আরবি: জামাদিউল আওয়াল, ১৪৪৭ হিজরী
ইংরেজি: নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________
সম্পাদক :
সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী
প্রচ্ছদ ভাবনা:
অনলাইন সম্পাদনা ও তথ্য সংযোজন:
প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী
বকচরা, মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা
__________________________________________
সূচিপত্র
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
কিছু সংখ্যক ব্যক্তি কিভাবে ইমাম মাহ্দী (আঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন
ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবনী আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ
ফাতিমা ও মাহ্দী: হেদায়েতের আলো
পশ্চিমবঙ্গের শিয়া কওমের শিক্ষা : একটি পর্যালোচনা
✍️ রাজা আলী
আল্লাহর নেয়ামত ও ইমামে জামানা (আঃ)-এর মহা অনুগ্রহ
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
নারী জাতির অনন্ত আলোকচ্ছটা
ঋণ এবং
সুদান
✍️ রাজা আলী
ইমাম মাহ্দীর আদর্শ (সনেট)
__________________________________________
__________________________________________
সম্পাদকীয়
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
জামাদিউল আওয়াল—স্মৃতি, হেদায়েত ও রূহানিয়াতের এক প্রশান্ত মাস। আহলে বাইত (আ.)-এর সিয়ারা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সত্যের পথে অটল থাকার মর্ম, আর ইমামতের আলো জাগিয়ে তোলে অন্তরের নীরব প্রতিজ্ঞা।
এই সংখ্যার প্রতিটি রচনা সেই আলোকে বহন করে—
কুরআন ও আহলে বাইত (আ.)-এর বার্তা আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় মূলের দিকে;
ইমাম মাহদী (আ.)-এর সাক্ষাৎ, ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর আদর্শ, ফাতিমা ও মাহদীর নূরানী সম্পর্ক—সব মিলিয়ে গড়ে ওঠে রূহানিয়াতের এক উজ্জ্বল চিত্র।
এছাড়া সমাজ, তরবিয়্যাত ও নেয়ামতের ওপর আলোচনাগুলো আমাদের করে তোলে ভাবনাশীল ও দায়িত্ববান।
আসুন, এই পবিত্র মাসে আমরা নবায়ন করি আমাদের প্রতিজ্ঞা—
ইমামের পথে থাকুক আমাদের কলম, আমল ও হৃদয়ের ভালোবাসা।
ওয়াস সালাম
সম্পাদক
__________________________________________------------------------------------------------
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
কিছু সংখ্যক ব্যক্তি কিভাবে ইমাম মাহ্দী (আঃ) এর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন
গাইবাতে কুবরার যুগে অনেক ব্যক্তি হজরত ইমাম মাহদী (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জন করেছেন। আর আল্লাহ্র দান ও মোহাব্বতের কারণে ভাগ্যবান রূপে পরিগণিত হয়েছেন। তবে যে বিষয়টি অনুসন্ধান যোগ্য, সেটি হল এই যে, ঐ সমস্ত ব্যক্তিরা কিভাবে এমন উত্তম সৌভাগ্যের অধিকারী হলেন? তাঁদের তাক্বওয়া, পরহেজগারী ও নেক আমলই কি এই সৌভাগ্যের পিছনে কাজ করেছে? না, তাঁদের জ্ঞান শিক্ষা ও আভ্যন্তরীন মর্যাদাই ইমাম (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়েছে? না, শুধুমাত্র ইমাম (আঃ)- এর দয়া-মহব্বতের কারনেই তাঁরা সাক্ষাৎ পেয়েছেন?
