আরবি: জিলকাদ, ১৪৪৬ হিজরী
ইংরেজি: মে, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
__________________________________________
সম্পাদক :
মাওলানা কাজিম আলি (আশিক হুসাইন)
সহযোগী সম্পাদক: রাজা আলী
প্রচ্ছদ ভাবনা:
মিনহাজউদ্দিন মন্ডল এবং মুন্তাজির গাজী
অনলাইন সেটিং: মিনহাজউদ্দিন মন্ডল
প্রকাশ:
আল -হুজ্জাত(আঃ) একাডেমী
বকচরা, মিনাখাঁ, উত্তর ২৪ পরগণা
__________________________________________
সূচিপত্র
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
ফিলিস্তিন: মুসলিম উম্মাহর হৃদস্পন্দন
ফিলিস্তিনের মজলুমত্ব ও শিয়া মাযহাবের সমর্থন: কুরআন, হাদীস ও সমসাময়িক ইতিহাসের আলোকে
ইহুদী রাষ্ট্র : নির্মাণের নেপথ্যে
ফিলিস্তিন ও ঈমান
বাইতুল মুকাদ্দাস: মুসলমান দের প্রথম কেবলা
বারুদের দেশে শৈশব হারিয়ে যায়
ফিলিস্তিন সমস্যা:ইমাম মাহদী আঃ এর আবির্ভাবের পটভূমি
✍️ রাজা আলী
ইমাম আঃ এর আবির্ভাব: শান্তির জগৎ (অনুবাদ)
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
শুক্রবারের উষালগ্নে
গাজা
✍️ রাজা আলী
রক্তে লেখা আহ্বান
__________________________________________
__________________________________________
সম্পাদকীয়
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ দয়ার বরকতে আল-হুজ্জাত পত্রিকা (অনলাইন সংস্করণ)-এর যিলকাদ সংখ্যা প্রকাশিত হলো।রাহবারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফিলিস্তিন ইস্যুকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।এই সংখ্যা আমরা নিবেদন করছি ফিলিস্তিনের নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষের স্মৃতির প্রতি, যাঁরা রক্ত দিয়ে লিখছেন প্রতিরোধের ইতিহাস।
ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঈমানি আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এই সংখ্যা তাই একটি উচ্চারণ—আহ্বান ও অনুতাপের, প্রতিবাদ ও প্রত্যাশার।এই সংখ্যায় স্থান পেয়েছে কুরআন-হাদীসের আলোকে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ, মুসলমানদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস, ইমাম মাহদী (আ.)-র আগমনের পটভূমি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রঘোষণা, কবিতা ও সাহিত্যচিন্তার দীপ্ত বার্তা।
আমাদের আশা—পাঠকগণ এই সংখ্যার প্রতিটি প্রবন্ধে খুঁজে পাবেন ঈমানি চেতনার নবজাগরণ, আর অন্তরে অনুভব করবেন নিপীড়িত এক জাতির আর্তনাদ ও অধিকার।
ওয়াস সালাম
মাওলানা কাজিম আলি (আশিক হুসাইন)
সম্পাদক
আল-হুজ্জাত পত্রিকা
__________________________________________------------------------------------------------
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
📃কুরআন ও আহলে বাইত(আঃ) এর বার্তা🧾
📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖📖
ফিলিস্তিন: মুসলিম উম্মাহর হৃদস্পন্দন
✍️ কবির আলী তরফদার কুম্মী।
رسول الله صلى الله عليه وآله قال:
"من لا يهتم بأمر المسلمين فليس منهم."
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
"যে মুসলমানদের বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"
ভূমিকা:
যে ব্যক্তি মুসলমানদের ব্যাপারে চিন্তিত নয়, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়—এই মহান হাদীস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মুসলিম উম্মাহ একটি অদ্বিতীয় দেহের মতো। ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি আমাদের ঈমান, আমাদের ইতিহাস, আমাদের অনুভূতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। আজ যখন সেই ভূমি রক্তে রঞ্জিত, নিপীড়নের যন্ত্রণায় কাঁপছে, তখন এক একটি মুসলিম হৃদয়কে জেগে উঠতে হবে। বুঝতে হবে—কেন ফিলিস্তিন এত গুরুত্বপূর্ণ, কেন কুদস আমাদের হৃদয়ে ও চেতনায় এমন গভীরভাবে গাঁথা।
ফিলিস্তিন কেন মুসলমানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
ফিলিস্তিন হল সভ্যতাগুলোর সংযোগস্থল। ফিলিস্তিন ও বাইতুল মুকাদ্দাস—নবীদের ভূমি, ঐশ্বরিক ধর্মের আবির্ভাব ও প্রসারের স্থান এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা—সর্বদা বিশ্বের প্রধান ধর্মাবলম্বী ও সকল জাতির জন্য গুরুত্ব ও শ্রদ্ধার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। ফিলিস্তিন একটি পবিত্র ভূমি, যা ইসলামধর্ম , খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদিধর্ম—এই তিনটি প্রধান ধর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।
আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন,কেন ফিলিস্তিন আমাদের মুসলমানদের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?অতীতে এমন অনেক ভূমি ছিল এবং এখনও আছে, যা ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ফিলিস্তিনের গুরুত্ব অন্য রকম। ফিলিস্তিনকে জানা ও অধ্যয়ন করা মানে হলো মানবতার উচ্চতর মূল্যবোধকে চিনতে পারা, যা এই ভূমিতে বাস্তবায়িত হয়েছে। ফিলিস্তিন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে আল্লাহর নেক বান্দারা বাস করেছেন বা অতিক্রম করেছেন।
কুদস (জেরুজালেম) ইসলামিক পবিত্রতার অধিকারী, যা মুসলমানদের হৃদয়ে ও স্মৃতিতে গভীরভাবে অঙ্কিত। কুদস তার ধর্মীয় অবস্থানের কারণে, মুসলমানদের প্রথম কিবলা, ইসরা ও মিরাজের ভূমি, মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম শহর, নবুয়ত ও বরকতের ভূমি এবং জিহাদ ও প্রতিরক্ষার স্থান হিসেবে পরিচিত।
সামগ্রিকভাবে, ফিলিস্তিন ও কুদস নিম্নলিখিত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:
১. বাইতুল মুকাদ্দাসের ধর্মীয় মর্যাদা:
বাইতুল মুকাদ্দাস মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের কাছে ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ্ তাআলা কুরআনে এই ভূমিকে পাঁচবার বর্ণনা করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে কুদসের ধর্মীয় মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ।
ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তি নিয়ে মুসলমান, আরব ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তারা সবাই একমত যে—কুদস ইসলামিক, এর পরিচয় রক্ষা করা আবশ্যক এবং ইসরাইলের অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে, যা কুদসকে ইহুদিকরণ, এর ঐতিহাসিক পরিচয় মুছে ফেলা এবং এর আরবি, ইসলামিক ও খ্রিস্টান চিহ্ন ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
২. কুদস মুসলমানদের প্রথম কিবলা:
কুদস মুসলমানদের প্রথম কিবলা, তাই এটি তাদের অনুভূতি, স্মৃতি ও ধর্মীয় চিন্তায় উচ্চ স্থান দখল করে আছে। নবুওয়তের দশম বছর (হিজরতের তিন বছর আগে) থেকে হিজরতের ১৬ মাস পর পর্যন্ত রাসূল (সা.) ও তাঁর সাহাবীগণ কুদসের দিকে ফিরে নামাজ পড়তেন। এরপর আল্লাহ্ কাবা বা মাসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফেরানোর নির্দেশ দেন।
৩. কুদস ইসরা ও মিরাজের ভূমি:
মুসলমানদের চেতনায় কুদসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি রাসূল (সা.)-এর মিরাজের যাত্রার স্থান। আল্লাহ্ চেয়েছিলেন যে রাসূল (সা.)-এর রাত্রিকালীন ভ্রমণ মক্কার মাসজিদুল হারাম থেকে শুরু হয়ে বাইতুল মুকাদ্দাসে শেষ হোক।
ইসরা ও মিরাজের ঘটনায় অনেক রহস্য ও ইঙ্গিত রয়েছে, যা এই পবিত্র স্থানের গুরুত্বকে তুলে ধরে। যে স্থানে জিবরাইল (আ.) বুরাক (এক অদ্ভুত বাহন যা মক্কা থেকে কুদসে নিয়ে গিয়েছিল) বেঁধে রেখেছিলেন। জিবরাইল (আ.) এটিকে পাথরের সাথে বেঁধে রেখেছিলেন, যাতে কুদস থেকে আসমানের দিকে 'সিদরাতুল মুনতাহা' পর্যন্ত যাওয়ার পর ফিরে আসতে পারেন। এই ঘটনার কারণে মুসলমানরা যখন 'পাথর' ও 'হায়াতুল বুরাক' দেখে, তখন এই স্মৃতি তাদের মনে ভেসে ওঠে।
যদি কুদস এত গুরুত্বপূর্ণ না হতো, তাহলে মেরাজ সরাসরি মক্কা থেকে আসমানে হতে পারত, যেমন কুরআন ও হাদীসে এর ইঙ্গিত রয়েছে।
৪. কুদস নবুয়ত ও বরকতের ভূমি:
কুদস ফিলিস্তিনের একটি অংশ নয়, বরং এর উজ্জ্বল নিদর্শন ও মণিমুক্তা। আল্লাহ্ তাআলা এই ভূমিকে পাঁচবার কুরআনে বর্ণনা করেছেন:
- ইসরার আয়াতে, যখন বাইতুল মুকাদ্দাসের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
- ইব্রাহীম (আ.)-এর ঘটনায়।
- মুসা (আ.)-এর ঘটনায়, যখন ফেরাউন ও তার সৈন্যদের ডুবিয়ে দেওয়ার পর বনি ইসরাইলের কথা বলা হয়েছে।
- সুলাইমান (আ.)-এর ঘটনায়, যেখানে আল্লাহ্ তাকে যে রাজত্ব ও ক্ষমতা দিয়েছিলেন, তা বর্ণনা করা হয়েছে।
- সাবা সম্প্রদায়ের ঘটনায়, যেখানে আল্লাহ্ তাদের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।
এই ভূমিগুলো, যেগুলোকে আল্লাহ্ বরকতময় করেছেন, তা হলো শাম ও ফিলিস্তিনের অঞ্চল। অনেক প্রাচীন ও আধুনিক মুফাসসির মনে করেন, সূরা তীন-এর প্রথম আয়াতগুলোতে "তীন ও জাইতুনের শপথ, সিনাই পর্বতের শপথ এবং এই নিরাপদ নগরীর শপথ..."—এখানে তীন ও জাইতুন দ্বারা বাইতুল মুকাদ্দাসকেই বোঝানো হয়েছে, কারণ সেখানে এই ফলগুলো জন্মে।
এই গুরুত্বের কারণেই ইমাম খোমেনী (রহ.) ১৯৭৯ সালের আগস্টে ইরান ও বিশ্বের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়ে রমজানের শেষ শুক্রবারকে "ইয়াওমুল কুদস" (কুদস দিবস) হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি মুসলমানদেরকে এই দিনে ফিলিস্তিনি মুসলমানদের আইনগত অধিকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
উপসংহার:
ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি এবং কুদসের মর্যাদা শুধুই ইতিহাস বা ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব ও সম্মানের প্রতীক। বাইতুল মুকাদ্দাস আমাদের অতীতের গৌরব, বর্তমানের যন্ত্রণা এবং ভবিষ্যতের মুক্তির আশার প্রতিচ্ছবি। ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি আগ্রাসন কেবল একটি ভূখণ্ড দখলের বিষয় নয়, এটি একটি ধর্মীয়, মানবিক এবং সভ্যতাগত অপরাধ।
আজ আমাদের কর্তব্য—এই পবিত্র ভূমির জন্য প্রার্থনা করা, সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা।
কুদস আমাদের ছিল, আছে এবং থাকবে—ইনশাআল্লাহ।
__________________________________________
ফিলিস্তিনের মজলুমত্ব ও শিয়া মাযহাবের সমর্থন: কুরআন, হাদীস ও সমসাময়িক ইতিহাসের আলোকে
✍️ মাওলানা রিপন মন্ডল ইস্পাহানী
সারসংক্ষেপ:
ফিলিস্তিনের জনগণ কয়েক দশকজুড়ে আন্তর্জাতিক জায়োনিস্ট আগ্রাসনের অধীনে সমসাময়িক ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক নিপীড়ন সহ্য করে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, শিয়া মাযহাব, যার শিকড় গভীরভাবে কুরআন ও হাদীসে প্রোথিত; সর্বদা মজলুমদের পক্ষে এবং ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা ইসলামী উৎস, আহলে বাইতের (আ.) জীবনচরিত ও শিয়া আলেমদের অবস্থানের আলোকে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে শিয়াদের বিশ্বাসগত ও বাস্তব সমর্থন বিশ্লেষণ করব।
ভূমিকা: মজলুমত্ব—একটি মানবিক ও ঐশী ইস্যু ।মজলুমত্ব একটি সাধারণ মানবিক ব্যথা, যা জাতি, বর্ণ, ভাষা ও সীমানার ঊর্ধ্বে। যখন এই নিপীড়ন পবিত্র ফিলিস্তিন ভূমির দখল, লক্ষ লক্ষ মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া, ইসলামী পবিত্র স্থান ধ্বংস এবং গণহত্যার রূপ নেয়, তখন নীরবতা অপরাধ। এ প্রেক্ষিতে আহলে বাইতের (আ.) শিক্ষা—"জালিমের শত্রু ও মজলুমের বন্ধু হও"—সমস্ত স্বাধীনতা প্রেমী জাতির অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম অধ্যায়: ফিলিস্তিন দখল থেকে প্রতিরোধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিন ভূমি দখল শুরু হয়। সাত লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি হারায়, শত শত গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়, হাজার হাজার নিরীহ মানুষ শহীদ হন।
সাবরা ও শাতিলা, জেনিন, গাজা সহ বহু গণহত্যা জায়োনিস্টদের নৃশংসতার প্রমাণ।
বায়তুল মুকাদ্দাস, মুসলমানদের প্রথম কিবলা, আজও অপমান ও দখলের শিকার।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনের আলোকে মজলুমের পাশে দাঁড়ানোর ভিত্তি
সূরা নিসা, আয়াত ৭৫:
"তোমরা কেন আল্লাহর পথে এবং নিপীড়িতদের মুক্তির জন্য যুদ্ধ করো না?"
