমজান মাসের ১৫ তারিখ হল আহলেবাইত (আ.) পরিবারের দ্বিতীয় ইমাম হজরত হাসান আল-মুজতবা (আ.)-এর জন্মদিন। তিনি ৩ হিজরি সনে মদিনা শহরে ইমাম আলি (আ.) ও বিশ্বনবী (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় কন্যা হজরত ফাতেমা (সা.)-এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। হিজরি ৪০ সনে তাঁর পিতার শাহাদাতের পরে ইমাম হাসান (আ.) ইমামত ও খিলাফতের দায়িত্ব লাভ করেন। কিন্তু তৎকালীন দামেস্কের গভর্নর মুয়াবিয়া ইমাম হাসানের খিলাফতকে অস্বীকার করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন-ঠিক যেমনটি তিনি পূর্বে ইমাম আলী (আ.)-এর বিরুদ্ধেও যুদ্ধ করেছিলেন।
উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলমানদের নিজেদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে এবং ইসলামী ঐক্যকে শক্তিশালী করতে ইমাম হাসান (আ.) মুয়াবিয়ার সাথে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যদিও ক্ষমতা লাভ করার পরে মুয়াবিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করেন এবং যেটি শেষ পর্যন্ত ইসলামী ইতিহাসের অন্যতম হৃদয়বিদারক ও দুঃখজনক কারবালা’র মতো ঘটনার দিকে ধাবিত করে।
হজরত মুয়াবিয়া ইমাম হাসান (আ.)-এর খিলাফতের আগেই বৈধ খলিফা ইমাম আলী (আ.)-এর বিরুদ্ধেও সিফফিনের মতো যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়া হজরত রাসূল (সা.)-এর প্রবীণ সাহাবী আম্মার (রা.)-কে হত্যা করেন। অথচ রাসূল (সা.) আগেই বলেছিলেন যে, আম্মার একদল ‘বিপথগামী বিদ্রোহী গোষ্ঠী’র হাতে শহীদ হবেন। এখন প্রশ্ন হতে পারে যে, এমন একজন ব্যক্তি যে কীনা অনেক অপরাধের সাথে জড়িত, তার সাথে কীভাবে রাসূল (সা.)-এর নাতি এবং জান্নাতের যুবকদের সর্দার ইমাম হাসান (আ.) শান্তি চুক্তি বা সন্ধি করলেন?
দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই ইমাম হাসান (আ.) মুয়াবিয়ার প্রতারণা ও ছলচাতুরী সম্পর্কে মুসলমানদেরকে সচেতন করতে থাকেন এবং মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার নির্দেশ দেন। ইমাম হাসান (আ.) তাঁর অনুসারীদের মধ্য থেকে সেনাবাহিনী গঠন করেন। তবে তাঁর সেই সেনাবাহিনী ছিল বিচিত্র ও ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যধারী মানুষের সমষ্টি। সেখানে কিছু প্রকৃত মুমিন থাকলেও অধিকাংশই যোগ দিয়েছিলেন কেবল যুদ্ধ থেকে মালে গণিমত পাওয়ার লোভে অথবা দ্বিধাবিভক্ত আনুগত্য নিয়ে। এমনকি কিছু খারেজিও সেই বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল - যারা ইমামের প্রতি ভালোবাসার কারণে নয় বরং মুয়াবিয়াকে খেলাফত থেকে সরিয়ে নিজেদের লক্ষ্য হাসিলের জন্য এসেছিল। অন্যরা এসেছিল কেবল তাদের গোত্রীয় নেতাদের নির্দেশে, সত্যের জন্য লড়াই করার কোনো চেতনা তাদের মধ্যে ছিল না।
যুদ্ধের আগে মুয়াবিয়া অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইমামের বাহিনীর শক্তি ভেঙে দিতে উদ্যত হন। এমনকি তিনি ইমাম হাসানের (আ.) সেনাপতি উবায়দুল্লাহ ইবনে আব্বাসকে প্রতারিত করেন এবং ঘুষ প্রদান করেন। মুয়াবিয়া তাঁকে ১০ লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে তাঁর সৈন্যদের নিয়ে মুয়াবিয়ার বাহিনীতে যোগ দিতে প্ররোচিত করেন। ফলস্বরূপ, উবায়দুল্লাহ রাতে ইমাম হাসানের বাহিনী ত্যাগ করে ৮,০০০ সৈন্যসহ মুয়াবিয়ার পক্ষে চলে যান।