অতি প্রসিদ্ধ ও বিখ্যাত হাদীস, যা ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর পবিত্র যিয়ারাতে নাহীইয়াহ্ হতে, তাঁর চতুর্থ নায়েব (প্রতিনিধি) শেখ আলী বীন মোহাম্মাদ সামারী (রহঃ)-এর কাছে পৌঁছায়; তাঁর প্রতি যদি মনযোগী হওয়া যায়, তাহলে আসল সত্যের সন্ধান পাওয়া যাবে। হাদীসটি হলঃ (অনুবাদ) "যদি কেউ তাঁকে দেখেছেন বলে দাবি করেন, চারজন নায়েবকে যেমন ভাবে দেখেছেন, সে মিথ্যাবাদী এবং অপবাদদাতা"। এই হাদীস থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নিজের ইচ্ছা বা খেয়াল-খুশি মত ইমাম মাহ্দী (আঃ) কে দেখা যায় না বা তার সঙ্গে নিজের মর্জি মত সম্পর্ক গড়া যায় না।
অপরদিকে ইসলামী ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, ইমাম (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জনকারীরা কেউ ওলামা, কেউ মুত্তাক্বী, আবার কেউ বা সাধারণ ও নিম্ন শ্রেণীর মানুষ এবং তাদের মধ্যে আহালে সুন্নত ও কাফিরদেরও সন্ধান পাওয়া যায়। ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের নাফস ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে এটা বোঝা যায় যে, ইমাম (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সৌভাগ্য অর্জনকারীদের বিশেষ কোন শ্রেণী বা দল নেই। বরং ইমাম (আঃ) আল্লাহ্ ও নিজের মর্জিমত সাধারণ ও বিশেষ ব্যক্তিদের নিজের দান ও বরকতের মাধ্যমে উপকৃত করে থাকেন।
'আল্ আ'বক্বারিইউল হিসান'
এখন উপরে উল্লেখিত পুস্তকটির পরিচয় তুলে ধরছি। এর মধ্যে এমন ভাগ্যবান ব্যক্তিদের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, যাদের ভাগ্যে ইমাম মাহ্দী (আঃ) এর সাক্ষৎ অর্জিত হয়েছে। পুস্তকের যে অংশগুলি আমাদের নিকট অবশিষ্ট আছে, তা দু'খণ্ডে বিভক্ত আছে।
পঞ্চম ভাগে বিভক্ত
দুই খণ্ডে বিভক্ত পুস্তকটি আবার পাঁচ ভাগে খণ্ডিত। প্রথম খণ্ডে তিনটি ভাগ, আর দ্বিতীয় খণ্ডে দু'টি ভাগ আছে। গ্রন্থটিতে ইমাম মাহদী (আঃ)-এর ভূমিষ্ঠ হওয়ার থেকে শুরু করে গাইবাতে ছোগরা এবং গাইবাতে কুবরাতে সাক্ষাতকারী ব্যক্তিদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রমান
পুস্তকটির আকর্ষণীয় দিক হল, প্রতিটি ঘটনার পূর্বে লেখক দলিল বা প্রমান দিয়েছেন। ওলামা ও গবেষকদের জন্য এই প্রমান অতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে কতকগুলি প্রমান আকারে দীর্ঘ।
পুস্তকটির খণ্ডিত বিষয়
পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে,, আলোচ্য পুস্তকটি পাঁচ ভাগে বিভক্ত। কিন্তু এখানে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে অধ্যায় অনুসারে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হ'ল।
প্রথম অধ্যায়:-
এই অধ্যায়ে এমন সৌভাগ্যবান সাক্ষাতকারী ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যারা সাক্ষাতের সময় ইমাম মাহদী (আঃ)-কে চিনতে পেরেছিলেন। একই সঙ্গে এখানে এমন সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে, যারা সাক্ষাতের সময় ইমাম মাহদী (আঃ)-কে চিনতে না পারলেও পরবর্তীতে কারণ ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, ইমাম মাহদী (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এছাড়াও এই অংশে কিছু এমন ঘটনাও বর্ণিত হয়েছে, যে ঘটনায় সাক্ষাতকারী ব্যক্তি বুঝতে পারেননি যে, তিনি ইমাম মাহদী (আঃ)-কে চিনতে পেরেছেন, না চিনতে পারেননি।
দ্বিতীয় অধ্যায়:-
এই অধ্যায়ে ইমামে যামানা (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও 'মোকাশেফাহ্' বিষয় বর্ণিত হয়েছে। 'মোকাশেফাহ্' অর্থাৎ স্বপ্ন ও জাগ্রতর মধ্যম অবস্থা। মোকাশেফাহ্ অবস্থায় মানুষ যে সমস্ত জিনিসকে দেখতে পায়, তা বাহ্যিক হুশের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। স্বপ্নে মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টি বাইরের চোখও কান দিয়ে হয় না। তবে মোকাশেফাহ্-তে আত্মা ও রুহ তার নিজের অবস্থায় থাকে, আর ঐ সময় বাইরের কান চারপাশের আওয়াজ বা শব্দকে শুনতে থাকে।
তৃতীয় অধ্যায়ঃ-