সূরা হজ্জ, আয়াত ৪১:
"যখন আমি তাদেরকে ভূমিতে শক্তি দিই, তখন তারা সালাত কায়েম করে এবং মন্দকে নিষিদ্ধ করে।"
কুরআনের শিক্ষা স্পষ্ট: মজলুমদের পাশে থাকা এবং জালিমদের বিরুদ্ধাচরণ করা ঈমানের আবশ্যক দিক।
তৃতীয় অধ্যায়: আহলে বাইতের (আ.) বাণীতে মজলুমের সমর্থন ও জুলুমের বিরোধিতা
ইমাম আলী (আ.):
"জালিমের বিরুদ্ধে দাঁড়াও, মজলুমের সহায়ক হও" — (নাহজুল বালাগা, পত্র ৪৭)
ইমাম হুসাইন (আ.):
কারবালার মাধ্যমে চিরন্তন জুলুমবিরোধী আদর্শ স্থাপন করেন।
ইমাম সাদিক (আ.):
"যে কেউ একজন জালিমকে সাহায্য করে, আল্লাহ তাকে ঐ জালিমের হাতে শাস্তি দিবেন।"
চতুর্থ অধ্যায়: ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে শিয়া আলেমদের অবস্থান
ইমাম খোমেনী (রহ):
ফিলিস্তিনকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলেছেন।
তিনি আল-কুদস দিবস চালু করেন (রমজানের শেষ শুক্রবার)। এবং বলেন, "ইসরাইলকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে হবে।"
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (দা.জি):
সর্বদা হামাস, ইসলামি জিহাদ, হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য প্রতিরোধ আন্দোলনকে সর্বদা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছন। এবং ঘোষণা করেছেন, "ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনের; ইসরাইল ধ্বংস অনিবার্য।"
আয়াতুল্লাহ সিস্তানি, আয়াতুল্লাহ বেহজত, আয়াতুল্লাহ জাওয়াদি আমলি, আয়াতুল্লাহ নূরী হামেদানী সহ বহু শিয়া মর্জে তাকলিদ ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছেন।
পঞ্চম অধ্যায়: প্রতিরোধে শিয়াদের ভূমিকা
হিজবুল্লাহ (লেবানন): শিয়া ভিত্তিক প্রতিরোধ বাহিনী, ইসরাইলকে একাধিকবার পরাজিত করেছে। এবং আল আকসা অভিযানের পর গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনের সময় গাজার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বছর খানেক ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।এই যুদ্ধে হাসান নাসরুল্লাহ র আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় শোভা পাচ্ছে।
ইরান: একমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্র যা ফিলিস্তিনকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে সমর্থন করে।
জাইনাবিয়ুন ও ফাতেমিয়ুন ব্রিগেড: শিয়া রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা যারা মধ্যপ্রাচ্যে দখলদার ও তাকফিরি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন।
ষষ্ঠ অধ্যায়: আজকের সময়ে শিয়া ও বিশ্ব মানবতার দায়িত্ব
আজ আমাদের দায়িত্ব কেবলমাত্র দোয়া ও স্লোগানে সীমাবদ্ধ নয়:
১.মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনের আওয়াজ তোলা
২.অর্থনৈতিক বয়কট—ইসরাইলি পণ্য পরিহার করা।
৩.বিশ্ববিদ্যালয় ও মসজিদে সচেতনতা ছড়ানো।
৪.রাজনীতি ও বাস্তবিক ময়দানে প্রতিরোধের পাশে থাকা।
উপসংহার:
তাশায়্যু' বা শিয়া মাযহাব কেবল একটি বিশ্বাস নয়; এটি একটি দায়িত্বশীল ন্যায়ভিত্তিক জীবনদর্শন। ফিলিস্তিনের মজলুমত্ব আজ আমাদের ঈমান ও মানবতার পরীক্ষা। ইমাম হুসাইন (আ.) যেমন রক্ত দিয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনই আজ আমাদের উচিত—কলম, শব্দ, সম্পদ ও অবস্থান দিয়ে মজলুম ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানো।"যদি ধর্মে জীবন না থাকে, তাহলে অন্তত একজন মুক্ত মানুষ হয়ে ওঠো!"
— ইমাম হুসাইন (আ.)
__________________________________________
ইহুদী রাষ্ট্র : নির্মাণের নেপথ্যে
✍️ মাওলানা রেজাউল হক কুম্মী
ফিলিস্তিন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন:"সর্বদা ফিলিস্তিনে একটি সত্যবাদী দলের অবস্থান থাকবে ও এক শ্রেনীর মানুষ থাকবে যারা সত্যের জন্য লড়াই করতে থাকবে"।
রাসূলুল্লাহ্ সা্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া আলীহি ওয়া সাল্লামের আর্বিভাব হবার পূর্বে ফিলিস্তিন একটি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ জায়গার নাম ছিল।তাঁর অনেকগুলো কারণ ছিল, সেই সমস্ত কারণের মধ্যে একটি বিশেষ কারণ হলো, বিশিষ্ট নবীগণ ও বিপুল নবীগণেরা ফিলিস্তিনে জন্ম গ্রহণ করেন ও তাঁদের সমাধি স্থানও ফিলিস্তিনে।সেই জন্য ঐ স্থান পাক ও পবিত্র স্থান হিসাবে গণ্য হতো।
ফিলিস্তিনের ইতিহাসের ব্যপারে লিখতে গেলে কয়েক খন্ড বই লিখতে হবে, সেই জন্য এই ছোট্ট লেখাটির মধ্যে শুধূ বর্তমান ফিলিস্তিনের মানচিত্র সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনের স্বল্প কিছু অংশ তুলে ধরছি।পৃথিবীর মানচিত্র দেখলে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডের রেখা খুঁজে পাওয়া যাবে না, বরং ইসরাইলের মানচিত্র রেখা বোল্ড করে লেখা আছে। অথচ এখান থেকে সত্তর আশি বৎসর পূর্বে ইসরাইলের নাম পৃথিবীর মানচিত্র ছিলো না। সুতরাং এটাই হলো ইতিহাসের সব থেকে বড়ো জুলুম ও অত্যাচার। কিন্তু তাঁর থেকেও অতিদুঃখের বিষয় এখনো মুসলিম বিশ্ব ঘুমিয়ে আছে ফিলিস্তিনী মুসলমানদের উপর জুলুম অত্যাচার হয়েও যাচ্ছে, তাঁর পরেও কোন প্রতিবাদ করছে না।
আপনারা হয়তো প্রশ্ন করবেন
ফিলিস্তিনের এই রকম মর্মান্তিক অবস্থা কীভাবে ঘটলো?এর উত্তর খুঁজতে গেলে কিছু ইতিহাসের পাতা উল্টাতে হবে।রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের যুগ থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের অনেক ইতিহাস আছে। কিন্তু সেই ইতিহাস ছেড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে ঘটনা ঘটেছে সেগুলো পড়লে বাস্তবটা জানা যাবে।