গুজব ছড়ানো হয় যে, ইমাম হাসান (আ.) মুসলিমদের রক্তপাত এড়াতে যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছেন। এই গুজব কাজ করেছিল। খারেজিরা যখন দেখল তাদের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না, তখন তারা ইমামের বিরুদ্ধেই চলে যায়। তাদের মধ্য থেকে একদল ইমাম হাসান (আ.)-এর উপর আক্রমণ করতে উদ্যত হয় এবং ইমাম হাসান (আ.) তাঁর উরুতে একটি গুরুতর আঘাত পান। এমনকি বিভিন্ন গোত্রীয় নেতারা মুয়াবিয়াকে চিঠি লিখে প্রস্তাব দেয় যে, তারা যদি ইমাম হাসানকে তাঁর হাতে তুলে দেয়, তবে যেন তাদেরকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। মুয়াবিয়া সেই সব চিঠি ইমামের কাছে পাঠিয়ে দেন এবং ইমামের পছন্দমতো শর্তে মদিনায় নিরাপদে চলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। মুয়াবিয়া নিচে সিলমোহরযুক্ত একটি সাদা কাগজ পাঠিয়ে বলেন, এই কাগজে যা ইচ্ছা শর্ত লিখুন, আমি তা মেনে নেব।
রক্তপাত এড়াতে এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য রক্ষা করতে ইমাম হাসান (আ.) মুয়াবিয়ার এই প্রস্তাব গ্রহণ করাকে শ্রেয় মনে করেন। তিনি তাঁর পিতার সময়ে সিফফিনের যুদ্ধে মুয়াবিয়ার কৌশল এবং প্রতারণা সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানতেন মুয়াবিয়ার কূটচাল মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ এবং জীবনহানি ঘটাচ্ছে। এই আপাত যুদ্ধবিরতি ছিল একটি তিক্ত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার নিরাপদ পথ। ইসলামকে রক্ষার স্বার্থে ইমাম শান্তি মেনে নেন। তাছাড়া এটা ছিল অপরাধীদের জন্য একটি পরীক্ষা ও সুযোগ -যাতে তারা সংশোধন হয়ে যাবে অথবা চুক্তি অমান্যের মধ্য দিয়ে জনগণের মধ্যে তাদের আসল চেহারা প্রকাশিত হবে। মুয়াবিয়ার দেওয়া সেই কাগজে ইমাম হাসান (আ.) নিজের, পরিবার এবং মুমিনদের ইমাম হিসেবে প্রয়োজনীয় সকল শর্ত লিখে দেন। দুর্ভাগ্যবশত আল্লাহর নামে শপথ করে এই শর্তগুলি পালন করার ওয়াদা করলেও মুয়াবিয়া সেই ওয়াদা ভঙ্গ করেন এবং সন্ধিপত্রটি ছিঁড়ে ফেলেন।
সন্ধির শর্তগুলির মধ্যে একটি শর্ত ছিল মুয়াবিয়া তাঁর মৃত্যুর পরে অন্য কাউকে খলিফা নিযুক্ত করে রেখে যেতে পারবে না। শর্ত ছিল মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পরে খেলাফাতের দায়িত্ব ইমাম হাসান (আ.)-এর কাছে অর্পিত হবে অথবা ইমাম হাসান (আ.)-এর মৃত্যু হলে তাঁর ভাই ইমাম হুসাইন (আ.) খলিফা হবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় হজরত মুয়াবিয়া তাঁর জীবদ্দশাতেই নিজের অযোগ্য, অপদার্থ, ফাসিখ, ব্যভিচারী পুত্র ইয়াজিদকে খলিফার আসনে বসানোর জন্য জনগণের নিকট থেকে বাইয়াত গ্রহণ ও অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদন করে রেখে যান। আর এই ইয়াজিদই কারবালার ময়দানে প্রিয় নবীজীর (সা.) বংশধরদেরকে নির্মমভাবে শহীদ করে এবং বেঁচে থাকা সদস্যদেরকে বন্দী করে অকথ্য অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্য ও বর্বর কাজ করেছিল।