এই অধ্যায়ে স্বপ্নে সাক্ষাতের সৌভাগ্য অর্জনকারী ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এগুলি সত্য স্বপ্ন।
চতুর্থ অধ্যায়:-
এই অধ্যায়ে ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর পবিত্র নুরের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ সাক্ষাৎকারীরা সাক্ষাতের সময় ইমাম (আঃ)-এর নুরের ছটা, না আওয়াজ, না তাঁর পবিত্র সুগন্ধ পেয়েছেন, সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায়:-
এই অধ্যায়ে এমন ব্যক্তিদেরকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যারা ইমাম মাহদী (আঃ)-এর সঙ্গে তাওয়াসুল (ওছীলা বা মাধ্যম) করেছেন, আর উত্তম ফল পেয়ে উপকৃত হয়েছেন।
_________________________________________
ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবনী আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ
ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবনী আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল আদর্শ। তাঁর জীবন থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা অর্জন করতে পারি, যেমন:
১. ধৈর্য ও সহনশীলতা
কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরেও ইমাম (আ.) ধৈর্যের সঙ্গে সবকিছু সহ্য করেন। তাঁর সহনশীলতা ছিল ঈমানের নিদর্শন।
২. ইবাদতের প্রতি গভীর অনুরাগ
তাঁকে বলা হয় সাজ্জাদ (সেজদাকারী) ও জাইনুল আবেদিন (ইবাদতকারীদের অলংকার)। তাঁর দোয়া, নামাজ ও কান্না আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করে।
৩. দুঃখ-কষ্টেও আল্লাহর স্মরণ
কারবালার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে যখন জীবনকে গড়ে তুলেছিলেন, তখন আল্লাহর স্মরণই ছিল তাঁর একমাত্র শক্তি।
৪. দোয়া ও আত্মিক উন্নয়ন
তাঁর বিখ্যাত দোয়ার সংকলন "সাহিফা সাজ্জাদিয়া" আত্মিক উন্নয়নের জন্য এক অতুলনীয় উপহার, যেখানে নৈতিকতা, আত্মসমালোচনা, দয়া, সমাজসেবার দিক নির্দেশনা রয়েছে।
৫. অত্যাচারের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ
যদিও তিনি সরাসরি যুদ্ধ করেননি, তবুও ইয়াজিদের দরবারে তাঁর খুৎবা ছিল অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদ।
৬. সমাজ সংস্কার ও মানবতা
তিনি গোপনে দরিদ্রদের সাহায্য করতেন। মানুষকে শিক্ষা দিতেন কিভাবে দয়া, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবন হাদীস ও ইসলামিক শিক্ষার আলোকে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর বংশধরদের সম্পর্কে বিভিন্ন হাদীসে যেভাবে গুণাবলী বর্ণনা করেছেন, তা ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবনেও পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
হাদীসের আলোকে তাঁর জীবন থেকে কিছু দিক:
১. আহলে বাইতের ফজিলত সংক্রান্ত হাদীস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
_«إني تاركٌ فيكم الثقلين: كتابَ اللهِ، وعِترتي أهلَ بيتي، ما إن تمسَّكتم بهما لن تضلُّوا بعدي أبدًا.»_
(সহিহ মুসলিম) ( کتاب مشهور نزد اهلسنت)
অর্থাৎ: “আমি তোমাদের মাঝে দুটি ভারী জিনিস রেখে যাচ্ছি — আল্লাহর কিতাব এবং আমার আহলে বাইত। তোমরা যদি এদের ধরে রাখো, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না।”
এই হাদীস অনুযায়ী ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.) আল্লাহর কিতাব ও নবীর আহলে বাইতের অন্যতম প্রতিনিধি ছিলেন।
২. ইবাদতে শ্রেষ্ঠত্ব:
রাসূল (সা.) বলেন:
“সেজদার মাধ্যমে আল্লাহর নিকটবর্তী হও।”
(সহিহ মুসলিম) کتاب مشهور نزد اهلسنت
ইমামকে "সাজ্জাদ" বলা হতো কারণ তিনি দীর্ঘ সময় সেজদা করতেন। তাঁর সেজদা ও ইবাদত হাদীসের প্রকৃত বাস্তবায়ন।
৩. সাহিফা সাজ্জাদিয়া — হাদীসসমৃদ্ধ দোয়ার ভাণ্ডার:
ইমাম (আ.)-এর দোয়াগুলোর সংকলন "সাহিফা সাজ্জাদিয়া" হাদীসের মতই নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গঠনের অনুপম নির্দেশনা দেয়।
৪. ইমামতের ধারক হিসেবে:
হাদীস: _“হাসান ও হুসাইন আমার সন্তানেরা, এবং তাদের সন্তানদের মধ্যেই ইমামগণ হবেন।”_