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মধ্যে আরব, ইহুদী,খৃষ্টান, মুসলমান ও অন্যান্যরাও বসবাস করতো। কিন্তু কিছু অর্থশালী ও প্রভাবশালী ইহুদী, যারা ইউরোপ মহাদেশ ও অন্যান্য দেশে নির্যাতিত হয়ে ছিলো এবং যারা ফিলিস্তিনের ইহুদী তাঁরা সম্মিলিত ভাবে, ঐ সময়ের প্রভাবশালী দেশ গুলোর নিকট আলাদা একটি রাষ্ট্রের আবেদন করছিল।তারা তাদের জন্য একটি ইহুদী দেশের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আর্জি জানায় ,যাতে যেখানে তারা সুখে শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারে। এই নিয়ে International meeting হলো, সেখানে বিশেষ ভাবে আমেরিকা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স,রাশিয়া, ইতালি ও আরো বিভিন্ন দেশ মিলে ফিলিস্তিনের কিছু অংশকে ইহুদী দেশ ঘোষণা করলেন। কিন্তু মুসলমান দেশগুলো কোনোরূপ প্রতিবাদ করলো না।
তার পর থেকে প্রভাবশালী ও অর্থশালী ইহুদীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ইহুদি দের ফিলিস্তিনে আগমণ ঘটাতে লাগল । তাঁরা আসতে না আসতেই মুসলমানদের জমি জায়গা ঘরবাড়ী বিক্রয় না করলেও জোরপূর্বক ভাবে ও জুলুম- অত্যাচারের দ্বারা মুসলমানদের নিকট থেকে দখল করে নিতে থাকে।সেই ক্ষেত্রে মুসলমানরা অভিযোগ এবং প্রতিবাদ করলে তাঁদেরকে অন্যায় ভাবে জেল-কোট আদালত করে বিভিন্ন ধরণের শাস্তি দেওয়া হতো, এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্যায় ভাবে মুসলমানদের নির্বাসন করা হতো। এ ভাবেই মুসলমানদের জমি জায়গা ইহুদীরা দখল করতে থাকল।এই দখলদারিত্বের ফলেই ফিলিস্তিনের বেশিরভাগ ভূমি আজ ইসরাইল গ্রাস করে নিয়েছে। এভাবেই তৈরি হয়েছে ফিলিস্তিন সংকট।
_________________________________________
ফিলিস্তিন ও ঈমান
✍️ সুজা উদ্দিন মাশহাদী
قال رسول الله صلی الله علیه و آله و سلم "حب الوطن ایمان"
অর্থাৎ জন্মভূমির প্রতি প্রেম ঈমানের অঙ্গ"। এই কথাটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, নিজের দেশকে ভালোবাসা একজন মুসলমানের ঈমান বা বিশ্বাসেরই অংশ। ইসলাম শুধুমাত্র নামায, রোযার ধর্ম নয়, বরং ন্যায়নীতি, দায়িত্ববোধ,দেশপ্রেমও শেখায়।
জন্মভূমির প্রতি প্রেম ইসলামে: ...
পবিত্র কুরআন ও হাদীস থেকে জানা যায়, নবী মুহাম্মদ (সা.) নিজের জন্মভূমি মক্কাকে অনেক ভালোবাসতেন। হিজরতের সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, “হে মক্কা! তুমি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, যদি আমাকে এখান থেকে বের না করে দেওয়া হতো, আমি কখনো তোমাকে ছেড়ে যেতাম না।”
একজন মুসলমানের দায়িত্ব:....
একজন মুসলমানের উচিত তার দেশকে ভালোবাসা, দেশের সেবা করা এবং সৎ নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। দেশকে দুনিয়াবী ও আখিরাতের শান্তির পথ দেখানোও ইসলামি শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।
* মুসলিম উম্মাহর কর্তব্য হলো ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করা, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং তাদের মুক্তির জন্য যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালানো। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সমস্যা নয়, বরং ঈমানের কর্তব্য। সিরাজুল হক বলেন: "ফিলিস্তিনিদের সাফল্য সমগ্র জাতির সাফল্য, ফিলিস্তিনিদের পরাজয় হবে ইহুদি ও ইহুদিবাদীদের সাফল্য।"
ফিলিস্তিন এবং ঈমান : এক ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে:....
ফিলিস্তিনের সমস্যা কেবল একটি ভৌগোলিক বিরোধ নয়, বরং এটি বিশ্বাস, বিশ্বাস এবং আদর্শের সমস্যা। এই বিষয়টি মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক, ধর্মীয় এবং নৈতিক দায়িত্বের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। কুরআন, সুন্নাহ এবং ইসলামী ইতিহাসে ফিলিস্তিনের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং একে সমর্থন করা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।
ইসলামী শিক্ষায় ফিলিস্তিনের গুরুত্ব:.....
ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদকে মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম উপাসনালয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফিলিস্তিন সমস্যা ঈমানের অংশ:....
ইমাম সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেইনী (রহ.) বলেছেন: "ফিলিস্তিনের বিষয়টি আমাদের জন্য কোনও কৌশলগত বিষয় নয়, বরং এটি বিশ্বাসের বিষয়, হৃদয়ের বিষয়, ঈমানের বিষয়।" [১]
একইভাবে, ইমাম সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বলেছেন: "যদি ইসলামী বিশ্বে ঐক্য থাকত, তাহলে মুসলিম উম্মাহ এত সমস্যায় পড়ত না। ফিলিস্তিন ইস্যু ইসলামী বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা।" [২]
ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রাম:.....
ফিলিস্তিনি জনগণ গত কয়েক দশক ধরে তাদের ভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। তাদের সংগ্রাম কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্যও বটে। হাফিজ সাদ হুসেন রিজভী বলেন: "ফিলিস্তিন কেবল ফিলিস্তিনিদের সমস্যা নয়, বরং বিশ্বাস, আদর্শ এবং বিশ্বাসের সমস্যা।"
উপসংহার:....