সন্ধির শর্তগুলিকে অস্বীকার করে মুয়াবিয়ার প্রকৃত চেহারা উম্মতের মধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে। ইসলামের প্রতি কোনো দরদ দেখানোর জন্য নয় বরং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজ পরিবারের মধ্যে আগলে রাখাটাই ছিল মুয়াবিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য। আর ইমাম হাসান (আ.) মুয়াবিয়ার এই আচরণকে সকলের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়ে গেছেন।
_________________________________________
নাফস কে চেনা মানে আল্লাহ কে চেনা
Man ‘arafa nafsahu faqad ‘arafa rabbahu
"যে নিজের নাফসকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে।"
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর, যিনি আমাদের সৃষ্টিকর্তা, রব ও মাবুদ। তাঁর হামদ ও শুকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য। হাদিসে বর্ণিত আছে—যে নিজের নাফসকে চিনেছে, সে তার রবকে চিনেছে। এখানে ‘নাফস’ বলতে মানুষের আত্মসত্তা বা অন্তর্গত সত্তাকে বোঝানো হয়েছে।
মানুষ অধিকাংশ সময় পরচর্চা ও সমালোচনায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু যদি মানুষ এসব কাজ পরিহার করে আত্মশুদ্ধির কাজে মনোযোগী হতো, তবে সে অবশ্যই কামিয়াব হতো।
এই যে পবিত্র মাস—এ মাস আল্লাহর প্রিয় মাস। এ মাসে বান্দারা আল্লাহর মেহমান হয়। আর মেহমান যদি মিসবানের কাছে কিছু চায়, তবে মিসবান তা পূরণ করার চেষ্টা করেন। সুতরাং আমাদের করণীয় হলো—আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা, নিজেদের গোনাহের জন্য তওবা করা। তাহলে করুণাময় পরওয়ারদেগার অবশ্যই আমাদের ক্ষমা করবেন। এভাবেই আমাদের রুহকে উজ্জীবিত করতে হবে; তবেই আমরা খোদাকে চিনতে সক্ষম হবো।
এই বরকতময় মাসে যদি আমাদের রুহ পবিত্র হয়, তবে আমরা সেই পবিত্র সত্তাকে উপলব্ধি করতে পারবো, যিনি জগতের হুজ্জাত; যাঁর কারণে এই ভূখণ্ড টিকে আছে; যাঁর জন্য জমিন-আসমান, জলধারা, গাছপালা, পশুপাখি, গ্রহ-নক্ষত্র—সবকিছু বিদ্যমান। সেই হুজ্জাতের সহযোগিতা মেঘে ঢাকা সূর্যের ন্যায়। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ লাভ করতে পারলে আমাদের রুহ কামিয়াব হবে।
নিজের নাফসকে চেনা মানে নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করা, যেন যুগের ইমামের সাক্ষাৎ লাভের যোগ্য হওয়া যায়। বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে—এক দর্জিওয়ালা যুগের ইমামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। একবার ইমাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি যদি এক সপ্তাহ তোমার সাথে সাক্ষাৎ না করি, তবে তোমার অবস্থা কী হবে?” দর্জি বললেন, “আমি মারা যাবো।” তখন ইমাম বললেন, “এই কারণেই আমি প্রতি সপ্তাহে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করি।”
অতএব, সেই দর্জি নিজের নাফসকে চিনেছিলেন বলেই তিনি যুগের ইমামের সাক্ষাৎ লাভ করতে পেরেছিলেন।
নাফসকে চেনার জন্য শুধু জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; বরং নিজের আমলকে মজবুত করতে হবে। গোনাহ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং সর্বদা সতর্কভাবে চলতে হবে, যাতে খোদার নৈকট্য অর্জন করা যায়।
উপসংহার