(ইবনে মাজাহ)
ইমাম হুসাইন (আ.)-এর শাহাদাতের পর তাঁর পুত্র জাইনুল আবেদিন (আ.)-কে আল্লাহর নিযুক্ত ইমাম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
উপসংহার:
ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবন হাদীসের বাস্তব রূপ, যেখানে আমরা দেখতে পাই কীভাবে কষ্ট, বন্দিত্ব, ও দুঃসহ জীবনে ইবাদত, ধৈর্য, দয়া ও ন্যায়ের ওপর অটল থাকা যায়। তাঁর জীবন মুসলমানদের জন্য নৈতিকতা ও ইমানদারির এক উজ্জ্বল আদর্শ। ইমাম জাইনুল আবেদিন (আ.)-এর জীবন আমাদের শেখায় – দুঃখ-কষ্ট, জুলুম-অত্যাচারের মাঝেও ইবাদত, ধৈর্য, দয়া ও ন্যায়ের পথে অটল থাকতে হয়।
__________________________________________
ফাতিমা ও মাহ্দী: হেদায়েতের আলো
ভূমিকা
আলহামদুলিল্লাহ, যিনি মানবজাতির জন্য হেদায়েতের পূর্ণ আলোকধারা দান করেছেন কুরআন ও আহলে বাইত (আ.)-এর মাধ্যমে।
বিবি ফাতিমা জাহেরা (সা.আ.) ও ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) — এই দুই নূর একই দিভ্য আলো থেকে উৎসারিত। ফাতিমা (সা.আ.) হচ্ছেন নবুয়তের ঘরের নূর, আর ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) সেই নূরের শেষ প্রতিফলন, যার মাধ্যমে পৃথিবী পূর্ণ হবে ন্যায় ও শান্তিতে।
ফাতিমা জাহেরা (সা.আ.) — ইমামতের নূরানী উৎস
বিবি ফাতিমা (সা.আ.)-এর মর্যাদা শুধু নবীর কন্যা হিসেবে নয়; তিনি ইমামতের কেন্দ্রবিন্দু ও নূরের ধারক। ইমাম জাফর আস-সাদিক (আ.) বলেন:
“ফাতিমা (সা.আ.) হচ্ছেন আল্লাহর পক্ষ থেকে ইমামদের উপর হুজ্জত।”
[Bihar al-Anwar, vol. 43, p. 105; Tafsir al-Ayyashi, vol. 1, p. 240]
তিনি ছিলেন আল্লাহভীতিতে অতুলনীয়, ইবাদতে অনন্য এবং সমাজে সত্যের জন্য নির্ভীক কণ্ঠস্বর। আর ইমাম আলী (আ.)-এর প্রতি তাঁর আনুগত্য ছিল কুরআনিক আদর্শের জীবন্ত প্রতিফলন। তাঁর জীবনের শিক্ষা আমাদের জানায় — ইলাহি ন্যায় প্রতিষ্ঠা, দ্বীনের সুরক্ষা এবং ইমামতের আনুগত্য* — এই তিনই প্রকৃত মুক্তির পথ।
ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) — ফাতিমার নূরের পরিপূর্ণ প্রতিফলন
ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) হচ্ছেন ফাতিমা (সা.আ.)-এর বংশধর, তাঁর রক্ত, নূর ও আদর্শের উত্তরাধিকারী। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: “মাহ্দী ফাতিমার (সা.আ.) সন্তানদের মধ্য থেকে।”
[Sunan Abi Dawood, vol. 4, hadith 4284; Mustadrak al-Hakim, vol. 4, p. 557]
ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.)-এর মিশন হলো:
ক) বিশ্বে ন্যায় ও সমতার প্রতিষ্ঠা, খ) কুরআনের প্রকৃত ব্যাখ্যার পুনরুজ্জীবন,
গ) মানবতাকে আহলে বাইতের (আ.) পথে ফিরিয়ে আনা।
ইমাম বাকির (আ.) বলেন: “যখন কায়েম (আ.) উদ্ভাসিত হবেন, তিনি ন্যায়ের সঙ্গে শাসন করবেন এবং তাঁর যুগে অন্যায় বিলুপ্ত হবে।”
[Kamal al-Din, Shaykh Saduq, p. 331; Al-Ghaybah, al-Nu’mani, p. 238]
মিলিত আদর্শ — নূর থেকে নূরে প্রবাহিত হেদায়েত
ফাতিমা (সা.আ.) হচ্ছেন ন্যায়, ত্যাগ ও সত্যের বীজ, আর ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) সেই বীজের পূর্ণ প্রস্ফুটন। তাঁদের মধ্যে রয়েছে এক ধারাবাহিক ইলাহি সম্পর্ক —
“নূর ফি নূর” (নূরের মধ্যে নূর)। এই মিলিত আদর্শের তিনটি স্তম্ভ হলো —
ক) ইলাহি ন্যায়:
ফাতিমা (সা.আ.) ন্যায়ের পথে নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করেছেন, আর ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) সেই ন্যায়কে বিশ্বব্যাপী বাস্তবায়ন করবেন।
খ) ইমামতের ধারাবাহিকতা:
ফাতিমা (সা.আ.) হচ্ছেন সকল ইমামের উৎস, আর ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) হচ্ছেন তাঁদের সমাপ্তি।
গ) হেদায়েতের বিশ্বায়ন:
ফাতিমা (সা.আ.) মানবতার হৃদয়ে নূর জ্বালিয়েছেন, আর ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) সেই নূরকে ছড়িয়ে দেবেন সমগ্র পৃথিবীতে।
ইমাম সাদিক (আ.) বলেন: “যে মাহ্দীর অপেক্ষায় মৃত্যুবরণ করে, সে যেন কায়েমের পতাকার নিচেই শহীদ হয়।”