নিজের দেশকে ভালোবাসা কেবল আবেগ নয়, এটি ঈমানের পরিচয়। তাই আমাদের সবাইকে দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের জন্য সৎভাবে কাজ করতে হবে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।
ফিলিস্তিন ইস্যু মুসলিম উম্মাহর একটি জটিল সমস্যা। এটিকে সমর্থন করা প্রতিটি মুসলমানের ধর্মীয় কর্তব্য। আমাদের প্রার্থনা, আর্থিক সাহায্য এবং রাজনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামকে সমর্থন করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের এই দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন।
__________________________________________
বাইতুল মুকাদ্দাস: মুসলমান দের প্রথম কেবলা
✍️ মজিদুল ইসলাম শাহ
মুসলিম জাতিসমূহের ঐক্যের অর্থ হলো-ইসলামী বিশ্বের সমস্যাগুলোতে একসাথে এগিয়ে আসা এবং পরস্পরকে সহযোগিতা করা।
ফিলিস্তিনের মুক্তি ও দখলদারদের কবল থেকে প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস উদ্ধারের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আজ পুনরায় বিক্ষোভে মুখরিত। তারা মানবাধিকারের দাবিদার ও মানবতাবাদীদের আহ্বান জানাচ্ছে নবীদের পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করার, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের উপর জায়োনিস্টদের বর্বরতা বন্ধ করার। এ প্রেক্ষাপটে প্রতিবছর পালিত বিশ্ব কুদস দিবস সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাকামী জাতিসমূহ ও মুসলিম উম্মাহর আবেগের প্রতীক। এটি সেই দিন, যখন মুসলিম উম্মাহ ও মানবতাবাদী মানুষ জালিম জায়োনিস্ট শাসনের দখলদারিত্ব, অপরাধ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এককণ্ঠে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার ও মুক্তির দাবি তোলে। এটি ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ দিন নয়, বরং বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের ঐতিহাসিক অঙ্গীকার-যারা অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পতাকা উঁচু রেখেছে।
'কুদস দিবস' বাইতুল মুকাদ্দাসের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক দিবস, যা ইসলামী বিশ্বের সাথে সম্পৃক্ত। ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর নির্দেশে এ দিবস পালিত হয়। এটি মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, যেখানে দখলদার জায়োনিস্ট শাসন ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন জানানো হয়।
১৯৪৮ সালে বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ মুসলমানদের প্রথম কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাসকে তার বাসিন্দাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। জায়োনিস্ট শাসনের এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের মুসলমানরা শুরু থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা আজও প্রবলভাবে চলছে। ইসলামী বিপ্লবের সফলতার পর ইমাম খোমেইনি বাইতুল মুকাদ্দাসকে দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করতে রমজানের শেষ শুক্রবারকে 'কুদস দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি তার বার্তায় বলেন, "বিশ্বের সকল মুসলমান ও ইসলামী সরকার এই দখলদার ও তাদের সমর্থকদের মোকাবিলা করবে।" বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতার এই বার্তা নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের হৃদয়ে আশার আলো জ্বালিয়েছিল। ইমাম খোমেইনির মতে, কুদস দিবস হলো বৈশ্বিক দিন-যা মজলুম ও মুস্তাকবিরদের মধ্যে সংঘাতের প্রতীক।
এটি সেই সব জাতির প্রতিরোধের দিন, যারা সুপার পাওয়ারের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও পশ্চিমা শোষণের শিকার। কুদস দিবস প্রতিরোধ অক্ষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ফিলিস্তিনি সংগ্রামের প্রতি সমর্থনকে শক্তিশালী করে। এই দিনে মুজাহিদরা ফিলিস্তিনের প্রতিরক্ষায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এবারের কুদস দিবস এমন এক সময়ে পালিত হয়েছে, যখন দখলদার জায়োনিস্ট সরকার পুনরায় তার বর্বর চেহারা উন্মোচন করেছে-গাজার নিরস্ত্র ও নির্যাতিত মানুষদের বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত হওয়া, ধ্বংসযজ্ঞ ও নিরীহ ফিলিস্তিনি শিশুদের শাহাদতের মর্মান্তিক দৃশ্য আজ বিশ্বের চোখের সামনে। মানবাধিকারের দাবিদার ও শিশুহন্তা আগ্রাসী সরকারের সমর্থকদের জন্য এটি লজ্জার দলিল। কুদস দিবস মূলত দখলদার জায়োনিস্ট শাসন ও আমেরিকার জন্যও একটি বার্তা।
প্রথম কিবলার পবিত্রতা তার নামেই সুস্পষ্ট। এর মর্যাদার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে এটি মুসলিম বিশ্বের প্রথম কিবলা। এই পবিত্র গৃহের দিকে ফিরে প্রথম মুমিনরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় নবীকে মিরাজে নেওয়ার জন্য এই পবিত্র স্থানকেই বেছে নিয়েছিলেন। খোদার বিশেষ ব্যক্তিত্বরা, বিশেষত নবীরা, এই স্থান জিয়ারতকে গৌরবের বিষয় মনে করতেন। বাইতুল মুকাদ্দাস হলো তাওহিদবাদী প্রথম সিজদাকারীদের কেন্দ্র, যাদের সিজদা মানবতাকে হাজারো শিরক থেকে মুক্ত করেছিল। আজ সেই প্রথম কিবলা আমেরিকার পুতুল, ইসলাম বিরোধী, মানবতা বিরোধী, জালিম ও দখলদার ইসরাইলের পদদলিত ।এই ভূমি মুসলিম বিশ্বের কাছে নিজের মুক্তির আকুতি জানাচ্ছে।
১৯৯২ সালে তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী রাবিনের বক্তব্য:
"প্রতিটি ইহুদি, ধার্মিক হোক বা ধর্মনিরপেক্ষ, এই শপথ করে: হে জেরুজালেম! আমি যদি তোমাকে ভুলে যাই, তবে আমার ডান হাত শুকিয়ে যাক।" জায়োনিস্টরা কেবল বাক্যবাগীশতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি (তথাকথিত ইসলামী শাসকদের মতো), বরং এই লক্ষ্যে নৃশংস ও নির্মম পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা সকল প্রকার কৌশল, ধোঁকা ও প্রতারণা প্রয়োগ করেছে-ফিলিস্তিনি মুসলমানদের উচ্ছেদ করে ইহুদিদের ব্যাপকভাবে বসতি স্থাপন করেছে। বারবার শহরের ইসলামী প্রতীক ও নিদর্শন মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে, মসজিদুল আকসায় অগ্নিসংযোগ করেছে, পবিত্র স্থানগুলিকে অপমানিত করেছে।বারবার ফিলিস্তিনি নামাজিদের রক্তে আকসার মেঝে রঞ্জিত করেছে। মসজিদুল আকসার দেয়াল আজও নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের করুণ অবস্থার সাক্ষী। অথচ তথাকথিত মুসলিম সরকারগুলোর নেতারা তাদের বিলাসবহুল প্রাসাদে নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে আছেন।
আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অপমান ও মুসলিম বিশ্বের দুর্বলতা:
আল্লাহর এই সকল নিদর্শন শত্রুদের দখলে থাকা এবং তাদের দৈনিক অপমান মুসলিম উম্মাহর অসহায়ত্ব ও পরাধীনতার জ্বলন্ত প্রমাণ। মসজিদুল আকসা উদ্ধারের বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা মাজহাবের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং ধর্মীয় ও নৈতিকভাবে সকল মুসলমানের দায়িত্ব ছিল—কাবা শরীফের প্রতি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের যে আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা ও আবেগ রয়েছে, সেই একই মর্যাদা প্রথম কিবলার জন্যও নিশ্চিত করা। তাহলে কেন এই প্রশ্নগুলো একজন সচেতন মুসলমানের হৃদয়ে অশান্তি সৃষ্টি করবে না?
- বিশ্বব্যাপী কেন বাইতুল মুকাদ্দাসকে জায়োনিবাদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য কোনো সংগঠিত আন্দোলন গড়ে উঠছে না?
- কেন এই ইস্যুকে বিস্মৃতির গহ্বরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে?