১. পরচর্চা করার আগে নিজের দিকে তাকানো।
২. নিজের নাফসকে চেনা এবং কোথায় ঘাটতি আছে তা চিহ্নিত করা ও সংশোধন করা।
৩. নিজের আমলের উপর গুরুত্ব দেওয়া।
৪. আল্লাহ কোন কাজে সন্তুষ্ট হন তা বাস্তবায়ন করা।
৫. যুগের ইমামকে অন্তরে স্থান দেওয়া এবং সর্বদা তাঁকে স্মরণ রাখা।
৬. নিজের ভুল-ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
এইভাবে যদি আমরা আত্মশুদ্ধি করতে পারি, তবে আমরা আমাদের রবকে চিনতে পারবো এবং ইমামে জামানার সাক্ষাৎ লাভের যোগ্য হতে পারবো। ইনশাআল্লাহ।
__________________________________________
ইমামে জামানা (আ:)-এর পছন্দের রোজা
রোজা ইসলামের এক মহান ইবাদত, কিন্তু ইমামে জামানা (আ.)–এর দৃষ্টিতে রোজার প্রকৃত মূল্য কেবল বাহ্যিক সংযমে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এমন রোজা পছন্দ করেন, যা মানুষের অন্তরকে পরিবর্তন করে, চরিত্রকে শুদ্ধ করে এবং সমাজকে ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করা রোজার সূচনা; কিন্তু এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ।
প্রথমত, ইমাম এমন তাকওয়াভিত্তিক রোজা পছন্দ করেন, যেখানে মানুষ শুধু খাদ্য থেকে বিরত থাকে না, বরং গুনাহ থেকেও নিজেকে রক্ষা করে। চোখ যেন হারাম দৃশ্য থেকে সরে আসে, কান যেন অপবাদ ও অশ্লীলতা না শোনে, জিহ্বা যেন মিথ্যা, গীবত ও কটু বাক্য থেকে সংযত থাকে। কারণ বাহ্যিকভাবে রোজা রেখে যদি অন্তর পাপে আচ্ছন্ন থাকে, তবে সে রোজা আধ্যাত্মিক পূর্ণতা লাভ করে না। ইমামের পছন্দের রোজা হলো এমন, যা হৃদয়কে বিনয়ী ও পরিশুদ্ধ করে তোলে।
দ্বিতীয়ত, তিনি পছন্দ করেন সচেতন ও আন্তরিক রোজা। অনেক সময় রোজা আমাদের কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়; কিন্তু ইমামের দৃষ্টিতে রোজা হলো সচেতন ইবাদত। সাহরির নীরবতায় আত্মসমালোচনা, ইফতারের মুহূর্তে কৃতজ্ঞতা, মাগরিবের সিজদায় অশ্রু—এসবই রোজাকে জীবন্ত করে তোলে। যখন বান্দা উপলব্ধি করে যে সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সংযম পালন করছে, তখন সেই রোজা ইমামের নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে।
তৃতীয়ত, ইমামে জামানা (আ.)–এর পছন্দের রোজা হলো সামাজিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন রোজা। রোজা আমাদের ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করায়, যাতে আমরা দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হই। যদি রোজা রাখার পরও আমাদের হৃদয় কঠোর থাকে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা নীরব থাকি, তবে সেই রোজার উদ্দেশ্য অপূর্ণ থেকে যায়। ইমামের আদর্শ ন্যায় ও মানবতার উপর প্রতিষ্ঠিত; তাই তিনি এমন রোজা পছন্দ করেন, যা মানুষকে ন্যায়পরায়ণ ও সহানুভূতিশীল করে তোলে।
চতুর্থত, তিনি পছন্দ করেন অপেক্ষা ও প্রস্তুতির রোজা। ইমামে জামানা (আ.)–এর অপেক্ষা শুধুই সময় গোনা নয়; বরং এটি আত্মগঠন ও চরিত্র নির্মাণের এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। যে রোজা মানুষকে ধৈর্য শেখায়, আত্মসংযমে দৃঢ় করে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রেরণা দেয়—সেই রোজাই তাঁর সন্তুষ্টির উপযুক্ত। প্রতিটি সিজদা, প্রতিটি তাওবা এবং প্রতিটি সৎকর্ম যেন তাঁর আগমনের প্রস্তুতি হয়ে ওঠে।