[Kamal al-Din, Shaykh Saduq, p. 335; Al-Ghaybah, al-Nu’mani, p. 200]
কওমের জন্য হেদায়েতের বার্তা
আজ আমাদের শিয়া ইসনা আশারী কওম নানা দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশ্বাসে শৈথিল্য, সমাজে বিভক্তি ও দুনিয়াবী আকর্ষণ আমাদের ইমানের মজবুত ভিত্তি নাড়া দিচ্ছে। এখন আমাদের ফিরতে হবে সেই আদর্শে —
ফাতিমা (সা.আ.)-এর আত্মিক পবিত্রতা, আলী (আ.)-এর ন্যায় ও সাহস, এবং ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.)-এর অপেক্ষা ও প্রস্তুতির সংস্কৃতি। ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) এক পত্রে ইরশাদ করেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকের উচিত আমাদের ভালোবাসার পথে এগিয়ে যাওয়া এবং যা আমাদের অসন্তুষ্ট করে তা থেকে দূরে থাকা।”
[Al-Ihtijaj, Al-Tabrisi, vol. 2, p. 497]
এই কথাই আমাদের কওমের হেদায়েতের মূল: “ইন্তিজার” মানে শুধু অপেক্ষা নয় — বরং আত্ম-সংস্কার, সমাজ-সংস্কার ও আহলে বাইতের আদর্শে জীবন গড়া।
উপসংহার
ফাতিমা জাহেরা (সা.আ.) ও ইমাম মাহ্দী (আ.ফা.) — এই দুই নূর একই ইলাহি আলোর প্রতিফলন। ফাতিমা (সা.আ.) ছিলেন ন্যায় ও হেদায়েতের সূচনা, মাহ্দী (আ.ফা.) সেই হেদায়েতের চূড়ান্ত পরিণতি। যে তাঁদের ভালোবাসে ও তাঁদের পথ অনুসরণ করে, সে-ই প্রকৃত “মুহিব্বে আহলে বাইত”।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইমাম মাহ্দীর (আ.ফা.) সহায়ক, অনুগামী ও তাঁর পতাকার নিচে শহীদ হওয়াদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন... ছুম্মা আআমিন।
__________________________________________
পশ্চিমবঙ্গের শিয়া কওমের শিক্ষা : একটি পর্যালোচনা
✍️ রাজা আলী
শিক্ষা আল্লাহ রব্বুল আলামীনের এমন একটি নেয়ামত,যা মানুষকে সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে শেখায়।এই কারণে কোরানে কারীমের মধ্যে শিক্ষা র অশেষ গুরুত্ব একাধিক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলের হাদীসেও শিক্ষার বহুমুখী গুরুত্ব উঠে এসেছে।এই শিক্ষাই মানুষের মর্যাদার কারণ; শিক্ষা ই সমাজের মেরুদণ্ড। তাই বর্তমান সময়ে আমাদের শিয়া কওমের চিন্তা -চেতনায় শিক্ষা কিছু টা পরিমাণ জায়গা করে নিয়েছে।
তা সত্ত্বেও বলা যায় আজ আমরাই পশ্চিমবঙ্গের বুকে শিক্ষা ক্ষেত্রে সব থেকে পিছিয়ে। কিন্তু কেন?প্রতিটি ঘরের প্রতিটি সন্তান আজ স্কুলের দুয়ারে।প্রায় প্রতিটি বাঙালি শিয়া সন্তান আজ ক্লাস এইট , মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা আরো কিছু ডিগ্রি ঝুলিতে ভরে নিয়েছে।প্রশ্ন জাগে তার পরেও কেনো শিয়া কওম উন্নত চিন্তা-চেতনা ,সরকারি -বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এত পিছিয়ে! আমাদের সমাজ কেনো এখনো অনুন্নত? এখন এই "কেনো"র উত্তর অনুসন্ধান করা যাক।
গত দশকের তুলনায় বর্তমানে শিয়া সমাজের শিক্ষার হার অনেক খানি এগিয়েছে। কিন্তু শিক্ষা র মান উন্নয়ন হয় নি।হাতে গোনা দুচার জন ছাড়া বাকি সকলে অতি সাধারণ ভাবে পাশ করেছে এবং করছে এবং পড়াশোনা র মূল ক্ষেত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।অনেকে আবার মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকেই বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে এবং চেতনাশীল মানুষ হিসাবে কিম্বা ভালো কর্ম থেকে দূরে রয়ে যাচ্ছে।।দু এক জন উচ্চশিক্ষার উন্নত সোপানে পা রেখেছে; কিন্তু ভালো মতো আর্থিক পরিস্থিতি কিম্বা ভালো দিকনির্দেশনা র অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।দুএক জন মাত্র চিন্তাশীল মানুষ হিসাবে গড়ে উঠতে পেরেছে বা ভালো সরকারি-বেসরকারি কাজে নিযুক্ত হতে পেরেছে।
মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে হারিয়ে যাওয়ার কারণ:
আমাদের শিয়া সমাজের বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরেই পড়াশোনার মূল ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়(তবে কন্যাশ্রী,রূপশ্রীর দৌলতে কিছু মেয়ে গ্র্যাজুয়েশন স্তরে পৌঁছে যাচ্ছে)। তারা অনেকেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়।কেউ বা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার তাগিদ উপলব্ধি করে এবং কাজ ও পড়াশোনা পাশাপাশি চালাতে থাকে ফলে পড়াশোনা এক অর্থে শেষ হয়ে যায়।এই সমস্যার মূল কারণ লুকিয়ে রয়েছে ঐ সকল ছাত্রদের শৈশবকালীন পড়াশোনা র মধ্যে।বাবা-মার অসাবধানতা এবং অজ্ঞতা এক্ষেত্রে দায়ী।বাবা-মা তার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছে, কিন্তু ভালো রেজাল্টের তাগিদ অনুভব করেনি। সংসার, আত্মীয় এবং বন্ধুদের পিছনে অহেতুক খরচ করেছে, কিন্তু সন্তানের জন্য ভালো শিক্ষকের ব্যবস্থা করেনি।আজকের দিনের পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভালো গৃহশিক্ষক অপরিহার্য।এটা প্রত্যেক বাবা-মা জানে, কিন্তু সাধারণ টিউশন বা সাধারণ কোনো কোচিং এ পাঠিয়েছে।যে বাবা নিজের সন্তানের জন্য মাসে পাঁচ সাত শ'টাকার খাবার আনতে পারে,যে বাবা নিজের মেয়ের বিয়েতে তিন /চার লক্ষ টাকা খরচ করতে পারে ;সেই বাবা নিজের সন্তানের পিছনে মাসে পাঁচ শ' সাত শ টাকা টিউশন খরচ করে না।নাইন টেন স্তরে প্রবেশ করলে কোনো কোনো বাবা মা কিছুটা সচেতন হয়,ভালো টিউশনের ব্যবস্থা করে, কিন্তু ভিত দুর্বল থাকার কারণে ভালো রেজাল্ট হয় না।সুতরাং ঐ সন্তান বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার 'মায়াবী আকাশে'এক,দুই, তিন... করে শুধু ক্লাসে উঠেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় নি।
অভিভাবকের অজ্ঞতা:
অজ্ঞতা মানুষের ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়।তাই শিক্ষার্থীদের অভিভাবক রা সঠিক ভাবে সন্তানদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে না। কিছু অজ্ঞ ও অসৎ মানুষের জন্য সন্তান দের পড়িয়ে কী হবে বা চাকরি নেই ধরণের শ্লোগানে তারা ভ্রান্ত ধারণা দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যতকে বরবাদ করে দেয়।
শিক্ষকদের অনিহা:
বর্তমান সময়ে শিক্ষকদের অনিহা শিক্ষার্থীদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সাধারণ কৃষি প্রধান এলাকায় স্কুল শিক্ষক দের গভীর ঔদাস্য এবং ফাঁকি বাজী র কারণে শিক্ষার্থীরা যেমন ভালো কিছু শিখতে পারে না,তেমন ই উৎসাহ পায় না। সুতরাং ক্লাসের পর ক্লাসে উঠলেও প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের ঘাটতি থেকেই যায়।
উপসংহার:
পরিশেষে এটাই বলতে হয় যে,শিয়া কওমের শিক্ষার মূল ঘাটতি টি হয়ে থাকে অভিভাবকদের থেকে। অভিভাবকদের সচেতনতা এবং উদ্যোগ না থাকলে কোনো শিক্ষার্থী সঠিক ভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।ফলে আমাদের অর্থনীতি,সমাজ ও সংস্কৃতি পিছিয়ে পড়বে। আমাদের সমাজে আজ যে সমস্যা রয়েছে,তা তো সমাধান হবে না; বরং নতুন নতুন সমস্যা এসে হাজির হবে।
__________________________________________
আল্লাহর নেয়ামত ও ইমামে জামানা (আঃ)-এর মহা অনুগ্রহ
بسم الله الرحمن الرحيم
فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ
“অতএব, তোমাদের প্রভুর কোন কোন অনুগ্রহকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?” (সূরা রহমান)
সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তা’আলার, যিনি সমগ্র সৃষ্টির রব, পরম দয়ালু ও পরম করুণাময়। তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন, আমাদের রিজিক দান করেছেন, এবং আমাদের পথপ্রদর্শক হিসেবে নবী ও ইমামগণকে প্রেরণ করেছেন। তাঁর হামদ ও শুকরিয়া আদায় করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব।
আল্লাহ তায়ালা সূরা রহমানের মাধ্যমে তাঁর অসংখ্য নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে, আর জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন আগুনের উত্তপ্ত শিখা থেকে। এই মহাবিশ্বের প্রতিটি কণা তাঁর সৃষ্টির নিদর্শন, তাঁর রহমতের প্রতিফলন।
তবুও মানুষ ভুলে যায়, অস্বীকার করে, অথচ আল্লাহ প্রশ্ন করেন—
“তাহলে তোমাদের প্রভুর কোন কোন অনুগ্রহকে তোমরা অস্বীকার করবে?”