-
বিশ্ব কুদস দিবসের তাৎপর্য:
বিশ্ব কুদস দিবস মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি লক্ষ্য ও স্লোগানের অধীনে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের শক্তিকে একত্রিত করার দিন, সকল মুসলিম দেশ ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির দিন। এটি ইসলামের দিন, মানবতার দিন, বিপ্লবের দিন।
ঐক্যের প্রকৃত অর্থ:
- ঐক্য অর্থ বিভিন্ন ইসলামী মাজহাবের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংঘাত এড়ানো।
- মুসলিম ঐক্য বলতে বোঝায়: একে অপরের অস্তিত্বকে অস্বীকার না করা, শত্রুর পক্ষে সহযোগিতা না করা, এবং পরস্পরের উপর জুলুম করা থেকে বিরত থাকা।
- মুসলিম জাতিসমূহের ঐক্য অর্থ—ইসলামী বিশ্বের সমস্যাগুলোতে একসাথে এগিয়ে আসা, পরস্পরের সম্পদকে শত্রুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা।
ঐক্য বাস্তবায়নের পথ:
১. বহুমুখী সহযোগিতা: বিভিন্ন ইসলামী চিন্তাধারা, যাদের মধ্যে উপ-মাজহাবও রয়েছে, তাদেরকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রকৃত সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রাখতে হবে।
২. মাজহাবিক সান্নিধ্য: বিভিন্ন মাজহাব নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করবে। ফিকহি ও আকিদাগত মিলের জায়গাগুলো চিহ্নিত করবে। আলেমদের ফতোয়া পুনর্বিবেচনা করে সামঞ্জস্য আনা যেতে পারে।
3. মুসলিম শক্তির উৎস: মুসলিম দেশগুলো যদি হাত মিলায়, তবে এমন শক্তি তৈরি হবে যা শত্রুরা মোকাবেলা করতে পারবে না। মতপার্থক্য থাকলেও শত্রুর দোসর না হয়ে যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে ইসলামী বিশ্বের বিজয় অনিবার্য।
চূড়ান্ত বার্তা:
যে সকল জাতি সংগ্রামের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে, তাদেরকে এই পথে অটল থাকতে হবে। আমেরিকা বা তার মতো কোনো শক্তি তখন তাদের উপর জুলুম চালাতে পারবে না। বিজয় হবে তাদের নিয়তি। ইসলামী বিশ্বকে যদি বিজয়ের পথে এগিয়ে যেতে হয়, তবে ঐক্য প্রতিষ্ঠা-এটিই প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
__________________________________________
বারুদের দেশে শৈশব হারিয়ে যায়
✍️ মিনহাজউদ্দিন মন্ডল
"আম্মু, আমি কি আজ রাতে ঘুমাতে পারব?
আমার ছোট ভাইটাকে তো বোমা নিয়ে গেল...
তোমার কোলে এখন আর গন্ধ নেই দুধের,
শুধু আছে বারুদের ঝাঁজ।"
--- এই পঙ্ক্তিগুলো কোনো কবিতা নয়,
এ এক ফিলিস্তিনী শিশুর রক্তমাখা বাস্তবতা।
ভূমিকা
বিশ্ব আজ এক অন্ধকার সময় অতিক্রম করছে,
আর এই আঁধারের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ফিলিস্তিন।
বায়তুল মুকাদ্দাসের পবিত্র ভূমি আজ পরিণত হয়েছে রক্তের নদী, বারুদের গন্ধে ভারী বাতাসে প্রতিনিয়ত হারিয়ে যাচ্ছে শত শত নিরীহ জীবন।
শিশুরা হারাচ্ছে শৈশব, মায়েরা সন্তান, আর প্রতিটি ঘুম ভেঙে যাচ্ছে বোমার বিকট শব্দে।
এই নিষ্ঠুর সময়েই আমাদের অন্তর চেয়ে থাকে সেই প্রতিশ্রুত মহামানবের দিকে—
ইমাম মাহদী (আ.ফা.), যিনি আল্লাহর আদেশে পৃথিবীকে ন্যায়ের আলোয় আলোকিত করবেন।
ফিলিস্তিন: অব্যাহত দুর্দশার করুণ ইতিহাস
ফিলিস্তিনের ট্র্যাজেডি কেবল একটি ভৌগোলিক সংঘর্ষ নয়, এটা এক দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়।
শিশুদের লাশ, বিধ্বস্ত ঘর, রক্তাক্ত হাসপাতাল আর ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ—
এসব যেন আসমানের নিচে ব্যক্ত এবং প্রকম্পিত এক আর্তনাদ।
বিশ্ব যেখানে নির্বিকার দর্শক,
সেখানে ফিলিস্তিনিরা আল্লাহর সামনে হাত তুলে বলে— "হে প্রভু, অন্তত এই রাতটা যেন শান্তিতে কাটে!" কিন্তু আকাশ থেকে নেমে আসে আগুনের বৃষ্টি।
ছোট্ট আয়েশা, রাহিল বা ফাতিমা—
যারা খেলনার বদলে পেয়েছে ধ্বংসস্তূপের মাঝে অনন্ত নীরবতা। তারা কারো কাছে কিছুই চায়নি—
শুধু একটি শান্ত ঘুম, একটি সূর্যভোর।
ইমামে জামান (আ.ফা.): আশার আলো
ইমাম মাহদী (আ.ফা.)—
আল্লাহর সেই প্রতিনিধি, যিনি অবিচারের মূলোৎপাটন করবেন, যিনি পৃথিবীকে ন্যায়ের রাজ্যরূপে গড়ে তুলবেন।
হাদীসের ভাষায়:
“তিনি পৃথিবীকে ন্যায়ে পূর্ণ করবেন, যেভাবে তা জুলুমে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।” — (সহীহ মুসলিম)
ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের সমস্ত নিপীড়িত হৃদয় আজ চেয়ে আছে তাঁর আগমনের দিকে, বিশ্বাস করে— একদিন এই অন্ধকার রাত ভাঙবে,
আর মুক্তির সূর্য উঠবে মাহদী (আ.ফা.)-এর হাতে।
আমাদের গাফিলতি
যখন একটি শিশু তার ভাইকে হারায় বোমার আঘাতে, আর একটি মা নিঃশেষ হৃদয়ে সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে ধরে, তখন যেন গোটা মানবতা কাঁদে। তবু আমাদের অনেকের কাছে তা কেবল সংবাদের শিরোনাম।
রাহিলের রক্ত মাটিতে শুকায়,
আর আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলফি পোস্ট করি। গাজার আকাশে যখন আগুনের ঝড় বয়ে যায়, তখন আমরা আলোকসজ্জায় মগ্ন থাকি।
এই নির্লজ্জ গাফিলতিই আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা।
আমাদের দায়িত্ব
ইমামের আগমনের প্রতীক্ষা শুধু মুখে নয়—
তা হতে হবে কর্মে, হৃদয়ে, চরিত্রে।
আমাদের যা করণীয় :
• ❌ জালিম রাষ্ট্র ও তাদের পণ্য বর্জন
• 💰 নিঃস্বার্থভাবে ফিলিস্তিনিদের সাহায্য
• 📢 জনমত গঠনে সোচ্চার ভূমিকা
• 🤲 শহীদদের জন্য অন্তর থেকে দোয়া
• 🧠 আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতা লালন
• ⏳ ইমামের সৈনিক হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি
উপসংহার
একটি ফিলিস্তিনী শিশু যদি জিজ্ঞেস করে—
"আপনি কী আমাদের পাশে ছিলেন?"
আপনার উত্তর কী হবে?
ইমাম আলী (আ.) বলেছেন—
“অবিচারের বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানেই অত্যাচারীর পক্ষে দাঁড়ানো।”
আমরা কী নীরব থাকব, না কি দাঁড়াবো নিপীড়িতদের পাশে?
আজকের এই অন্ধকার সময়ের শেষে
আমরা আশাবাদী—
আসবেন সেই মাহদী (আ.ফা.),
যিনি মুছে দেবেন জুলুমের প্রতিটি দাগ।
আসুন, তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য
নিজেদের হৃদয় প্রস্তুত করি—
আর ফিলিস্তিনের জন্য প্রার্থনা করি এই অটুট বিশ্বাসে: "ইন্নাল্লাহা মাআস্সাবিরীন।"
(নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।)
ইয়া সাহিবাজ্জামান, আগিসনি!