পঞ্চমত, ইমাম এমন নিরব অহংকারহীন রোজা পছন্দ করেন, যেখানে মানুষ নিজের ইবাদত নিয়ে গর্ব করে না। প্রকৃত রোজাদার জানে—তার সব আমল আল্লাহর রহমতের উপর নির্ভরশীল। তাই বিনয়, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিকতা রোজার অলংকার।
অতএব, ইমামে জামানা (আ.)–এর পছন্দের রোজা হলো এমন রোজা, যা দেহকে সংযত করে, আত্মাকে আলোকিত করে এবং সমাজকে ন্যায় ও মানবতার পথে এগিয়ে নেয়। এটি কেবল একটি মাসের অনুশীলন নয়; বরং সারাজীবনের চরিত্র গঠনের শিক্ষা। যখন আমাদের রোজা আমাদেরকে সত্যবাদী, সহানুভূতিশীল, ন্যায়পরায়ণ ও আল্লাহভীরু বানায়—তখনই সেই রোজা ইমামের নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে। রোমজান তখন হয়ে ওঠে কেবল সিয়ামের মাস নয়, বরং ইমামের সন্তুষ্টি লাভের এক পবিত্র সেতু—যা আমাদের অন্তরকে তাঁর আদর্শের আলোয় উদ্ভাসিত করে। হে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, আমাদের সকলকেই সেই তাকওয়াভিত্তিক রোজা করার তৌফিক দান করুন। আমিন... ছুম্মা আমিন।
__________________________________________
ইমাম মাহদী আঃ এর অন্তর্ধানে আমাদের ফায়দা বা লাভ (সংগৃহীত)
✍️ রাজা আলী
বর্তমানে আমাদের ইমাম (আঃ) অদৃশ্য আছেন। এর অর্থ এই নয় যে, ইমাম (আঃ) সমস্ত দুনিয়া থেকে অন্যত্র কোথাও জীবন-যাপন করছেন। গায়বাত বা অদৃশ্যের অর্থ হল, এখন ইমাম (আঃ) কোথায় আছেন মানুষ সেটা জানে না। বর্তমানে কেউ ইমাম (আঃ) কে যদি দেখেও থাকে,
তবে চিনতে পারে না। ইমাম জাফর ছাদিক (আঃ) বলেছেন যে, মানুষ ইমাম (আঃ)-কে দেখতে পায়; কিন্তু চিনতে পারে না। [সূত্রঃ মুনতাখাবুল আছর]।
অপর দিকে ইমাম (আঃ) মানুষদের দেখতেও পান চিনতেও পারেন। ইমাম (আঃ) নিজে বলেছেন, 'তোমাদের কোনো কর্ম বা খবর আমার অজানা নেই, সবটাই আমি জানি। আমি তোমাদের হেফাজাত বা রক্ষার জন্য চেষ্টা কম করিনা বা তোমাদের স্মরণ থেকে গাফিল নই। যদি তাই না হত, তবে তোমাদের উপর বালা-মছিবত নাজিল হত এবং শত্রুরা তোমাদের নিঃশেষ করে দিত' ( সূত্রঃ বেহারুল আনওয়ার, খন্ড-৫৩, অধ্যায় ২) ।
অতএব এর থেকে প্রমাণ হয়, ইমাম (আঃ)-এর দৃষ্টি মানুষদের উপর আছে ও ইমাম (আঃ) সর্বদা আমাদের খবর নিতে থাকেন।
এই সময় বা এখন আমরা ইমাম (আঃ)-এর জন্য এমন ভাবে উপকৃত হয়ে থাকি, যেমন মেঘের আড়ালে সূর্য আমাদের উপকার করে। আমরা আমাদের সমস্ত সমস্যা ইমাম (আঃ)-এর সঙ্গে বলতে পারি। প্রতি পদে ইমাম (আঃ)-এর কাছে ফরিয়াদ করতে পারি। একবার তো আমরা ইমাম (আঃ)এর কাছে ফরিয়াদ করে দেখি, কী ভাবে তিনি আমাদের সাহায্য করেন। বিভিন্ন পুস্তকে হাজারো এমন ঘটনা আছে-যার থেকে আমরা ইমাম (আঃ)-এর সাহায্য করা প্রসঙ্গে জানতে পারি।
বর্তমান সময়ে ইমাম আঃ তার মান্যকারী ও অনুসারী দের যে সাহায্য করছেন,তা আমরা উপলব্ধি করতে পারি। ধরুন, চলমান আমেরিকা ইসরাইল এর সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ। বিশ্বের সেরা শক্তি গুলো একত্রিত হওয়ার পরেও ইরান নিজের সম্মান সম্পর্কে সচেতন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনা করছে---যা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমেরিকার অহংকার ইমাম আঃ এর সাহায্যেই ইরান ভেঙে দিচ্ছে। সুতরাং ইমাম মাহদী আঃ গায়বতে থাকলেও আমাদের কল্যাণের জন্য ই কাজ করছেন।