মানব শরীরে আল্লাহর নেয়ামতের নিদর্শন:
আল্লাহর নেয়ামতের সবচেয়ে বড় প্রমাণ আমাদের নিজের দেহে নিহিত।
তিনি কানের ভিতরে তিক্ততা সৃষ্টি করেছেন, যেন কোনো জীব বা পোকা-মাকড় প্রবেশ করলে তা মারা যায়। যদি এমন না হতো, তবে অসংখ্য কীটপতঙ্গ কানে ঢুকে মানুষকে কষ্ট দিতো বা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতো।
তিনি ঠোঁটের মাঝে রেখেছেন মিষ্টতা, যাতে মানুষ তিক্ত ও মিষ্টির পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে।
চোখে রেখেছেন নোনাভাব, কারণ চোখ দুটি চর্বিযুক্ত। যদি এতে নোনাভাব না থাকত, চোখ গলে যেত।
আর নাককে প্রবাহমান করেছেন, যাতে মাথার অতিরিক্ত পদার্থ নাক দিয়ে বের হয়ে আসে—না হলে মাথা ভারী হয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হতো।
এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুগ্রহই প্রমাণ করে, আল্লাহর নেয়ামত অসীম, অগণিত ও অপরিমেয়।
এক অদৃশ্য কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত:
তবে এসব দৃশ্যমান নেয়ামতের পাশাপাশি আছে এমন এক নেয়ামত, যা অদৃশ্য হলেও সর্বশ্রেষ্ঠ।
তিনি আমাদের মাঝে আছেন, কিন্তু আমরা তাঁকে দেখি না। আমরা তাঁর কণ্ঠ শুনতে পাই না, কিন্তু তিনি আমাদের প্রতিটি আহ্বান শুনেন। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি সাহায্য করেন, কিন্তু আমরা তা অনুভব করতে পারি না। বিপদের সময় তিনি আমাদের মাথায় স্নেহের হাত রাখেন, অথচ আমরা সেই উপস্থিতি টের পাই না।
তিনি আমাদের গোনাহ দেখে কাঁদেন, আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, অথচ আমরা তাঁর জন্য একবারও আল্লাহর দরবারে হাত তুলতে পারি না!
আমরা মুখে বলি—কারবালার প্রতিশোধের সৈনিক হবো, কিন্তু আমাদের আমল দেখে হয়তো তিনি জুলফিকার হাতে নিয়ে আবার নামিয়ে রাখেন!
হে আল্লাহ! আমরা কৃতজ্ঞ যে, তুমি আমাদের এমন এক নেয়ামত দান করেছ, যা সকল নেয়ামতের ঊর্ধ্বে—
সেই নেয়ামত হলেন আমাদের মাওলা, ইমাম মাহ্দী (আখেরি জামান আঃ)।
তাঁর বরকতেই এই পৃথিবী টিকে আছে।
তাঁর অস্তিত্বের বরকতেই আমরা আজ রিজিক, শান্তি ও আলো পাচ্ছি।
প্রতিটি নেয়ামতের পেছনে রয়েছে ইমামে জামানা (আঃ)-এর রহমত ও দোয়া।
আমাদের করণীয়
১️, ইমামে জামানা (আঃ)-এর প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা ও মহব্বত জাগ্রত করা।
২️, এমন আমল করা যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে, এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকা যা আমাদের তাঁর নৈকট্য থেকে বঞ্চিত করে।
৩️, প্রতিনিয়ত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা যে, তিনি আমাদের যুগের ইমাম হিসেবে এমন এক মহীয়ান নেইমত দান করেছেন।
উপসংহার
প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি দৃষ্টিতে, প্রতিটি অনুভূতিতে আল্লাহর নেয়ামতের ছোঁয়া।
তবুও মানবজাতি ভুলে যায়, অকৃতজ্ঞ হয়ে ওঠে।
আর তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ প্রমাণ, আমাদের ইমামে জামানা (আঃ)-এর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও প্রত্যাশা যেন আমাদের জীবনকে আলোকিত করে—
যতক্ষণ না আমরা তাঁর ন্যায়ের পতাকার নিচে মাথা নত করে দাঁড়াতে পারি।
__________________________________________------------------------------------------------
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
নারী জাতির অনন্ত আলোকচ্ছটা
নূরের গুচ্ছ ফাতেমা,
পাঞ্জতনের কেন্দ্র ফাতেমা।
আরশ হতে সৃষ্টি হল—
মুর্তজার প্রিয় ফাতেমা।
জগৎজননী তুমি ফাতেমা,
এগারো ইমামের মা তুমি ফাতেমা।
তোমারই নামে আছে কাওসার,
রহমতের ধারা তুমি ফাতেমা।
নারীজাতির আদর্শ তুমি ফাতেমা,
রোগের শেফা— তাসবিহে ফাতেমা।
নারীরা পাবে জান্নাত তোমার আদেশে,
উম্মতেরা ভ্রমে ছিল তোমার পথের বেশে।
ফিদাক মেরে নিয়েছে তোমার ফাতেমা,
দলিল ছিঁড়ে দিয়েছে তোমার ফাতেমা।
নবীর সাহাবা দাবি করে তারা কিভাবে—
যতই হোক খলিফা, তারা কাতিলে ফাতেমা।
__________________________________________
ঋণ এবং সুদান
✍️ রাজা আলী
ঋণ
রাত ক্রমশ গাঢ় হচ্ছে আরো
মুক্তি কোথায় বলতে পারো?
ওদের কালো হাত,উগ্র দৃষ্টি
শুকিয়েছে মেঘ,নেই তো বৃষ্টি!