ইয়া সাহিবাজ্জামান, আদরিকনি!
(হে যুগের ইমাম, আমাদের সাহায্য করুন! হে যুগের ইমাম, আমাদের উদ্ধার করুন!)
__________________________________________
ফিলিস্তিন সমস্যা:ইমাম মাহদী আঃ এর আবির্ভাবের পটভূমি
✍️ রাজা আলী
একবিংশ শতাব্দীর এক ক্রান্তিলগ্ন আমরা অতিবাহিত করছি। জালিম ও জুলুমের একচ্ছত্র দাপাদাপি সময়কে করে তুলেছে বিষাক্ত। অসহায় মানুষের আর্তি ও আর্তনাদ কাঁদাচ্ছে বিবেকী সকল হৃদয়কে। নির্বিচারে হত্যা,রক্ত আর কান্নায় প্রতিটি সকাল বিষন্ন হয়ে উঠছে।মানবতা আজ মুখ লুকিয়েছে।আর হিংস্রতা প্রবল বৃদ্ধি পেয়ে মানব সভ্যতাকে গ্রাস করে চলেছে।
বর্তমান যে পরিস্থিতি আমরা অতিবাহিত করছি,তা কোরান ও হাদিসের সঙ্গে সংঘর্ষিক কোনো বিষয় নয়। বরং কোরান ও হাদিসের ভাষ্যে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথাই ছিল। বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পরিবর্তিত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের জন্য আল্লাহ রব্বুল আলামীন একজন মহামানব, মহাকালের ত্রাণকর্তা কে পাঠাবেন। তিনি আল কোরানে ঘোষণা করেছেন-"অবশ্য ই এই জমিনকে নতুন জীবন দেওয়া হবে ,যখন তার মৃত্যু হয়ে যাবে"। (সুরা হাদীদ,১৭ নং আয়াত)
এই আয়াতটি পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় ,যখন অত্যাচারি দের জুলুমের দ্বারা এই জমিনের মৃত্যু ঘটবে,তখন ই আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর নির্বাচিত এক প্রতিনিধির দ্বারা এই জমিনকে নতুন করে জীবন দান করবেন, আর্থাৎ জমিনের ওপর শান্তি ও সুস্থতা প্রদান করবেন।
ইতিহাসের বহু গভীরে প্রোথিত ফিলিস্তিন সমস্যা। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নিটোল স্বার্থ,আর জায়নবাদী দের সম্প্রসারণ নীতি যখন একত্রে মিশেছে,তখন ই ফিলিস্তিনিরা মাতৃভূমি র অধিকার হারাতে বসেছে।ফলে প্রতিরোধের শক্ত প্রাচীর ই হয়ে ওঠে একমাত্র বেঁচে থাকার উপায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে ইসরাইল ফিলিস্তিনের উপর দীর্ঘদিন ধরে অবিচার ও অত্যাচার করে এসেছে।আর আল আকসা অভিযানের পর প্রায় গত দেড় বছরে ইসরাইল গাজা ভূখণ্ডের উপর যে বোমা ও বারুদের ব্যবহার করেছে,তা অবর্ণনীয়। বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখিত যে, ইসরাইল গাজা ভূখণ্ডে হিরোসিমা বা নাগাসাকির থেকেও কয়েকগুণ বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে।ফলে গাজা মূলত হয়ে উঠেছে বসবাসের অযোগ্য। সীমান্তে খাদ্যের ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও তা গাজা র ক্ষুধা পীড়িত মানুষদের কাছে অনেকটা মরীচিকার মতোই।গাজাবাসী একাধিক বার হয়েছে বাস্তুচ্যুত।নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বলতে কিছুই নেই,যা আছে তা হলো বোমা ও বারুদের গন্ধ এবং অঢেল যন্ত্রণা।রাফাহ সহ বেশিরভাগ গাজা শেষ, ধ্বংস স্তূপ;অধিকাংশ বাড়ি ও বিল্ডিং আজ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ফিলিস্তিনের পবিত্র জমিন এর পরেও কি জীবন্ত আছে?এই জমিন মানুষের আশা-ভরসা ও সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার কি দিশা দেখাতে পারছে? ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমির জীবন-শিরা কি কাঁটা পড়ে নি?
ইতিপূর্বেও অন্তত দুবার জমিনের উপর প্রবল অত্যাচার হয়েছে। জমিনের জীবন কে হত্যা করা হয়েছে। যথা ---
১.যখন জানাবে ইয়াহইয়া নবীকে হত্যা করা হয়,
২.যখন কারবালাতে ৬১ হিজরী তে আলি আসগারকে শহিদ করা হয়।
উল্লেখিত মর্মান্তিক দুটি ঘটনার পরপর ই আমরা আল আকসা অভিযানের পরবর্তী গাজার ধ্বংস যজ্ঞ, বিশেষ করে নারী ও শিশু হত্যার কথা বলতে পারি।এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা কারবালা র ঘটনা পরবর্তী সময়ে সম্ভবত অদ্বিতীয় এবং বিরল।
গাজা ভূমিতে যে অবর্ণনীয় ধ্বংস যজ্ঞ চলছে,তাতে বিবেকী মানুষ শিউরে উঠছে। মানুষের বাসস্থান নেই,খাদ্য নেই, পিতার সম্মুখে সন্তানের মৃত্যু বা সন্তানের সম্মুখে পিতার।আশ্রয় কেন্দ্র, স্কুল বা হসপিটাল কোনো কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না।অথচ তথাকথিত মানবতার ধ্বজাধারী দেশগুলো নিশ্চুপ। বরং তাদের প্রচ্ছন্ন ও প্রকাশ্য মদত ও সহযোগিতায় গাজাবাসী র উপর নিদারুণ এই অত্যাচার নেমে এসেছে।আর হাদিসেও এসেছে "পৃথিবী যখন অন্যায় ও অবিচারে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে,তখনই ইমাম আঃ আর্বিভূত হবেন"। তাই ফিলিস্তিন সমস্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, নিদারুণ অত্যাচারের বহিঃপ্রকাশে তা হাদিসের ভাষ্যকেই সত্যায়িত করে এবং ইমাম মাহদী আঃ এর আবির্ভাবের পটভূমি তৈরি করে
তাঁর আবির্ভাব কে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
__________________________________________
ইমাম আঃ এর আবির্ভাব: শান্তির জগৎ (অনুবাদ)
✍️ মাওলানা কাজিম আলি