------ _____------_____------______------______------
------ _____------_____------______------______------
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
বরকত ও বেদনা
মোন্তাজির
আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাস
রমজান মোবারক,
এই মাসেতে নাজিল হয়
রহমত আর বরকত।
রমজানের শ্রেষ্ঠ রাত
লাইলাতুল কদর,
দোয়ার অপেক্ষায় থাকেন
ওয়ালিয়ে আসর।
একুশে রমজান এলো
শোকের বারতা,
মাওলা আলী সেজদাতে
পেলেন আঘাতটা।
ইফতারের সে ক্ষণে
আমায় ভুলো না,
কেঁদে কেঁদে দোয়া করে
ইমামে জামানা।
পানি যখন পান করো
রেখো আমার পিপাসা,
তৃষ্ণা কত কঠিন ছিল
দেখিয়েছে দিনের বাদশা।
__________________________________________
বীর খামনেয়ী
✍️ মইনুল হোসেন
ছিয়াশি বছর বয়সেও যিনি ছিলেন বীর এক যোদ্ধা,
হৃদয়ে যাঁর জিন্দা ছিল নূরানী আর ঈমানী জজবা।
শহীদি তামান্না বুকে নিয়ে যিনি পথ চলেছেন চিরকাল,
জ্ঞানের সাগরে ডুব দিয়ে যিনি গড়েছেন প্রজ্ঞার ঢাল।
পরহেজগারিতে অনন্য তিনি, আধ্যাত্মিকতায় বীর,
জালিমের কাছে নত করেননি কখনও মহিমান্বিত শির।
আমেরিকা আর ইজরায়েলের দম্ভকে চূর্ণ করে,
অটল অবিচল হয়ে দাঁড়িয়েছেন— একলা আপন ঘরে।
নিঃসঙ্গ ইরান, চারপাশে সব শয়তানি চক্রান্ত,
তবুও হারাননি সাহস তিনি, হননি কভু ক্লান্ত।
সাম্রাজ্যবাদী হায়েনা রুখতে একাই তিনি তুফান,
মযলুমের তরে বিলিয়ে দিলেন আপন প্রাণ।
হায়দারী তেজে দীপ্ত কণ্ঠ, অন্তরে খোদা-ভীতি,
সত্যের তরে লড়ে যাওয়াই ছিল যাঁর আজব রীতি।
বিপ্লবী এক রুহ্ হয়ে আজ অমর মহানায়ক,
ইতিহাসে লেখা থাকবে— তিনি হলেন সত্যের ধারক ও বাহক।
__________________________________________
খামিনি
✍️ রাজা আলী
তুমি অটল পর্বতের মতো
বেড় দিয়েছো একটি অক্ষ
চেতনায় শান দিয়েছো বেশ
ভয়ে আছে আজ শত্রু পক্ষ।
তোমার নামেতেই ওদের ভয়
বিরাট এক মৃত্যু সম্মুখে দেখে
সূর্যের মতো দীপ্তিমান তুমি
শত্রু রা অনুকম্পা য় কাঁপে।
তুমি একজন ধর্মীয় নেতা
ইসলাম ই তোমার অনুসৃত
তুমি তো ইমামের সৈনিক এক
বাকি তিন'শ বারো থাকলে কি হত?
তোমার দিকনির্দেশনা প্রবল বিজ্ঞ
এক একটি বাক্যেই উজ্জীবন
সহস্র সেনা তৈরি মৃত্যুর মুখে
মৃত্যু অবধি ভঙ্গ দেবে না রণ।
__________________________________________
রমযান ও ইমামে জামানা (আ.)
রোমজানের চাঁদ ওঠে নীল আকাশের কোণে,
হৃদয় কাঁদে আজ ইমামেরই স্মরণে।
সাহরির নীরবতায় অশ্রু ঝরে চুপে,
ডাকি হে মাওলা, এসো হৃদয়ের রূপে।
রোজার ক্ষুধা শুধু দেহের তরে নয়,
তোমার বিরহে প্রাণ পুড়ে ক্ষয়।
ইফতারের আগে তুলে ধরি হাত,
বলি—আর কত থাকবে এই রাত?
লাইলাতুল কদরের পবিত্র সে ক্ষণ,
তোমার জহুর ছাড়া অপূর্ণ জীবন।
সিজদায় সিজদায় করি মিনতি,
দাও হে ইমাম, হৃদয়ে পবিত্র গতি।
পৃথিবী জুড়ে অন্যায় আর হাহাকার,
তোমার আগমনে হবে শান্তির দ্বার।
রোমজান শেখায় তাওবা আর ধৈর্য,
শেখায় ইমামের পথে সত্যের ঐক্য।
হে ইমামে জামানা (আ.), শোনো প্রাণের গান,
তোমার অপেক্ষায় কাটে প্রতিক্ষণ।
এই মাস হোক জহুরের দোয়া,
রোমজান হোক তোমার আগমনের ছোঁয়া।
------ _____------_____------______------______------
No comments:
Post a Comment