যন্ত্রণা , যন্ত্রণা আজ অনবরত
ওই দেখ লাশ শিশুর শত শত!
এরা শান্তির দূত,গায়ে বেশ যুত
ভাব এদের,এরাই পবিত্র ও পূত।
জেনে রাখ ওরা শয়তান
করে আছে মানুষের ভান।
আসবে সেদিন আসবে শীঘ্র
ধ্বংস হবেই,ওদের বিগ্রহ।
মুক্ত,মুক্ত,হবে নতুন ফিলিস্তিন
শোধ হবে কি,আল আকসার ঋণ?
সুদান
কালো মানুষের দেশ
সর্বদা দরিদ্রদের বেশ
আবার এখন তীব্র কালো ছায়া
কে রে তুই,এখন দূর হ অপয়া।
বীভৎস দানব এক
দুচোখ মেলে দেখ
যদিও মানুষের বেশ ধরেছে খুব
শয়তানেরা মুনাফেক দেখে চুপ।
পথে ঘাটে শুধু লাশ
এক টুকরো নেই আশ
গরীব মানুষের দেশ বলে নেই মান
যন্ত্রণা দগ্ধ তুমি,বেদনাকাতর সুদান।
__________________________________________
কুরআন, হাদিস, আহলে বাইতের সুর
কুরআন নূরের ঝর্ণা ধারা, আল্লাহর কালাম মধুর,
হাদিস নবীর পথের তারা, জীবনে জাগায় সত্যের সুর।
কিন্তু আহলে বাইত ছাড়া, হায়, পথটা অন্ধকারে ডোবে, ইসলামের গভীর রহস্য তখন, হৃদয়ে অচেনা কুয়াশায় থোবে।
ফাতেমা, আলী, হাসান, হোসেন, জয়নাবের ত্যাগের ঝংকার, কুরআনের আয়াত তাদের জীবনে, হাদিসের প্রাণের আধার। নবীর কোলে জন্ম তাদের, পবিত্র ঘরের আলোর ফুল,
তাদের ছাড়া ইসলামের পথ, অসম্পূর্ণ, ম্লান কুমুদ।
কুরআন বলে, "চলো হে মুমিন, সত্যের পথে হৃদয় জাগাও,” হাদিস বলে, "নবীর সুন্নাহ, জীবনে এনে স্বপ্ন গড়াও।
" আহলে বাইত সেই পথের দীপ, জীবন্ত রূপে আলোর মায়া, তাদের ভালোবাসা ছাড়া, ইসলাম অধরা, হৃদয়ে ছায়া।
ফাতেমার ধৈর্যে শিখি ত্যাগ, অটল সত্যের অমর কথা,
আলীর তরবারি জাগায় হৃদয়ে, হকের জন্য নির্ভীক ব্যথা।
হাসান-হোসেনের শাহাদাতে, ইসলামের জয়ের রাগিনী, জয়নাবের কণ্ঠে শুনি আমরা, সত্যের অমর সুরের ধ্বনি।
কুরআন, হাদিস, আহলে বাইত, তিন মিলে ছন্দের তাল,
একটি ছাড়া পথ অচল, হৃদয়ে জাগে না আলোর মশাল।
ও মুমিন, তুই বুকে ধরো, এই তিনের মধুর মিলন,
আহলে বাইতের ভালোবাসা, ইসলামের প্রাণের কিরণ।
তাই আয়, ছন্দে ছন্দে করি, আহলে বাইতের গুণগান, কুরআন-হাদিসের আলোয় চলি, সত্যের পথে দিই প্রাণ।
তাদের ভালোবাসা হৃদয়ে নিয়ে, ইসলামের সুরে মাতি,
ছন্দে ছন্দে জীবন গড়ি, আলোর পথে হেঁটে যাই।
__________________________________________
ইমাম মাহ্দীর আদর্শ (সনেট)
অন্ধকার ঢাকে যখন বিশ্বাসের জ্যোতি,
রাত্রির মাঝে জাগে এক নীরব আশা।
প্রতিশ্রুত সেই নূর আসিবেন সত্ত্বগতি,
ন্যায়ে ভরবে ধরা, জ্বলবে আলোক ভাষা।
লুকায়ে আছেন তবু নজর রাখেন প্রাণে,
যে হৃদয় চায় পবিত্রতার ছোঁয়া।
তাঁর নামেই জাগে দুনিয়ার প্রতিজনে,
করুণা চায়, চায় ইলাহি আলো রোয়া।
তাঁর তরবারি ন্যায়ের প্রতীক মহীয়ান,
জ্ঞান ও দয়ায় ভরে দিবেন সংসার।
জুলুম মুছে যাবে, উঠবে প্রেমের গান,
মানবতা ফিরবে সত্যের দ্বারে আবার।
হে হৃদয়! প্রস্তুত হও আহ্বানের তরে,
মাহ্দী আসিবেন, জাগবে নূর ঘরে।
Following Shakespearean Sonnets (abab cdcd efef gg )
------ _____------_____------______------______------