পৃথিবীর সমস্ত অন্যায় ও জুলুম একদিন শেষ হবে।যখন জুলুম ও অত্যাচারের সমস্ত কারণ ধ্বংস হয়ে ফিতনা ফাসাদের প্রবাহ শুষ্ক হবে, হত্যা-অত্যাচার-অবিচারের শিকড় কাটা পড়বে, তখন সমগ্র পৃথিবীতে শান্তি ও সুস্থতা বিরাজ করবে।এই এই শান্তি -সুস্থতা ও সুস্থিতির প্রধান কারিগর হলেন ইমাম মাহদী আঃ।তার আবির্ভাব এবং শাসনকাল হলো শান্তি ও স্বস্তি র পর্ব।হজরত ইমাম মোহাম্মাদ বাক্বের (আঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, “ঐ যুগে একজন বুড়ি পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সফর করবে, তাকে কেউ কষ্ট দেবে না”।
(মুনতাখাবুল আছার, পৃঃ ৩৭৯)।
মাহ্দী (আঃ)-এর যুগ সম্পর্কে রাসুলে খোদা (সাঃ) এরশাদ করেছেন: 'মাহ্দীর যুগে
নেয়ামত অধিক হবে, বৃষ্টি বর্ষণের ফলে জমি সবুজ ফসলে পূর্ণ হবে, মানুষের অন্তর হিংসা থেকে মুক্ত হবে, হিংস্র জন্তু-জানোয়ার শান্ত হবে। একজন মহিলা ইরাক ও সিরিয়ার মাঝে সফর করবে, সে তার সমস্ত সাজের গহনা পরিধান করবে; কিন্তু কোন ব্যক্তি তাকে বিঘ্ন ঘটাবে না'। (মোজাল্লে ইনতেজার, সংখ্যা ১৪ পৃ-২০৫)।
আর হজরত আলী (আঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে: মাহ্দী তাঁর প্রতিনিধিদেরকে প্রত্যেক
শহরে পাঠাবেন, যাতে করে সকল মানুষ ইনসাফ ও ন্যায় বিচার পেতে পারে। ঐ সময় হিংস্র জন্তু, নিরীহ ছাগল একই সঙ্গে বিচরণ করবে। শিশুরা 'বিছে'র সঙ্গে খেলা করবে, কুকর্ম ধ্বংস হবে, সুকর্ম তার স্থান নেবে, মদ-সুদ সব শেষ হয়ে যাবে, মানুষ আল্লাহর এবাদাতের দিকে অটল থাকবে এবং ক্রমে দ্বীনের দিকে আরও অগ্রসর হবে। নামাজে জামায়াতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হবে (নামাজিদের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে)। মানুষের বয়স বৃদ্ধি হবে এবং আমানত ফেরত পাবে, গাছ ফলে পরিপূর্ণ থাকবে এবং বরকত অধিক হবে। কুকর্ম ধ্বংস হবে, আর নেক কর্ম বজায় থাকবে। আবোয়েতের কোন শত্রু বাকি থাকবে না। (মোজাল্লে ইনতেজার, সংখ্যা ১৪, পৃ ২০৫)।
এই হল হজরত ইমাম মাহ্দী (আঃ)-এর ন্যায় বিচার ও ইনসাফী শাসনের এক নজির। যদি আমরা নিজেদের চোখের সামনে মেহদী (আঃ)-এর শাসনকে দেখতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্য-কর্তব্য ইমাম জহুরের জন্য বেশি থেকে বেশি দোয়া করা, আর নিজেদের চরিত্রকে সংশোধন করে ইমাম (আঃ)-এর আবির্ভাবের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা।
__________________________________________------------------------------------------------
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
📃 📃 📃 কবিতায় দ্বীনি বার্তা 🧾 🧾 🧾
📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜📜
শুক্রবারের উষালগ্নে
✍️মো: মুন্তাজির হোসেন গাজী
আরিজার পাতা ফুরিয়েছে
আপনার কথা লিখিতে লিখিতে,
অন্বেষণ করিতেছি আপনাকে
আজও অলিতে গলিতে।।
❤️
না জানি কোথায় পড়িয়াছে
হুজ্জাতের পদধূলিকনা,
যদি হইতো নেত্রপাত
চুম্বন করিতাম মাটিখানা।।
❤️
প্রহর গণনা করিতেছি আজও
জ্যোতির্ময় আননকে দেখার,
এই অভিলাষ কবে ঘুচিবে
বেদনাভরা কোমল হৃদয়ের।।
❤️
শুক্রবারে অরুনোদয়ের পৃর্বে
নির্জনে হেঁটেছি আপনাকে খুঁজিতে,
শৈত্য প্রবাহের মধ্যেও থামেনি
বজায় রেখেছি মোর ধারাকে।।
❤️
সচেতন মনের অনুশোচনা
রয়ে যাবে সদা,
বহিঃপ্রকাশ করবেন যে দিন
অপসারিত হবে অনুতাপ সদা।।
__________________________________________
গাজা
✍️ রাজা আলী
গাজায়,
লাশের উপর লাশ
এত করেও সর্বনাশ
হয় না কি আত্মদংশন
এ কেমন দজ্জার্লী শাসন?
গাজায়,
বাড়ির উপর বাড়ি
ভেঙেছো সারি সারি
এখনো কি জাগেনি বোধ
জেনো একদিন শোধ।
গাজা,
আজ মৃতের স্তূপ
পরিজন কাঁদছে খুব
আকাশে,বাতাসে বিষাদ
চোখের জল মানছে না বাঁধ।
গাজা,
দিচ্ছে রক্ত তাজা তাজা
ভিখারী আজ,যারা ছিল রাজা
স্বজন হারানোর বেদনা ও শোক
আবাসিক ভবনের মাঝে মৃত্যুর ঝোঁক।
__________________________________________
রক্তে লেখা আহ্বান
✍️মিনহাজউদ্দিন মন্ডল
ফিলিস্তিনের আকাশে আজ রোদ উঠে না,
ঘুম পায় না পাথরচাপা শিশুরা—
ধুলিমাখা চোখে চেয়ে থাকে তারা,
কে আসবে বাঁচাতে এই হাহাকার ভরা ধরা?
শহীদ হয়ে যায় সকাল, বিকেল, রাত,
বুলেটের নিচে হারিয়ে যায় নাম না-জানা কথকতা।
ছিন্ন বস্ত্রে খেলতে যাওয়া শিশুটি,
হঠাৎই ইতিহাস হয়ে যায়—
কিন্তু কে লিখে তাদের গাঁথা?
ইমামে জামানা! আপনি কোথায়?
এই পৃথিবীর বুক জুড়ে জুলুমের মিছিল,
হৃদয় ক্ষয়ে যায় দোয়া করতে করতে,
কিন্তু আপনার পদধ্বনি এখনো দূরের গান।
যারা জানে না যুদ্ধের মানে,
তাদের রক্তে লেখা হচ্ছে মানচিত্র—
নবজাতকের কান্না যেন আজানের মতো শোনা যায়
ঘরের ছাদের ধ্বংসাবশেষে।
ইয়াযিদের মুখে আজ নব্য মুখোশ,
তারা জাতিসংঘ, মিডিয়া, সভ্যতার নাম নেয়।
কিন্তু মানুষের হাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে
তারা গড়ে তোলে নয়া সভ্যতার প্রাসাদ।
আমরা কাঁদি ইমাম, আপনার প্রতীক্ষায়।
আপনার ধীর পদচিহ্নে জমিনে ফুটবে শান্তি।
আপনার তলোয়ার হবে আলো—
যা গুটিয়ে দেবে নিপীড়কের ছায়া।
আপনার উত্থান হোক আশার অনুরণন,
ফিলিস্তিন হোক গর্বের স্বাধীন দ্যুতি,
শোককে শিরস্ত্রাণ করে দাঁড়িয়ে যাক জাতি,
এই অপেক্ষা হোক শেষ… হে মুক্তির প্রতীক!
------ _____------_____------______------______------